অশুভ পুতুল (পাঠ ৩)
শেষ পাঠ: পুতুলের রহস্য উদঘাটন
মিতুর বাবা-মা পুতুলটির অশুভ কার্যকলাপ দেখে চিন্তিত হয়ে পড়লেন। পরের দিন সকালে, তারা স্থির করলেন যে, পুতুলটি নিয়ে শহরের একজন প্রাচীন জিনিসপত্রের বিশেষজ্ঞের কাছে যাবেন। মিতুর মা-বাবা পুতুলটি একটি বাক্সে রেখে বিশেষজ্ঞের দোকানে নিয়ে গেলেন।
বিশেষজ্ঞ, মিস্টার সেন, পুতুলটি দেখে গভীরভাবে চিন্তা করতে লাগলেন। তিনি বললেন, "এটা অনেক পুরনো পুতুল, কিন্তু এর মধ্যে কিছু অদ্ভুত আছে। আমি আমার কিছু প্রাচীন নথি দেখে আসছি।"
মিস্টার সেন তার দোকানের ভেতরে গিয়ে কিছু পুরনো বইপত্র এবং নথি নিয়ে এলেন। তিনি পুতুলটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে বললেন, "এই পুতুলটি একটি পুরনো কিংবদন্তির সাথে জড়িত। এটি এক সময় একটি শিশুর ছিল, যার নাম ছিল আনামিকা। আনামিকা দুর্ঘটনাবশত মারা যায় এবং তার আত্মা এই পুতুলটির মধ্যে বন্দী হয়। তাই পুতুলটির মধ্যে একটি অশুভ শক্তি কাজ করছে।"
মিতুর মা-বাবা আতঙ্কিত হয়ে গেলেন। তারা জিজ্ঞাসা করলেন, "এখন আমরা কী করব? কীভাবে এই পুতুলের অশুভ শক্তি থেকে মুক্তি পাবো?"
মিস্টার সেন বললেন, "এই পুতুলটির আত্মাকে মুক্ত করতে হবে। এর জন্য আমাদের একটি বিশেষ রীতিনীতি পালন করতে হবে। আপনাদের সাহায্য করতে হবে।"
রাত হল। মিস্টার সেন মিতুর বাড়িতে এলেন। তিনি একটি ছোট্ট পূজা এবং বিশেষ মন্ত্রোচ্চারণের আয়োজন করলেন। মিতু এবং তার মা-বাবা সেই পূজায় অংশ নিলেন। মন্ত্রোচ্চারণ চলতে লাগল এবং পুতুলটির মুখের অদ্ভুত হাসি ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে যেতে লাগল।
শেষে, মিস্টার সেন বললেন, "আনামিকার আত্মা এখন মুক্ত। এই পুতুলটি আর কোনো অশুভ শক্তি বহন করবে না।"
মিতু এবং তার পরিবার স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। পুতুলটি এখন শুধুই একটি পুতুল, কোনো অশুভ শক্তি নেই। মিতু আবার তার পুতুলটি নিয়ে খেলা করতে শুরু করল, তবে এবার কোনো ভয় ছাড়া।
মিতুর মা-বাবা মিস্টার সেনকে ধন্যবাদ জানালেন এবং মিতু হাসিমুখে বলল, "ধন্যবাদ, মিস্টার সেন। এখন আমি নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারব।"
গল্পের শেষ। মিতু এবং তার পরিবার আবার সুখী ও নির্ভয় জীবনযাপন করতে লাগল। অশুভ পুতুলের গল্পটা তাদের জীবনে একটি কল্পকাহিনি হয়ে রইল।
568
Views
15
Likes
3
Comments
4.0
Rating

সকল মন্তব্যগুলো (3)
Amazing Erokom rohossomoi and voyanok golpo amr onk vlo lagee❤❤❤
golpota khubi bhalo aro amon golpo likhe🥰🥰🥰🥰🥰
American tell me