-আমাকে সারফারাজ ভাইয়াই পাঠিয়েছে আপনাদের সাহায্যের জন্য। দয়া করে আমাকে আপনি ভয় পাবেন না।
-যদি সে পাঠায় আপনাকে তাহলে সে নিজে কেন আসল না? আমার মায়া এতো বড় বিপদে আর সে এমনে থাকতেছে কিভাবে? সে আবার আমার মায়াকে ভালোবাসে?
-আসলে ভাইয়া অনেক বড় একটা বিপদের মধ্যে আছে। সে খুব শীঘ্রই আপনাদের সামনে আসবে। আপনারা আমার সাথে চলুন।
এমন সময় কাকি কিছু বলবে তার আগেই আমি তার হাত চেপে ধরলাম আর তাকে ইশারায় বিশ্বাস করতে বললাম আব্দুল্লাহ কে। সে আমাদের চা বাগানের পাশে এক পুরনো বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে যেয়ে জানতে পারলাম আব্দুল্লাহ নিজেও এখানে থাকে। যখন আমি জিজ্ঞাসা করি এখানে কেন তখনই সে বলে আমার নিরাপত্তা দেখার জন্য সে এখানে রয়েছে। আমি আব্দুল্লাহ এর হাত ধরে তাকে ধন্যবাদ জানালাম আর কাকি কে নিয়ে আলাদা এক রুমে চলে গেলাম। রাতও অনেক হয়েছে। আমার চোখ এ কোনভাবেই ঘুম আসছিল না শুধু রাকিব আর কাকার কথা মনে পরছে। আমি বিছানা থেকে নেমে গেলাম আর রুমে ঘুরাঘুরি করতে লাগলাম। তখন রাত্র বাজে প্রায় ৩টা। আমি মনে মনে ভাবলাম যে আব্দুল্লাহ এর কাছে যাই এবং তার সাথে এই ব্যাপার নিয়ে আলোচনা করি। ভবিষ্যতে এখন কিভাবে এই আলজা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।
এগুলো ভাবতে ভাবতে এগিয়ে যেতে লাগলাম আব্দুল্লাহ এর রুমের দিকে। হঠাৎ আব্দুল্লাহ এর রুম থেকে কেমন চিল্লা চিল্লির আওয়াজ শুনতে পেলাম। এই ব্যাপার এ জানার জন্য আমি আব্দুল্লাহ এর রুমে সামনে দারাই আর দরজা একটু ফাক করে দেখার চেষ্টা করি। ওমনি দেখি সারফারাজ কে। দেখলাম সারফারাজ আব্দুল্লাহ কে বকা দিচ্ছে। আমি একে অনেক খুশি অনেকদিন পর সারফারাজকে দেখলাম। তার উপর দেখি আগের থেকেও অনেক মায়াবী লাগছে। তাই উত্তেজিত হয়ে শুনতে গেলাম ভালো করে যে সারফারাজ আব্দুল্লাহ কে কেন বকা দিচ্ছে। আমি শিউর যে আমার সাথে হয়তো এসব ঘটেছে আর সারফারাজের কানে হয়তো এগুলা গেছে। আর তাই সে আব্দুল্লাহ কে বকছে।
আমার আগ্রহ এখন আরো বেশি হলো শুনার। কিন্তু কথায় আছে না আপনি যা ভাবেন মাঝে মধ্যে তার উল্টো ঘটে। আমার সাথেও এমনই ঘটে।
যখন মনযোগ দিয়ে শুনতে লাগলাম তখন সারফারাজ আব্দুল্লাহকে বলছে,,,,
-তোকে আজ পর্যন্ত একটা কাজ দিয়েও শান্তি পেলাম না।তোকে বলেছিলাম যে রাকিবের শরীরে শুধু ভর করবি আর মায়ার সাথে সম্পর্ক করবি।আর যদি না দে তাহলে জ্বর যবরদস্তি করে হলেও করবি। কিন্তু তুই কি করলি??
-কি করবো ভাইয়া, মায়ার সাথে সম্পর্ক করতে যাবো তার মধ্যেই তো রাকিবের মাথায় বারি মেরে রাকিবকে মেরে ফেলেছিলো।
-তাহলে ওর কাকার শরীরে ভর করে করতি?
-আমিওতো তাই চাইছিলাম কিন্তু তার আগেই ওর কাকা না জানি কি প্রস্তুতি নিয়ে আসছিলো আমি তার শরীরে ভর করতে পারলাম না যার কারনে মেরে ফেলছি তাকেও।আমার মনে হয় মায়ার কাকা বঝতে পেরেছিল কিছু। তাছাড়া ভাইয়া তুমি তো ওরে ভালোবাসো, তুমি ওর এইরকম ক্ষতি কেন চাচ্ছ।
-কে বলছে আমি ওরে ভালোবাসি? আমি শুধু ওর শরীর উপভোগ করতে চাই। তোর কাজ হলো এখন ওর কাকিকে মেরে ফেলবি আর এমন অবস্থা করবি ওর যাতে কেউ ওকে বিয়ে করতে না চায়। বাধ্য হয়ে ওকে আমার কাছে আসতেই হবে। তখন আর কেউ বাধা দিতে পারবে না।।।।
এসব শুনে আমি মনে হয় আকাশ থেকে পরি। যারে আমি এতটা ভালোবেসেছি সে শুধু আমার শরীর চায় তাও আমার পরিবারকে মেরে? তাহলে আলজা কোথায়? সেই মেয়ে কে? আমি শিউর আলজাও তাদের সাথে জড়িত। তাদের কাউকে বিশ্বাস করার মতো না। কাকি সত্যিই বলেছিলেন। আমি পাগল ছিলাম যে এতটা বিশ্বাস করতে লাগলাম তাদের।
আর না। অনেক হয়েছে আমার তারাতাড়ি করে কাকিকে নিয়ে এখান থেকে বেরিয়ে পড়তে হবে। নাহলে আমি আমার কাকিকেও বাচাতে পারবো না এই রাক্ষসদের হাত থেকে। সে আমার শরীর চায় আমাকে আগেই বলতে পারতো। আমি দিয়ে দিতাম আমার পরিবারকে এইজন্য এইভাবে হত্যা করলো। ছিঃ কাকে আমি ভালোবাসলাম। আমার নিজের কাছে ভালবাসাকে ঘৃনা হচ্ছে।
এইসব বলতে বলতে আমি আর কান্না করতে করতে আমি কাকির রুমে প্রবেশ করি কাকিকে জাগানোর জন্য। যেয়ে দেখি কাকি বসে আছে বিছানায়। আমি কাকিকে বললাম
-কাকি তুমি ঘুম থেকে উঠলা কখন?
-এসব পরে, তুই বল তুই কেন কান্না করছিস?
-কিছু না কাকি তুমি সত্যিই বলছিলা ওদের বিশ্বাস করলে নিজেরি ক্ষতি। আমরা চল তারাতাড়ি করে এখান থেকে বের হই।
-আরে কই যাবি সকাল হোক। তারপর যাস। এখন এই রাতকে উপভোগ কর।
-মানে?
-মানে বুঝা লাগবে না। তুই ঘুমা।
-তুমি কে?
-চিন্না ফেলছিস। আমি আলজা। তর কাকির শরীরে এখন আমার বাসা। হয়তো সুন্দর ভাবে আমাদের বাদশাহ যা বলে তা কর নাহলে তোর কাকিকে কেউ বাচাতে পারবে না।
-না প্লিজ আমার কাকিকে কিছু কর না। তোমরা যা বলবা আমি তাই করবো। 😭
এরপর আব্দুল্লাহ আমার রুমে প্রবেশ করল। সে একটানে আমার জামা কাপড় খুলে ফেলল। সে কেমন যেনো একটা মানুষ আর পশুর মিশ্রন নিয়ে একটা রুপ নিয়ে আসল আর আমার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে লাগলো। আমি কিছুই বলছিলাম না শুধু কান্না করতে লাগলাম। সে শারিরীক সম্পর্ক করতে লাগলো আর বলতে লাগলো,,
-তুই আমার আর ভাইয়ার সব কথা শুনছিলি তা আমরা জানি। তাই আলজাকে এখানে তোর কাকির কাছে পাঠিয়েছি। আজকে আমি অনেক খুশি কারন তোর মতো এতো সুন্দরী মেয়েকে আমার কবলে নিতে পেরেছি। চিন্তা করিসনে আমার পর আমার ভাইয়ের সময় আসবে।
এসব বলতে বলতে টানা ১ ঘন্টা আমার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে। যখন সে আমাকে ছাড়ে আমি বিছানা থেকে উঠে দাড়াতে পারছিলাম না। তখনই আমার কানে ফজরের আজানের আওয়াজ আসে। আমি শরীর ঢাকি কাপড় দিয়ে। এমন সময় কাকিও দেখি বিছানায় লুটিয়ে পরেন। আমি যেই কাকির শরীরে হাত দেই দেখি তার শরীর থান্ডা পড়ে গেছে। নাকে হাত দিতেই দেখি তার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে গেলো।।।।
চলবে,,,,
জ্বিনের আছর (Season 2) Episode 10
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
557
Views
15
Likes
2
Comments
4.0
Rating