জ্বিনের আছর (Season 2) Episode 6
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
আমি দৌড়ে কাকির কাছে যাই এবং কাকিকে জড়িয়ে ধরি। কাকি আমাকে জিজ্ঞাসা করতে লাগলেন,,,
-কি হয়েছে মা তোর? তুই এরকম ভয় পেয়ে আছিস কেন?
-কিছু না কাকি।(ভয়ে তখনও আমার হাত পা কাপতে থাকে)
-বল মা কি হয়েছে?
-এমনি কাকি একটা খারাপ স্বপ্ন দেখছি। সমস্যা নেই ঠিক হয়ে যাবে।
এই বলেই আমি রুমের দিকে চলে গেলাম।হয়তো কাকি কিছুটা আন্দাজ করতে পেরেছে।কিন্তু আমিই বা কাকি কে কিভাবে বলবো যে আমি তাকে দেখেছি এরকম অবস্থায়। আজকের দিনটা অনেক খারাপ যাচ্ছে আমি ঘুমাই।
এদিক দিয়ে কাকা কাকিকে বলতে লাগলেন,,,,
-আচ্ছা মায়া তো আগে কোন সময় এমন করে নি। কি হয়েছে ওর আমাকে একটু খুলে বলবা??
-আরে সকালে কবিরাজের কাছে নিয়ে গেসিলাম তখন কবিরাজ ওরে একটা তাবিজ আর পানির বোতল দিয়েছিলেন। রাতে খবর পাই কবিরাজ যখন এসব আনতে গিয়েছিলেন ঘরে তখনই নাকি উনি মারা গেছেন।
-ইন্নানিল্লাহ।তারপর,,,,
-তারপর আবার তুমি আর রাকিব কেমন যেনো করছিলা।
-কেমন করেছিলাম।আমার তো সকালের পরের থেকে কিছুই মনে নেই।শরীর ও কেমন ব্যাথা করছে।
-হ্যা তোমাদের উপর এক জ্বিনের আছর পড়েছিল।
-কি বলতাছ?
-হ্যা আর তুমি মায়ার হাত থেকে পানির বোতল ফেলে দিছো।
-এতো কিছু ঘটে গেলো আর আমাকে মাত্র বলছ। যাও তুমি মায়াকে আমাদের কাছে নিয়ে আস। সে আমাদের।সাথে আজকে ঘুমাক।
-আচ্ছা।
এদিক দিয়ে আমার কোনভাবেই ঘুম আসছে না। শুধু ওই চেহারাটা ভাসছে। ওয়টা তাহলে কে ছিলো। ওর সবকিছু কেমন চেনা পরিচিত লাগছে। কিন্তু যেই হক আমাকে বের করা লাগবে। আব্দুল্লাহ কেও আজকাল দেখছি না। এই মুহুর্তে আমার তাকে খুব প্রয়োজন। সেই আমার সব সমস্যা সমাধান করতে পারবে।
এইসব ভাবছি আর তখনই হঠাৎ ঘরের থেকে আওয়াজ আসতে লাগলো,,,,,,
-বলেন আমি আপনার কিভাবে সাহায্য করতে পারি?
-কে আপনি? আর কোথা থেকে আওয়াজ দিচ্ছেন?
-আমি আব্দুল্লাহ। আপনি আপনার সমস্যা বলুন।
-আমার সামনে আসছেন না কেন?
-আমি সামনে আসতে পারবো না। এর জন্য আমি আপনার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। কিন্তু আপনি বলতে পারেন আপনার কি সমস্যা?
-আপনি যেহেতু জানেন যে আমি সমস্যায় আছি,,,তাহলে আমার সমস্যার কারনটাও আপনি নিশ্চয়ই জানেন।
-হাহাহা,,,,,,আপনার নামে যা শুনেছি সব মিলে গেছে।
-মানে??
-আচ্ছা যাই হক শুনেন আপনি,,,,এখন যে আপনাকে জ্বালাচ্ছে তাকে আপনি খুব ভালো মতো চিনেন।আপনি ভালো মতো চিনতা করেন উত্তর পেয়ে যাবেন।
-সরাসরি বলুন আপনি কি বলতে চাচ্ছেন? এইযে উত্তর দেন।হ্যালো,,,,
আশপাশ থেকে আর কোনো উত্তর এলো না। আমি আবারো চিন্তায় পরে গেলাম। কে হতে পারে?? আর আমি কিভাবে চিনি? উফফ মাথা ব্যাথা করছে এসব ভেবে ভেবে। এমন সময় দরজা দিয়ে কে যেনো ভিতরে প্রবেশ করল।আমি পিছনে তাকিয়ে দেখি কাকি। এই প্রথম আমার কাকিকে দেখার পর ভয় হচ্ছে। কাকি আমাকে ডাকছে কিন্তু আমি শুধু পিছপা হচ্ছি। আমার শুধু সেই চেহারার কথাই মনে পড়ে। এমন সময় আমি বললাম,,,,
-কাকি তুমি যাও প্লিজ। আমাকে একা থাকতে দাও।
-কি হয়েছে মা তোর আমাকে বল না??
-কিছু না তুমি যাও প্লিজ যাও।
এসব শুনে কাকি সেখান থেকে চলে গেলেন। আমার নিজের কাছে খারাপ লাগা শুরু হচ্ছে কারন এই প্রথম আমি কাকির সাথে এরকম আচরন করেছি। কিন্তু কেন করেছি আমি নিজেও জানি না। আমি ওজু করে নিলাম আর ২ রাকয়াত নফল নামাজ পরে নিলাম। নামাজ পরার পর মনের ভিতর ভয় যে ছিলো তা অনেকটা কমে গেলো। আমি বিছানায় শুলাম কিন্তু ঘুম আসছিলো না। আমি ছাদে গেলাম। এই সময় রাত ৪.৩০ বাজে। আমি ছাদে হাটছিলাম এমন সময় খুব জুরে বাতাস ছুটে। আমার চোখ খুলতে পারছিলাম না। আমার হাতে সারফারাজের দেয়া সেই রুমাল ছিলো। আমি তা দিয়ে নিজের চোখ ঢাকি। কিছুক্ষন পর বাতাসের চাপ অনেকের কমে। আমি যখন তাকাই আমার মাথা কেমন ভার ভার করছে। আর তখনি সারফারাজের রুমাল থেকে আবারো সেই ঘ্রান আসা শুরু করে। এমন সময় একটা আওয়াজ আসে যে,,, আমি চলে এসেছি।এই বলে খুব জোরে ভয়ানক এক হাসি দে।
আমি আওয়াজ টা খুব ভালো মতো লক্ষ করলাম। আওয়াজ টা অনেক পরিচিত লাগছিলো। কার আওয়াজ এবং কোথায় শুনেছি তাই ভাবতে থাকি। মাথাটাও কেমন ভার লাগছে। এমন সময় ফজরের আযানের আওয়াজ শুনতে পাই। আর সাথে সাথে আমার মাথা আমার শরীর আবার হালকা হয়ে গেলো। আমি তারাতারি করে নিচে নামলাম। আবার ওজু করে ফজরের নামাজ পরে নিলাম। ফজরের নামাজ শেষ করে আমি বিছানায় শুয়ে আবার সেই আওয়াজ নিয়ে ভাবতে লাগলাম যে এই আওয়াজ কোথায় শুনেছি। এমন সময় আমার মনে পড়ে আজ থেকে ৩ মাস আগে যখন আলজা আমার উপর আছর দিছিল তখন সে এইরকম আওয়াজ করে। আর আজকের আওয়াজ আর ওই সময়ের আওয়াজ পুরো পুরি মিলে যায়।
তার মানে কি আলজা আবার ফিরে এসেছে।।।।
চলবে,,,,,,,
লেখকঃইয়াসিন আরাফাত মুবাশশির।
506
Views
12
Likes
2
Comments
3.3
Rating