আল্লাহ তায়ালা দ্বীনের হেফাজত কারী।

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
ইসলাম আল্লাহ তায়ালার মনোনীত জীবন ব্যবস্থা। দুনিয়া পূজারীরা এই দ্বীন কে খতম করার কাজে লেগে রয়েছে। কিন্তু তারা ভুলে গেছে যে দ্বীন কে তারা শেষ করতে চাইছে তার রক্ষক স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা।

ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যায়, প্রথমে মক্কার কাফেরেরা দ্বীন কে মিটাতে চেয়েছিলো। আল্লাহ তায়ালা বদরের যুদ্ধে তাদেরকে মুষ্টিমেয় সাহাবীর(রা.)কাছে লজ্জাজনক ভাবে পরাজয় বরণ করান। আরবের অন্যান্য গোত্র গুলো মিলিত হয়ে বার বার মুসলিমদের হারানোর চেষ্টা করে, কিন্তু তারা পারেনি। বরং মক্কা বিজয়ের মাধ্যমে সমগ্র আরব মুসলিমদের অধীনস্ত হয়ে পড়ে। ইহুদীরা চক্রান্ত করে মুসলিমদের বিরুদ্ধে, তাতে এই হয় যে আল্লাহ তায়ালা বেশ কয়েকটি ইহুদি গোত্রকেই নির্মূল করে দেন।


সেই সময়ের সুপার পাওয়ার পারস্য ইসলাম কে মিটিয়ে দিতে চেয়েছিলো। নবীর (সা. )পাঠানো চিঠিকে ছিঁড়ে টুকরো করে ছিলো। মুসলিমদের হাত দিয়ে সেই সুপার পাওয়ার কে আল্লাহ তায়ালা জিরো পাওয়ার করে দেন। উমার (রা )এর খিলাফত কালে সাদ বিন আবি ওক্কাস (রা)এর নেতৃত্বে মুসলিমরা পারস্য সাম্রাজ্যের মূল কে উপড়ে ফেলেছিলো। তাদের বিখ্যাত সব সেনাপতি (রুস্তম,হারমুজান, ইজাজ্ডগীরদ প্রমুখ )এরা কিছুই করতে পারে নি। মুষ্টিমেয় মুসলিমদের সাথে লড়াই করতে গিয়ে লক্ষ লক্ষ সেনা সাথে থাকা সত্ত্বেও তারা অসহায় ভাবে কঁচুকাটা হয়েছে।


রোম ছিল অন্য একটি সুপার পাওয়ার।অর্থ, প্রভাব সব ছিলো তাদের। ইসলাম কে মিটানোর চেষ্টা করে ছিলো। কিন্তু ফলাফল কি হলো একদিকে আমর ইবনুল আস (রা )নেতৃত্বে মুসলিমরা ফিলিস্থিন দখল করে নেই। বায়তুল আকশা, জেরুজালেম সব মুসলিমদের হাতে চলে আসে। রোমানদের সব থেকে ক্ষমতাবান সেনাপতি ছিলো আত্রাবুন। সে নিজে জেরুজালেমের শাসক ছিলো। মুসলিম দের আক্রমণের ফলে আত্রাবুন লেজগুটিয়ে মিশরে পালিয়ে যায়। মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে মিশর থেকেও মহান আল্লাহ তায়ালা খ্রিস্টানদের উৎখাত করে সমগ্র মিশর মুসলিমদের হাতে তুলে দেন।

অন্য দিকে ইসলামের মহান সেনাপতি খালিদ বিন ওয়ালিদ ও আবু উবাইদা (রা )দের নেতৃত্বে সিরিয়া, তুরস্ক সহ এক বিস্তৃত এলাকা বিজয় হয়ে যায়। রোমান সম্রাট হেরাকল স্বয়ং নিজে নেতৃত্বে দিয়ে, কূটনীতির চাল চেলে, সুন্দরী নারীদের ফাঁদ হিসাবে ব্যবহার করেও কোনো লাভ হয় নি। রোমানরা হেরেছে।


কয়েক শতাব্দী পরে সমগ্র ইউরোপ মিলে জেরুজালেম দখল করার চেষ্টা করে। তারা সাময়িক ভাবে সফল হলেও সুলতান সালাহুদ্দীন আয়্যূবি (র ) সমগ্র ইউরোপের খ্রিস্টানদের কুরুসেড যুদ্ধে বার বার পরাজিত করেন এবং জেরুসালেম দখল করে নেন। যা আজ পর্যন্ত মুসলিমদের হাতে।

লাহোরের মূর্তি পূজারী রাজা সিন্ধু প্রদেশে মুহাম্মদ বিন কাসিম কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এলাকা দখলকরার সিদ্ধান্ত নেন। আফগানিস্তান দখল করে মক্কা আক্রমণ করার পরিকল্পনা করে। তারা জানে না আল্লাহ তায়ালা উত্তম পরিকল্পনাকারি।

গাজনীর সুলতান মাহমুদ গাজনাবি (র )এই দুষ্কৃতীর পথ রোধ করেন। আল্লাহর দুশমন পরাজিত হয়ে লজ্জায় জীবিত অবস্থাতেই চিতার আগুনে পুড়ে মারা যায়। তার পর তার ছেলে সকল হিন্দু রাজার মিলিত বাহিনী নিয়ে আক্রমণ করে তাও ব্যর্থ হয়। তারা চেয়ে ছিলো মক্কা ধ্বংস করতে। আল্লাহ তায়ালা তাদের মন্দির গুলো ধ্বংস করে দিলেন। উত্তর ভারতের বেশ খানিকটা,কাশ্মীর সহ এক বিশাল এলাকা মুসলিমরা দখল করে নিলো।


কিছু কাল পরে মঙ্গল বাহিনী ইসলামী খিলাফতের উপর আছড়ে পড়ে। তারা সমরখন্ড, ইস্পাহান, বুখারা, বাগদাদ শহর গুলো প্রায় ধ্বংস করে দিয়ে ছিলো।লাইব্রেরি, মাদ্রাসা, মসজিদ সব শেষ করে দিয়ে ছিলো। তখন মনে হয়ে ছিলো ইসলাম বোধহয় আর থাকবে না। খিলাফতি নিজাম নষ্ট হয়ে গিয়ে ছিলো।কিন্তু না, আল্লাহ তায়ালা যার হেফাজত কারি তাকে কে শেষ করবে?? আল্লাহ তায়ালা মঙ্গলদের মধ্যে থেকেই অনেক শাসক কে হেদায়েত দিলেন। বারকে খান,তৈমুর লং প্রমুখ এদের মন মানসিকতা ইসলাম মুখী হয়ে গেলো। মঙ্গল দের মধ্যেও ইসলাম গ্রহণের আগ্রহ জন্মেছিলো। মঙ্গল শাসকরা ইসলাম কবুল করলে ভক্ষকই রক্ষকে পরিণত হয়।


আল্লাহর দুশমনেরা মনে করে ছিলো এখন মুসলিমদের অভিভাবক কেউ নেই। তারা জানতো না যখন মঙ্গল আক্রমণ হচ্ছে তার তখনই বিশ্বের দুই মহাদেশে দুটি ইসলামী সালতানাতের বীজ বপন হয়ে গেছে। একটি তুরোস্কের উসমানী খিলাফত, অন্যটি দিল্লির সালতানাত। এই দুটি সাম্রাজ্য প্রায় আটশো বছর ধরে গোটা পৃথিবী কে শাসন করেছে, যেখানে শাসন ছিলো না সেখানে প্রভাব ছিলো। উসমানী সুলতানরা রোমের বাইজান্টাইন নামক খ্রিস্টানী সাম্রাজ্যকে উপড়ে ফেলে দিয়েছিলো। সেই সময়ের দামি শহর কুসতুনতুনিয়া(constantinople) দখল করে উসমানী শাসক মোহাম্মদ ফাতেহ। সমগ্র ইউরোপের কুচক্রিরা ভয়ে ঠান্ডা হয়ে থাকতো।

আর ইহুদি জাতি, এরা তো পৃথিবীর নিকৃষ্টতম অভিশপ্ত জাতি। এরা কখনোয় শান্তি তে ছিলো না।এদের অবাধ্যতার জন্য এরা যুগের পর যুগ অপমানিত, বিতাড়িত হয়েই আসছে। আল কুরআন এর মধ্যে এই জাতির অবাধ্যতা ও তার শাস্তির ঘটনা অনেক জায়গায় উল্লেখ আছে।

বানরে পরিণত হওয়া,ফেরায়ুনের অত্যাচার, বুখতে নাসারের অত্যাচার, রোমানদের অত্যাচার, মদিনায় মুসলিমদের হাতে পরাজিত, হিটলার কর্তৃক হত্যা, প্রভৃতি। এরা বার বার নিজেদের ক্রিয়াকলাপের জন্য বিতাড়ি ও অত্যাচারিত হয়েছে।এদের কাজই এ হলো অবাধ্যতা করা ও অরাজকতা সৃষ্টি করা।বর্তমান সময়ে যে পরিস্থিতি তারা তৈরী করেছে তার শাস্তিও শীঘ্রই আসছে। ইন শা আল্লাহ।

ইতিহাসের পাতা থেকে মাত্র কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করা হলো। মুসলিমদের ঈমানী ক্ষমতার কাছে সর্ব যুগে কাফের -মুশরিকরা বার অপমানিত হয়েছে,ব্যর্থ হয়েছে তাদের সকল ছলা-কলা।

উসমানী খিলাফত শেষ হয়ে যাওয়ার পর যেভাবে ইউরোপিও কুচক্রি বাহিনী মাথা চাড়া দিয়েছে, তেমনি দিল্লির মুঘল সালতানাত শেষের পর ভারতীয় উপমহাদেশের মুশরিকরাও ইসলামের বিরুদ্ধে তৎপর হয়েছে। এতদিন এরা ভেজা বিড়াল সেজে ছিলো মুসলিমদের ভয়ে।আজ বিড়াল বাঘ সাজার চেষ্টা করছে।


ইতিহাস থেকে বোঝা যায় বর্তমান সময়ের চলমান অন্ধকার বেশিক্ষণ স্থায়ী হবে না। ইন শা আল্লাহ দিনের সূর্য শীঘ্রই উঠবে।সবাই প্রস্তুত থাকুন।


181 Views
4 Likes
1 Comments
5.0 Rating
Rate this: