সফলতা সবাই চায়। সবাই সফল হতে চায়। সবাই সফল হওয়ার স্বপ্ন দেখে। সবাই কি সফল হয়?
সফলতার জন্য প্রয়োজন পাগল হওয়ার । সফল হওয়ার পাগলামি দরকার । একরকমের পাগলামি আছে যার কারণে সেই মানুষটির কর্মক্ষমতা লোপ পায়। অথর্ব হয়ে পড়ে। বোধশক্তি হারিয়ে যায়। কি করছে, কি করবে সে সম্পর্কে তার কোনো ধারণায় থাকে না। মস্তিষ্কের বিকৃতির কারণে এটা হয়।
অন্য রকমের পাগল হলো যার মধ্যে সফল হওয়ার পাগলামি ঢুকে যায়। এই পাগলামির কারণে মানুষের কর্ম-ক্ষমতা আশ্চর্যজনক ভাবে বহু গুন বৃদ্ধি পায়।সফলতার নেশা এখানে কাজ করে। এটা হচ্ছে সফলতার মূল চাবি। না পাওয়াকে পাওয়ার নেশা যখন তীব্র ভাবে মনে বসে যায় তখন মানুষ সেটাই করে দেখায় যেটা আপাত-দৃষ্টিতে অসম্ভব মনে হতো।
বোধহয়, সব ক্ষেত্রেই এই কথাটি প্রযোজ্য। যার কাজ করার মানসিকতা নায়,কাজের নেশা নায়,যে কাজ করছে বা করতে চায়ছে তার সাথে আন্তরিকতা নাই তাহলে সে কিভাবে সফল হবে?
নিঃসন্দেহে সফলতা কঠোর সাধনার মিষ্টি ফল।
পাঠকবৃন্দ একবার ভেবে দেখুন তো, পৃথিবীর কোনো সিদ্ধিলাভ এমন আছে কি যেটা সাধনা ছাড়া সম্ভব? আশা করি উত্তর আসবে"সম্ভব নয়"।হ্যাঁ, আমার নিজের অভিমতও একই। আপনি সফলতা চান অথচ এটা পাওয়ার জন্য কিছু হারাতে চান না, একটুও কষ্ট করবেন না, মেহনত করবেন না তাহলে কিভাবে পাবেন সফলতা?
সফলতার জন্য দরকার আত্মবিশ্বাস। যার আত্মবিশ্বাস নাই সে যেন অন্ধের মতো দৃষ্টিহীন। জগতের যত জিনিসই সে দেখুক না কেনো নিজের মধ্যেকার সুপার পাওয়ার কে সে দেখতে পায় না। হাজার রকমের আলোর মধ্যেও সে পথ হারা। আত্মবিশ্বাস হলো সেই জ্যোতি যা অগ্রগামী হতে সাহায্য করে। আত্মবিশ্বাস সফলতার প্রাণস্বরূপ। শুধু মাত্র আত্মবিশ্বাসের উপর ভর করে হাজারো বিকলাঙ্গ, অন্ধ, বধির মানুষও জীবনে সফল হয়ে দেখিয়েছেন। বিখ্যাত কবি হোমার, ব্রেইল পদ্ধতির আবিষ্কারক লুই ব্রেইল অন্ধ ছিলেন। অন্তরের আত্মবিশ্বাসের কারণে আজ তারা জগৎ বিখ্যাত। অলিম্পিক, এশিয়াড, কমনওয়েলথ খেলায় অনেক বিকলাঙ্গ, প্রতিবন্ধী প্রতিযোগীকে খেলায় অংশ গ্রহণ করতে দেখা যায়। এমনকি অনেককে মেডেল পেতেও দেখা যায়। এ সব কিছুই আত্মবিশ্বাস ও কঠোর পরিশ্রমের ফল। অনেক দরিদ্র ঘরের ছেলে কঠোর মেহনত ও অধ্যাবসায়ের ফলে ভালো রেজাল্ট করে যা অনেক ধনী ঘরের ছেলেদের পক্ষে অসাধ্য।
সময়ের জ্ঞান যার নাই তার সফল হওয়ার সম্ভাবনা স্বপ্নমাত্র। অলীক স্বপ্নমাত্র। সময়ের সঠিক ব্যবহার সফলতার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সময়ের সঠিক ব্যবহার "জিরো "মানুষ কেউ "হিরো" বানিয়ে দেয়। একজন মানুষ যাকে সুদূর ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে সে কিভাবে সময়ের বেপারে অসচেতন গাফেল থাকতে পারে?
সময়ের বরফের মতো। বরফ যেমন ধীরে ধীরে গলে যায় সময়ও ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়। বিন্দু বিন্দু জলের আকারে গলতে গলতে বিশালকার হিমশৈলও একসময় নিঃশেষ হয়ে যায়। সুতরাং আপনাকে আল্লাহ তায়ালা যে সময় দিয়েছেন সেটা কে আজ এই মুহূর্ত থেকেই সঠিক ভাবে ব্যবহার করতে শুরু করুন।
সময়ের সঠিক ব্যবহারের জন্য দৈনিক রুটিন বানান। অহেতুক কাজ-কর্ম বাদ দিন। মনে করুন আগামী কাল পরীক্ষা, আজকের মধ্যেই সিলেবাসের পড়া শেষ করতে হবে। এভাবে সময়ের ব্যবহার করুন। প্রতিজ্ঞা করুন সময়ের একটা মুহূর্তও যেনো হেলায় নষ্ট না হয়। নিজের লক্ষ্য পূরণের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন, আমাদের পুরো জীবনটা একটা পরীক্ষা। আমাদের কে এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতেই হবে!
এতো কথা বলা হচ্ছে কেন? কারণ আপনাকে আপনার লক্ষ্য পূরণ করতে হবে তাই। জীবনের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থির করুন। আর এটা কে পূরণ করার জন্য নিজের ১০০% ট্যালেন্ট, শক্তি ব্যবহার করুন। যে ব্যক্তির জীবনে কোনো লক্ষ্য নাই সে হলো পাল-ছাড়া, দাঁড়-ছাড়া নৌকা। এরকম জীবন যাপন করবেন না। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করুন। সঠিক কাজের সাথে থাকুন। মনে রাখুন, আপনাকে আপনার লক্ষ্য পূরণ করতেই হবে।
যখন কোনো মানুষ নিজের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য নিজের ১০০% শক্তি লাগিয়ে দেয় তখন দুনিয়ার কোনো শক্তি নেই যেটা তাকে লক্ষ্য পূরণে বাধা দেয়। ইন শা আল্লাহ সে কামিয়াব হবেই যদি আল্লাহ তায়ালা চায়। সামনে চলুন লক্ষ্য পূরণ করুন। পিছনে দেখবেন না। পিছনে শত্রুরা, গীবতকারীরা, সমালোচনাকারীরা সমালোচনার ঝড় তুলেছে। ওদিকে মোটেও তাকাবেন না। সামনে দেখুন। লক্ষ্যকে দেখুন।
আর্থিকসংকট, পারিবারিক সমস্যা, শারীরিক সমস্যা এগুলো আসতেই পারে। ভাই, এগুলো আপনাকে দুর্বল করার জন্য আসবে না। এগুলোকে হাসিমুখে মেনে নিন। আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা করুন। লক্ষ্যে অটল থাকুন। ধর্য্য হারাবেন না। বুদ্ধিমত্তার সাথে দুর্বলতা কাটিয়ে উঠুন। নিজেকে মজবুত করুন। পিছনে দেখবেন না। সামনে দেখুন। ইন শা আল্লাহ সফলতা আপনি পেয়ে যাবেন। সব অবস্থায় আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা করুন। আল্লাহ তায়ালার নাফরমানী অসফলতার সবচেয়ে বড়ো কারণ। আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি লাভ সবচেয়ে বড়ো সফলতা।
আসুন সফল হই
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
359
Views
12
Likes
1
Comments
5.0
Rating