আদমখোর !

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
আমরা অনেকেই হয়তো অনেকের কাছ থেকে আদমখোরের কথা শুনেছি। আদমখোর হচ্ছে এমন এক জিনিস যা বিভিন্ন কবরস্থান, লাশ ঘর থেকে মৃত মানুষের মাংস, কলিজা খেয়ে বেঁচে থাকে। আমরা জানি যে, শহরাঞ্চলের তুলনায় সাধারনত গ্রামাঞ্চলের নিরিবিলি পরিবেশে অলৌকিক ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে থাকে। শহরে যারা বাস করে তাদের হয়তো এটা বিশ্বাস নাও হতে পারে। কিন্তু যারা গ্রামে থাকে তাদের কাছে এইসব ঘটনা নতুন কিছু না।

এই ঘটনাটি ঘটে চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তরে কোন একটি গ্রামের রাস্তায় ।
তখন রাতপ্রায় ২ টা বাজে । এই ঘটনাটির স্বীকার একজন সিএনজি চালক । তার নাম মোঃ রফিকুল ইসলাম। রফিক তখন তার সিএনজি নিয়ে বাসায় ফিরছিল । সে হঠাৎ দূর থেকে দেখতে পেলো দুইজন মধ্যবয়সী হুজুর তাকে সিএনজি থামানোর জন্য অনুরোধ করছে । তা দেখে সে থামল এবং একজন হুজুর তার সাথে কথা বললো ।

হুজুরঃ ভাই আমরা খুব বিপদে পড়েছি ।
রফিকঃ আপনাদের কি হয়েছে জানতে পারি ?
হুজুরঃ সামনে আমাদের এক বন্ধু একটি লাশ নিয়ে দাড়িয়ে আছে । ওই লাশটাকে নিয়ে আমাদের সামনের গ্রামে যেতে হবে । তুমি কি আমাদের পৌঁছে দিতে পারবে?

রফিক কিছুক্ষণ ভাবলো । তার মাঝে উনাদের জন্য দয়া হলো, সে বললো ।

রফিকঃ আমি আপনাদের পৌঁছে দিব ।
হুজুরঃ ধন্যবাদ তোমাকে ।

এটা বলে দুইজন সি.এন.জি.তে উঠে পড়লো । কিছু দূরে যেতেই রফিক দেখলো আরেকজন হুজুর লাশ নিয়ে দাড়িয়ে আছে । লাশটি কাপড় দিয়ে প্যাচানো । রফিক উনার সামনে এসে সি.এন.জি. থামালো । এরপর দুই হুজুর নামলো উনারা তিনজন মিলে লাশটিকে নিয়ে উঠলো । তারপর তারা রফিককে সি.এন.জি. চালাতে বললো । আর একজন হুজুর ওর সাথে কথা বলতে থাকলো ।

হুজ়ুরঃ সামনের গ্রামে যেতে কতক্ষন লাগবে ?
রফিকঃ প্রায় ৪০ মিনিট ।
হুজুরঃ তুমি পেছনের দিকে চাইবে না । লাশের অবস্থা বেশি ভালো না । দেখলে ভয় পাবে ।
রফিকঃ আচ্ছা হুজুর ।

তারপর রফিক সি.এন.জি. চালাতে শুরু করলো । কিন্তু সে লাশ দেখার আকর্ষণ অনুভব করলো কিন্তু সে সাহস পেলো না । এর ৫ থেকে ৬ মিনিট পর সে এক অদ্ভুত বাজে শব্দ শুনতে পারলো । এক অজানা ভয় তাকে গ্রাস করলো । সে তার মনের ভয় দূর করার জন্য সামনের লুকিং গ্লাস দিয়ে পেছনের দিকে চইলো । চেয়ে যা দেখতে পারলো যা সে কেনো, আমরা কেউ কোনোদিন ভাবতে পারি না । সে দেখলো ওই তিন হুজুর লাশটিকে ছিড়ে ছিড়ে শকুনের মত খাচ্ছে। কেউ কলিজা, তো কেউ বুকের রক্ত পান করছে। তা দেখে সে চিৎকার দিয়ে অজ্ঞান হয়ে গেল।

যখন তার জ্ঞান ফিরলো তখনসে হাসপাতালে ভর্তি। তার সারা শরীরে ব্যান্ডেজ । তাকে সকালে রাস্তার পাশে একটি খাল থেকে উদ্ধার করা হয় । এখন সে সুস্থ আছে । কিন্তু ওইদিনের ঘটনার পর থেকে আজও সে সন্ধ্যারপর আর সিএনজি নিয়ে বের হয় না । তাকে আজও ওইদিনের ঘটনা তাড়া দিয়ে বেড়ায় ।

{ বিঃ দ্রঃ- ঘটনাটি আমার এক বন্ধুর কাছ থেকে শুনেছি , গল্পটা সত্যতা কতটুকু সেটা জানিনা তবে এতটুকু শুনেছিলাম যে ওই রাস্তায় মাঝেমাঝে এরকম ভুতুড়ে কাহিনী হতো। }
438 Views
6 Likes
3 Comments
4.4 Rating
Rate this: