স্বপ্নের জগতে প্রেম (পার্ট ৩)

পলাশ
পলাশ
লেখক

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
স্বপ্নের জগতে প্রেম (পার্ট ৩)
লেখক পলাশ

খোঁজের পথে

ডায়েরিটি হাতে নিয়ে রেহান প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে পড়ে। অদিতির অস্তিত্ব খুঁজে বের করতেই হবে। ডায়েরির পাতাগুলো গভীরভাবে পড়তে পড়তে সে উপলব্ধি করে যে, অদিতি হয়তো এই শহরেই কোথাও রয়েছে, হয়তো খুব কাছাকাছি।

রেহান ডায়েরির তথ্যগুলো মিলিয়ে মিলিয়ে শহরের বিভিন্ন স্থানে খোঁজ শুরু করে। প্রতিদিন সে নতুন নতুন স্থানে যায়, মানুষের সাথে কথা বলে, অদিতির ছবি বর্ণনা করে। কিছু কিছু মানুষ অদিতির নাম শুনেছে, কিন্তু কেউই ঠিক জানে না কোথায় সে থাকতে পারে।

একদিন, একটি পুরনো ক্যাফেতে রেহান বসে ছিল। ক্যাফের দেয়ালে এক পুরনো পেইন্টিং টাঙানো ছিল, যা দেখে রেহান থমকে যায়। পেইন্টিংয়ে অদিতির মতো একজন মেয়ের ছবি আঁকা ছিল। সে ক্যাফের মালিকের কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করে, "এই ছবিটি কার?"

ক্যাফের মালিক বলল, "এই ছবিটি এক স্থানীয় চিত্রশিল্পীর আঁকা। তিনি এখানে কিছুদিন আগে এসেছিলেন। তার নামও অদিতি। কিন্তু তিনি এখন কোথায় আছেন, তা আমি জানি না।"

রেহান হতাশ হলেও নতুন উৎসাহ পায়। ক্যাফের মালিক তাকে জানায় যে, অদিতি মাঝে মাঝে এই ক্যাফেতে আসতেন এবং তার কিছু পেইন্টিং বিক্রি করতেন। রেহান বুঝতে পারে, অদিতি খুব কাছেই কোথাও রয়েছে।

রেহান এবার সেই চিত্রশিল্পীর খোঁজে নেমে পড়ে। সে শহরের বিভিন্ন আর্ট গ্যালারি এবং প্রদর্শনীতে যায়, অদিতির ছবি এবং তার আঁকা পেইন্টিং খোঁজার জন্য। অবশেষে, এক ছোট্ট আর্ট গ্যালারিতে সে অদিতির একটি পেইন্টিং দেখতে পায়। গ্যালারির মালিক তাকে জানায় যে, অদিতি মাঝে মাঝে এখানে আসেন, কিন্তু তিনি কোথায় থাকেন, তা কেউ জানে না।

রেহান হতাশা সত্ত্বেও হার মানে না। সে প্রতিদিন গ্যালারির আশেপাশে ঘুরে বেড়ায়, অদিতির আসার অপেক্ষায়। একদিন, গ্যালারির বাইরে বসে থাকা অবস্থায়, রেহান হঠাৎ অদিতির মুখোমুখি হয়।

অদিতি তাকে দেখে অবাক হয়, "তুমি রেহান, তাই না?"

রেহানের হৃদয় যেন এক মুহূর্তে থেমে যায়। "হ্যাঁ, আমি রেহান। তুমি কি জানো, আমি কতদিন ধরে তোমার খোঁজ করছি?"

অদিতি মৃদু হেসে বলে, "আমি জানতাম আমাদের আবার দেখা হবে। স্বপ্নে যেমন আমরা একে অপরের সাথে সংযুক্ত ছিলাম, বাস্তবেও তেমনই সংযোগ ছিল আমাদের মধ্যে।"

রেহান এবং অদিতি পরস্পরের দিকে তাকিয়ে থাকে, তাদের মধ্যে অদ্ভুত এক অনুভূতি প্রবাহিত হয়। রেহান অবশেষে বুঝতে পারে, স্বপ্ন এবং বাস্তবতার মধ্যে যে সেতু ছিল, তা কেবলমাত্র তাদের আত্মার সংযোগের জন্য সম্ভব হয়েছে।

রেহান অদিতির দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়, "চল, আমাদের গল্পের নতুন অধ্যায় শুরু করি।"

অদিতি তার হাত ধরে, "হ্যাঁ, চল। আমাদের গল্প এখন থেকে বাস্তবতার পথে এগিয়ে যাবে।"

তারা দুজন হাতে হাত রেখে ক্যাফের বাইরে পা বাড়ায়, এক নতুন দিনের অপেক্ষায়, যেখানে তাদের স্বপ্ন এবং বাস্তবতার মেলবন্ধন ঘটেছে।
296 Views
16 Likes
0 Comments
5.0 Rating
Rate this: