অদৃশ্য বোঝা

পলাশ
পলাশ
লেখক

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
পলাশ ছোটবেলা থেকেই পরিবারের মুখের হাসি ছিল। সে ছিল মায়ের একমাত্র আশার আলো আর বাবার গর্ব। তার হাসিখুশি মুখ আর সদা সাহায্যকারী মনোভাব তাকে সকলের প্রিয় করে তুলেছিল। কিন্তু কেউ জানতো না, এই মুখের পেছনে কতটা কষ্ট লুকিয়ে আছে।

পলাশের বাবা ছিলেন একজন দিনমজুর। প্রতিদিন ভোর থেকে রাত অবধি কঠোর পরিশ্রম করে সংসার চালাতেন। মা গৃহিণী হলেও মাঝেমধ্যে বাড়িতে সেলাই কাজ করতেন। পলাশের ছোট্ট দুই বোনও ছিল। তাদের পড়াশোনা এবং খরচের দায়িত্ব একাই নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিল পলাশ।

একদিন, হঠাৎ পলাশের বাবা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লেন। পরিবারের সকল জমানো টাকা দিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলো। বাবার চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে পরিবারের হাতে কিছুই রইলো না। সেই থেকে পলাশের জীবনের রঙ বদলে গেল।

পলাশ তার কলেজের পড়াশোনা বাদ দিয়ে একটি চা দোকানে কাজ শুরু করল। ভোরে উঠে দোকানে কাজ করে সারাদিনের আয় নিয়ে বাড়ি ফিরত। তার মনের মধ্যে একটা অদৃশ্য বোঝা ক্রমশ ভারী হয়ে উঠছিল। মা প্রতিদিন রাতে চোখের জল ফেলে বলতেন, "পলাশ, তুমি এত কষ্ট করো কেন? আমি তোমার কষ্ট সহ্য করতে পারছি না।" কিন্তু পলাশ সব সময় মায়ের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করত।

একদিন, প্রচণ্ড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পলাশ বাড়ি ফিরল। তার শরীর দুর্বল, কিন্তু মনের শক্তি ছিল দৃঢ়। মা তার পাশে বসে কান্নাকাটি করছিলেন। পলাশ মায়ের হাত ধরে বলল, "মা, তুমি কেঁদো না। আমি ঠিক হয়ে যাবো।"

কিন্তু পলাশের শরীর ধীরে ধীরে খারাপ হতে লাগল। একদিন, গভীর রাতে, পলাশ মায়ের কোলেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করল। তার চোখে ছিল শান্তির ছায়া। মায়ের মুখে করুণ চিৎকার ধ্বনিত হলো, "পলাশ, তুই আমাকে এভাবে ফেলে চলে যেতে পারিস না!"

পলাশের মৃত্যুতে পুরো পরিবার শোকে ভেঙে পড়ল। গ্রামের মানুষও স্তব্ধ হয়ে গেল। কেউ বুঝতে পারল না, পলাশের মতো হাসিখুশি ছেলেটির মধ্যে এত কষ্ট কীভাবে লুকিয়ে ছিল।

পলাশের কষ্ট কেউ দেখতে পায়নি, কেউ বোঝেনি। তার অদৃশ্য বোঝা সে নিজেই বহন করেছিল, সবার সুখের জন্য। পলাশের এই আত্মত্যাগের কাহিনী যেন সকলের হৃদয়ে গভীর কষ্টের স্রোত বইয়ে দিয়েছিল।
258 Views
8 Likes
0 Comments
4.8 Rating
Rate this: