ঈদের দিন ছিল। শহরের কোলাহল, রাস্তার উৎসবমুখর পরিবেশ, আর চারিদিকে মানুষদের আনন্দ-উল্লাস সবই মিলেমিশে ঈদের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলেছিল। অনিয়া তার বয়ফ্রেন্ড পলাশের বাড়িতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তার মা-বাবাকে ঈদের মাংস উপহার দেওয়ার জন্য। পলাশ তাকে একটি সুন্দর সুতির শাড়ি দিয়েছিল ঈদের জন্য। সে সেই শাড়িটি পড়েই পলাশের বাড়িতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল।
মাংসের ব্যাগ হাতে নিয়ে অনিয়া যখন পলাশের বাড়িতে পৌঁছাল, পলাশের বাবা দরজা খুললেন। অনিয়া মৃদু হেসে বলল, "আসসালামু আলাইকুম, আঙ্কেল! ঈদের মাংস নিয়ে এসেছি।" পলাশের বাবা হাসিমুখে বললেন, "ওয়ালাইকুম আসসালাম, মা। যাও, বাড়ির ভিতরে যাও।"
অনিয়া কাচুমাচু হয়ে বাড়ির ভিতরে ঢুকে দেখল, পলাশের মা রান্নাঘরে ব্যস্ত। মাংসের ব্যাগ হাতে নিয়ে সে গিয়ে বলল, "আন্টি, এই নিন ঈদের মাংস।" আন্টি তার দিকে তাকিয়ে বললেন, "কোন বাসায় কাজ করো? এমন শাড়িতো আমরাই যাকাত দিয়েছিলাম!"
অনিয়া বুঝতে পারছিল না কী বলবে। হঠাৎই পলাশের মা বললেন, "যেহেতু এসেছো, গরুর বুড়িটা পরিষ্কার করে দিয়ে যাও।" অনিয়া আরও বেশি বিব্রত হয়ে গেল, কিন্তু কিছু না বলে কাজে লেগে গেল। সে গরুর মাংস পরিষ্কার করতে শুরু করল।
পলাশ যখন বাসায় ফিরল, তার মাকে অনিয়ার কাজ করতে দেখে অবাক হলো। সে দৌড়ে গিয়ে বলল, "মা, তুমি কী করছো? অনিয়া আমার বন্ধু, ও কাজ করতে আসেনি। ও ঈদের মাংস দিতে এসেছে।" পলাশের মা হতবাক হয়ে গেল। "কিন্তু ওর শাড়ি তো আমরাই যাকাত দিয়েছিলাম!" পলাশ তখন বলল, "মা, এই শাড়ি আমি অনিয়াকে উপহার দিয়েছি ঈদের জন্য।"
পলাশের মা-বাবা লজ্জিত হয়ে গেলেন। তারা বুঝতে পারলেন যে তারা ভুল করেছেন। তারা অনিয়ার কাছে ক্ষমা চাইলেন। "মা, আমরা তোমাকে ভুল বুঝেছি। আমাদের ক্ষমা করে দাও," বললেন পলাশের বাবা।
অনিয়া হাসিমুখে বলল, "কোনো সমস্যা নেই আঙ্কেল, আন্টি। আমি বুঝতে পারি, ঈদের সময় অনেক ভুল বোঝাবুঝি হয়।"
সবাই একসাথে বসে ঈদের মাংস খেতে লাগল। অনিয়া বুঝতে পারল যে, ভালোবাসা আর সম্মানের মধ্যে সবকিছু মিটমাট হয়ে যায়। পলাশের মা-বাবাও অনিয়াকে মেয়ে হিসেবে গ্রহণ করলেন।
সেই ঈদটা অনিয়ার জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকল। কারণ, সে শুধু পলাশের ভালোবাসাই পেল না, তার মা-বাবার ভালোবাসাও পেল। ঈদের প্রকৃত মানে যে ভালোবাসা আর সমঝোতা, সেটাই প্রমাণিত হলো সবার কাছে।
ঈদের সেলামি
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
261
Views
11
Likes
1
Comments
4.5
Rating