অধ্যায় ৩: বন্ধুত্বের পরীক্ষা
অধ্যায় ৩: বন্ধুত্বের পরীক্ষা
লেখক পলাশ
পলাশ আর মীরার বন্ধুত্ব দিনে দিনে গভীর হতে লাগল। তাদের একসাথে পড়াশোনা করা, ক্যাম্পাসে ঘুরাঘুরি করা, আর একে অপরের পাশে থাকা তাদের বন্ধনকে আরও মজবুত করল। মীরা পলাশকে তার স্বপ্ন পূরণে অনুপ্রাণিত করত, আর পলাশ মীরাকে পড়াশোনায় সাহায্য করত।
একদিন পলাশ ও মীরা ক্যান্টিনে বসে চা খাচ্ছিল। হঠাৎ পলাশের ফোন বেজে উঠল। স্ক্রিনে রাতুলের নাম দেখে পলাশের মুখে হাসি ফুটল।
"কেমন আছিস রে?" পলাশ জিজ্ঞাসা করল।
"ভাল আছি। তুই কেমন আছিস? পরীক্ষা কেমন হলো?" রাতুল জানতে চাইল।
"পরীক্ষা ভালই হয়েছে। কিন্তু তোকে খুব মিস করছি," পলাশ বলল।
"আমিও তোকে মিস করছি। তুই কবে আসছিস গ্রামে?" রাতুল জিজ্ঞাসা করল।
"এই সেমিস্টার শেষে একটা ছুটি পাব। তখন নিশ্চয় আসব," পলাশ বলল।
"অপেক্ষায় রইলাম," রাতুল বলল।
ফোন রাখার পর মীরা জানতে চাইল, "ও কে ছিল?"
"আমার ছোটবেলার বন্ধু রাতুল। সে গ্রামে আছে, আমাদের পরিবারের ব্যবসা সামলাচ্ছে," পলাশ বলল।
মীরার চোখে একটি কৌতূহল জেগে উঠল। "তুমি তার সাথে কেমন করে এতদিন যোগাযোগ রাখো?"
"আমরা ফোনে কথা বলি, মাঝে মাঝে মেসেজ করি। তবে সত্যি বলতে, ওকে খুব মিস করি," পলাশ বলল।
সেমিস্টার শেষে পলাশ গ্রামে ফিরে গেল। তাকে দেখে রাতুলের মুখে হাসি ফুটল। দুই বন্ধু আবার একসাথে সময় কাটাতে লাগল। পলাশের কাছে রাতুল তার ব্যবসার নতুন পরিকল্পনার কথা শোনাল। পলাশও তার বিশ্ববিদ্যালয়ের গল্প শোনাল।
একদিন, রাতে তারা গ্রামের পুকুরপাড়ে বসে ছিল। চাঁদের আলোয় পুকুরের পানিতে এক অন্যরকম সৌন্দর্য ফুটে উঠেছিল।
"তোর ব্যবসার উন্নতি দেখে খুব খুশি লাগছে," পলাশ বলল।
"তোর পড়াশোনার উন্নতিও খুব ভাল হচ্ছে," রাতুল বলল। "আমরা আমাদের স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যাচ্ছি।"
তাদের কথা চলতে থাকল গভীর রাত পর্যন্ত। পলাশ আর রাতুলের মধ্যে সেই পুরনো বন্ধুত্বের অনুভূতি আবার জেগে উঠল।
কিন্তু তাদের জীবনে একটি বড় পরিবর্তন আসতে চলেছিল। পলাশের বাবা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লেন। পলাশ গ্রামে ফিরে এসে বাবার পাশে থাকতে শুরু করল। তার পড়াশোনার মাঝে এই ঘটনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াল।
পলাশের বাবা তাকে বললেন, "তুই আবার শহরে ফিরে যা। তোর পড়াশোনা থামিয়ে দেবি না। আমি ঠিক হয়ে যাব।"
কিন্তু পলাশের মন ভাঙল না। সে বাবার পাশে থেকে তার দেখাশোনা করল। রাতুলও এই সময়ে পলাশকে সাহায্য করল। সে পলাশের পরিবারের প্রতি তার দায়িত্ববোধ দেখাল।
মীরা যখন এই খবর শুনল, সে পলাশকে ফোন করল। "তোমার বাবার কী অবস্থা?" মীরা জানতে চাইল।
"কিছুটা ভাল আছে, তবে এখনও পুরোপুরি সুস্থ হয়নি," পলাশ বলল।
"তুমি যদি কোন সাহায্য চাও, আমাকে বলবে," মীরা বলল।
পলাশের জীবনে এই কঠিন সময়ে সে তার বন্ধুদের ভালবাসা আর সহানুভূতি পেল। পলাশের বাবা ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠলেন, আর পলাশ আবার শহরে ফিরে গিয়ে পড়াশোনা শুরু করল।
তবে এই ঘটনাগুলি তাদের বন্ধুত্বকে আরও মজবুত করে তুলল। পলাশ, রাতুল, আর মীরা একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে জীবনের চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবেলা করতে শিখল।
কিন্তু তাদের জীবনে আরও নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ আসবে। কীভাবে তারা এগুলিকে সামলাবে? কীভাবে তাদের স্বপ্ন পূরণ হবে? জানতে হলে পরবর্তী অধ্যায় পড়তে হবে।
64
Views
3
Likes
0
Comments
5.0
Rating

কোন মন্তব্য নেই