কাশ্মীরি এক ভাইয়ের চিঠি

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
খালাতো বোন আদিবা সুলতানা। আমার বয়স যখন আট কি নয়, তখনই খা'লা-খালু অ'জ্ঞাত মা'ম'লা'য় গ্রে'ফতা'র হন। এখন তাঁরা বেঁচে আছেন না শা'হা'দাত বরণ করেছেন, তা এক আল্লাহ ব্যাতীত কেউ জানেন না।

আদিবা আমার তিন বছরের ছোট। বাবা মা হারা এই মেয়েটির শৈশব কাটে আমাদের সাথেই। আদিবার মতোই আমিও বাবা-মা'র ‘একমাত্র’ সন্তান। আমি ওর বড় ভাই আর ও আমার ছোট বোনের মতোই। আমার বয়স বাড়ে, পর্দা ফরজ হয়, শরীয়তসম্মতভাবে আদিবার সাথে পর্দা করতে থাকি। পড়াশোনার তাগিদে নি'জ নি'বা'স কা'শ্মীর ছেড়ে লা'হোরে অ'বস্থা'ন করি। আমি এখন পরিপূর্ণ আলেম। দীর্ঘ ৬ বছর পর গ্রামমুখী যাত্রা। অন্য সকল তালিবুল ইলমের মতো বছরান্তে বাড়িতে গিয়ে বাবা মা'র মুখ দেখার সৌভাগ্য আমার নেই। মহল্লার আনাচেকানাচে উ*গ্র হি'ন্দুদে'র তা'ণ্ডব। জী'বি'কার তাগিদে লাহোরে থাকি— এটিই আমার কভার হিস্ট্রি।

দীর্ঘদিন পর পরিচিত গ্রামের অপরিচিত চেহারা দেখে বিস্মিত হই, ছলছল চোখে তাকিয়ে থাকি, চোখ ছাপিয়ে কান্না বেরোয়— আমার দাদা,দাদুর কবর কোথায়, এখানে যে আ'স্ত মূ'র্তি দাঁ'ড়িয়ে আছে! কোথায় আমার মস'জিদ! এ যে হি*ন্দু'ত্ব'বাদে'র বিশাল পাঠশালা!

আম্মা-আব্বা ও স্নেহময়ী বোনের উৎকণ্ঠা — আজ আমি বাড়ি ফিরব, রাস্তায় যদি ধরা পড়ি, আর আমার আলেম হওয়ার ব্যাপারটি হি*ন্দু'ত্ব'বা'দী প্র'শাস'ন জানতে পারে, তবে এই জীবন সংক'টা'পন্ন হ'য়ে ওঠবে।

আল্লাহর সাহায্যে নিরাপদে বাড়ি ফিরলাম। চা'পা উৎকণ্ঠায় কাটতে লাগলো প্রতিটি মুহূর্ত। আমি এখন উচ্ছল যৌবনা উদ্দীপ্ত তরুণ। খালাতো বোন আদিবাও বিবাহের উপযুক্ত। পর্দার খাতিরে আমরা একে অন্যের সামনে যাই না, তবে ওর প্রতি একটি চাপা অনুভূতি বিরাজ করে।

একদিন কাকতালীয়ভাবে গায়েবী সাহায্য আসে। মা আমাকে ইশারায় বলেন, তোর বোন যেমন রূপবতী, তোমনি তোর প্রতি কোমল। আমার চাপা আনন্দ ও অনুক্ত বাক্য মা ঠিকই বুঝে নেন। অবশেষে আদিবার ইচ্ছে ও আমার সম্মতিতে বিবাহের আয়োজন করা হয়। সে কী আনন্দময় মুহূর্ত, কী আবেগঘন সময়। আম্মু নিজ হাতে আদিবাকে সাজিয়ে দিলেন। মেহদী রাঙা হাতে আমার নামটিও অঙ্কন করলেন।

আজ আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ দিন। প্রিয়তমার সাথে শৈশবের স্মৃতিচারণ ও দুঃখ-কষ্ট ভাগাভাগির দিন। হৃদয়ের সুপ্ত অভিব্যক্তি প্রকাশ করার দিন।
বাদ আসর বিবাহ সম্পন্ন হলো। আদিবাকে দেখি না ছয় বছর হলো। বিয়ের আগে এক পলক দেখার শরয়ী অনুমতি থাকলেও আমি দেখিনি। কারণ, আমি জানি, আমার আদিবা পরমা সুন্দরী ও পূ'ণ্যব'তী নারী।

এখন রাত, এশার নামাজ পড়ে ঘরে ঢুকব, উপভোগ করব আমার ফুলসজ্জার সুমিষ্ট রজনী। কিন্তু...। হঠাৎই শোনা গেল সাইরেনের আওয়াজ। চতুর্দিকে গগনবিদারী চিৎকার। কিছু বুঝে ওঠার আগেই একদল লোক হামলে পড়লো বিয়ে বাড়িতে। স্বজন সাথীদের মধ্যে যারা পুরুষ ছিল, কালবিলম্ব না করে তাদের হাত পা বেঁ'ধে ফে'লল।

চোখের সামনে গু'লি ক'রে ঝাঁ'ঝরা ক'রে দিলো কয়েক ডজ'ন মানুষ। এমনকি আমার বাবাকেও। এ দৃশ্য ছেলে হয়ে আমি মেনে নিতে পারি নি, তবুও মরা'র ভান করে পড়ে থাকলাম দীর্ঘক্ষণ। প্রচণ্ড ব'ম্বিংয়ে আমি শ'হীদ হয়েছি— এমন ভাবটাই করলাম। আ'বা'ল,বৃ'দ্ধ,ব'ণিতা— হত্যা করা হলো সকলকেই।

এরপর সারিবদ্ধ করা হলো পরম সম্ভ্রা'ন্ত মুসলিম নারীদেরকে। মুখ বেঁ'ধে তু'লে নে'ওয়া হ'লো প্রি'জ'নভ্যা'নে। আমার তখন অ'শ্রু'সি'ক্ত চোখে আল্লাহর সাহায্যের অপেক্ষা করা ছাড়া কোনো গ'ত্য'ন্তর ছি'ল না।

গ্রামের অস'হায় ব'ন্দি মহিলাদের কাতারে আছেন আমার মা, আত্মীয়স্বজন ও লাল ঘোমটা পরিহিতা একজন পরমা সুন্দরী। সে-ই হয়ত আমার স্বপ্নের আদিবা। আমার অদেখা প্রিয়তমা! জানি না ওরা আমার আদিবার সাথে কী আচরণ করেছে। আমার মায়ের সাথে কী অ'ন্যা'য় করেছে, জানি না কোন গহীন অন্ধকারে কা'রাব'ন্দী আ'মার মা ও প্রেম'ময়ী আদিবা।

আমার বয়স এখন পয়ত্রিশ ছুঁই ছুঁই। এখনো অপেক্ষায় আছি আমার মা ফিরে আসবেন, আমার দুনিয়ার জান্নাত হয়ে। অপেক্ষায় আছি সেই প্রিয়তমার জন্য, যে জান্নাতে হুরদের সর্দারনী হবেন। হবেন আমার পরম ভাজন ও একান্ত কেউ। আল্লাহ ও'দেরকে ভা'লো রাখুন। সু'স্থ রাখুন।

এরকম হাজারো মুসলিম বোন উ*গ্র হিনদ্ু রাজা দাহিরের বংশধরদের হাতে বন্দী,ইজ্জত হারাচ্ছেন কিন্তু হায়! আফসোস! আজ একজন মুহাম্মদ বিন কাশিমের বড়ই অভাব!!!!
189 Views
3 Likes
0 Comments
5.0 Rating
Rate this: