পর্দা নারীর সম্মান এবং ভূষণ
সলাম হলো সার্বজনীন জীবন ব্যবস্থা।
সুন্দর একটি জীবন গড়ার এবং জান্নাত লাভের জন্য। আল্লাহর বিধান মেনে চলা আমাদের উপর অপরিহার্য।আর পর্দা হলো নারীর সম্মান এবং পবিত্রতার রক্ষা কবচ।যাতে সমাজে অন্যায়,যেনা, ব্যভিচার, পরকিয়া, যৌন ত্রাস এর মতো পাপ যেন না হয়,
এর জন্য ইসলাম পর্দার বিধান ফরজ করছে।
হিজাব বা পর্দা নারী এবং পুরুষের চারিত্রিক পবিত্রতার অন্যতম প্রতিক।
পর্দা হলো পবিত্রতা এ সম্পর্কে আল্লাহ সুরা আহজাব 53 বলেন - "তোমাদের এ তাদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্রতার কারণ।"
পর্দা মূলত ব্যভিচার, অশ্লীলতা এবং সামাজিক বিশৃঙ্খলা নিরসনে জন্য।
আল্লাহ তাআলা বলেন
"আল্লাহ তো কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা কে দূরীভূত করতে এবং তোমাদের কে সম্পুর্ণ রুপে পবিত্র করতে" আহজাব 33.
পর্দা ফার্সি শব্দ আরবি হলো"হিজাব"
এর অর্থ হলো -ডেকে রাখা, সৌন্দর্য্য ডেকে রাখা, গোপন করা।
পরিভাষায়- নারীও পুরুষ উভয়ের চারিত্রিক পবিত্রতার অর্জনের নিমিত্তে শরীয়াত কর্তিক নির্ধারিত আড়াল বা আবারণ কে পর্দা বলে।
*কেউ কেউ বলেন -নারী তার রুপ লাবন্য ও সৌন্দর্য্য পর-পুরুষ থেকে গোপন রাখা কে পর্দা বলে।
পর্দা হলো একটি সামগ্রিক সমাজ ব্যবস্থা।
যদি নারী হিজাব ব্যবহার করে চলা ফেরা করে তাহলে তাহলে সমাজে পরকিয়া, অবৈধ সম্পর্ক অপবিত্রতা সমাজ থেকে দূরে হবে।
পর্দা হীন ভাবে চলাফেরা করলে নরী কে খারাপ লোক অসম্মান করে, নির্লজ্জতা , অশ্লীলতা, নিকৃষ্টতম পাপা করে। ইভটেজিং , ধর্ষণ , যৌন সন্ত্রাস প্রকট আকার ধারণ করে। ফলে সামাজিক এবং পারিবারিক জীবনে নানান রকমের সমস্যা পড়তে হয়।
চোখ খুললেই সংবাদ পত্রে নিউজ টিভিতে দেখা যায়। সমাজের আসল রূপ।
*নবী সাঃ বলেন"তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট তারাই যারা পর্দহীন ভাবে চলাফেরা করে "(বায়হাকি 13256)
আরো বলেন"এমন নারী যারা পোশাক পরিধান করা সত্ত্বেও নগ্ন। তারা অন্যদের কে নিজেদের দিকে আকৃষ্ট করে। এবং নিজেরাও অন্যদের প্রতি আকৃষ্ট হয়।তারা জান্নাতের সুঘ্রাণ ও পাবে না "
(মুসলিম ৫৪৪৫) আল্লাহ তাআলা বলেন -
"তোমরা তোমাদের গৃহাভ্যন্তরে অবস্থান করো.প্রাচীন জাহেলী যুগের নারীদের ন্যায় নিজেদের প্রদর্শন করো না "
(সুরা আহজাব 33)
সুরা নুর 30 দৃষ্টি নত করো চরিত্র হেফাজত কর।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু বলেন -"নরী পর্দাবৃত থাকার বস্তু.যখন সে পর্দা হীন ভাবে বের হয় তখন তার দিকে শয়তান উঁকি মারে"(তিরমিযী ১১৭৩)
*রাসুলুল্লাহ সঃ তার স্ত্রী সাওদা রাঃ কে বলেন- "প্রয়োজনে তোমরা বাহিরে যেতে পারো"(বুখারী ৪৭৯৫)
আল্লাহ সুরা নুর ৩১ আয়াতে দৃষ্টি সংযত করতে, লজ্জা স্থানের হেফাজত করতে এবং বুকের উপরে ওড়না দিয়ে ঢেকে রাখতে বলছেন।
আল্লাহ সুরা আহজাব ৩৬ বলেন -" যে আল্লাহ ও তাঁর রসূলে কে অমান্য করবে সে অবশ্যই পথভ্রষ্ট"
পর্দা নারীকে কখনো ছোট করে না।
এটা নারীর সম্মান মর্যাদা বৃদ্ধি করে। এবং মুসলিমকে জান্নাতের পথ সহজ করে।
*বাইবেলে বলা হয়েছে মহিলারা শ্বলীনতার সহিত পোশাক পড়বে। পোশাক হবে ভদ্র।
*বেদে আছে মহিলারা মাথা ঢেকে রাখবে।
শুধু ইসলাম পর্দা করতে বলেনি, এটা প্রায় ধর্মে বলেছেন। নারী চরিত্র এবং সম্মান এর জন্য।
ইসলাম কখনো নারীকে ঘরের বাইরে নিষেধ করেনি, প্রয়োজনে যেতে পারবেন তবে নারীর জন্য ঘর উত্তম জায়গা।
যদি কোন নরী শিক্ষা, কিংবা চাকরি করতে চায় ইসলাম নিষেধ করেনি,সে হিজাব সহ কারে চাকরি ব্যবসা, সবকিছু করতে পারে। তবে ইসলাম নরী এবং পুরুষের অবাধে মেলামেশা করতে নিষেধ।
নারী নারীদের মধ্যে কাজ করবে, পুরুষ পুরুষের মধ্যে কাজ করবে।
কারণ নারী এবং পুরুষের মধ্যে আল্লাহ তায়ালা
যৌবিক চাহিদা দিয়েছেন। দিয়েছেন একে অন্যের প্রতি আকর্ষণ শক্তি।
নবী সাঃ বলেছেন - "দৃষ্টি হলো চোখের যেওনা"
মনে করেন- একটা রুমে আপনি কাজ করেন আপনার সহকারী হলো সুন্দরী মেয়ে। সব সময় আপনি তার সাথে থাকবেন তার প্রতি কি আকার্ষণ হবে না? অবশ্যই হবে যদি কেউ বলে না আমার কিছু হয় না তাহলে মেডিকেল সায়েন্স বলে তার সমস্যা আছে। তার সাথে বিভিন্ন আলাপের সাথে সাথে অবদ্য সম্পর্ক এমনকি পরকিয়া হতে পারে।
*নারী আর পুরুষের শারীরিক কাঠামোর উপর নির্ভর করে পারস্পরিক বিষয়ে।
সুরা নিসা 34 নারীর চেয়ে পুরুষর শক্তি বেশি দিয়েছে ।
নারীর দায়িত্ব তার বাবা এবং ভাইয়ের। বিয়ের পর স্বামী এবং ছেলের।
তারপর যদি কেউ কাজ করতে চায় সে হিজাব পালন করে কাজ করবে ইসলাম বাঁধা দেয় নি।
ধরেন -যদি ঘরে চোর আসে আপনি কি বলবেন আমি সমান অধিকারে বিশ্বাসী।তাই চোর স্ত্রী এবং বোন ধরবে।এটা বলবেন না, কারণ নারী কে আল্লাহ কিছু বিভিন্নতা দান করেছেন।
*আচ্ছা যদি জোমজ দুই বোন,একই রকমের সুন্দরী হয়।এক জন হিজাব পরে অন্য জন চোস প্যান্ট আর টিশার্ট পরে রাস্তায় দিয়ে যাচ্ছে।
কিছু বখাটে বা ইভটিজারদের সাথে দেখা হলো।
তারা কাকে বিরক্ত করবে? কাকে টিচ করবে?
রসায়নবিজ্ঞানের গবেষণায় জানা যায় যে, নারীর শরীর অশ্লীয় বা এসিড ধর্মী। ফলে তাদের প্রস্রাবের সঙ্গে কিছু কিছু অম্ল বা এসিড (Acid)নির্গত হয়। এই অম্ল পূরণ করার প্রবৃত্তির জন্য তারা অম্ল তথা টক খেতে চায়। তাদের শরীরের কোমলত্ব,সৌন্দর্য ও লাবণ্যের মূল কারণ এই অম্লত্ব।
পক্ষান্তরে পুরুষের শরীর
ক্ষারকীয়। ফলে তাদের প্রস্রাবের সঙ্গে কিছু কিছু মিষ্টি জাতীয় ক্ষার বা এ্যালকালি (Alkali)নির্গত হয়। এটি পূরণ করার স্বাভাবিক প্রবত্তির কারণে তারা ক্ষার জাতীয় বস্তু তথা মিষ্টি খেতে পছন্দ করে।
অম্লের (Acid)সঙ্গে ক্ষারের একটা স্বাভাবিক আকর্ষণ রয়েছে। একে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় Affinity (আসক্তি)। এই আকর্ষণ খুবই তীব্র এবং সূক্ষ্ন। এটি বৈজ্ঞানিক সত্য যে,ক্ষার-ধর্মী শরীর ও অম্লধর্মীর শরীরের মধ্যে একটা প্রাকৃতিক তীব্র
আকর্ষণ রয়েছে।
এই আকর্ষণের ফলেই দেখা যায় নারী-পুরুষের যৌন আকর্ষণ। যার ফলে পুরুষ তার প্রাকৃতিক দাবী নারীর কাছে এবং নারী তার প্রাকৃতিক চাহিদা পুরুষের কাছে লাভ করেন এবং তারা উভয়ে পরস্পরের কাছে সম্পর্কিত থেকেই লাভ করেন সুখ ও প্রশান্তি।
বিজ্ঞানময়
আকর্ষণের জন্যই আল্লাহ নারীদেরকে তার সৌন্দর্যকে পর-পুরুষ থেকে নিরাপদে রাখতে বলেছেন।
বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেন,প্রথম দেখাতেই মানুষের মন বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আবেগতাড়িত হতে সেকেন্ড পাঁচ ভাগের এক ভাগ সময়ই যথেষ্ঠ।আবেগে পড়ার অনুভূতির সঙ্গে সঙ্গে মস্তিস্কের ১২টি অংশে প্রভাব পড়ে। এবং চার ধরনের হরমোন নিঃসরণের কারণে দেহে-মনে ছড়িয়ে পড়ে ভালো লাগা। এবং দু‘জনই দু’জনার প্রতি তীব্র টান অনুভব করেন। (কোকেনসম প্রেম-দৈনিক কলের কন্ঠ-২৭/১০/২০১০ইং)।
সাইকোলজিক্যাল সোসাইটির অন্যতম সদস্য‘আলেকজান্ডার গর্ডন’ জানিয়েছেন, নারী-পুরষ উভয় পরস্পরের প্রতি আকর্ষণ হওয়ার ক্ষেত্রে নারীদের চেয়ে পুরুষরা এগিয়ে। অর্থাৎ কোনো মেয়েকে প্রথমবার দেখার পর একজন পুরুষের মনে যতটা সহজে আকর্ষণ অনুভূতি তৈরি হয় মেয়েদের মনে ততটা সহজে হয় না। (প্রথম দেখায় প্রেম-দৈনিক ইত্তেফাক-০৭/০৯/২০১০ইং)।
আধুনিক বিজ্ঞান বলেছে, নারীর চোখ ও দেহকোষে পুরুষের কামুক লোভাতুর দৃষ্টি পতিত হলে একপ্রকার রাসায়নিক ক্রিয়া সাধিত হয়। ফলে প্রবল ঝড় বইতে থাকে নারীর দেহে ও মনে এবং সৃষ্টি হয় উত্তেজনার।
এমকি সেই দৃষ্টি
গর্ভবতী নারীদের ওপর অধিক ক্রিয়াশীল হয়। এর প্রতিফলিত রশ্নি জরায়ুর অভ্যন্তর ভাগ ভেদ করে পতিত হয় গর্ভস্থ সন্তানের ওপরও। ফলে দেখা দেয় নারীদেহে দুর্বলতা, ব্যাপকভাবে কমতে থাকে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা। এ কারণে গর্ভাবস্থায় নারীর মনে যে ছবিটি দাগ কাটে,গর্ভের সন্তান শারীরিক কাঠামো ও ব্রেণের দিক দিয়ে সেরুপই হয়ে থাকে। দৃষ্টিপাতকারীর চরিত্র ও অভ্যাস রেখাপাত করে গর্ভের সন্তনের ওপর। (বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে পর্দা, পৃষ্ঠা-১৪)।
পদার্থ বিজ্ঞানে আলোর প্রতিফল (Refection of light) বলতে একটা ব্যাপার আছে। এর ক্রিয়া যে কত সূক্ষ্ন এবং অন্তর্ভেদী, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। মানব-দেহ হচ্ছে কতগুলো Cell বা কোষের সমন্বয়। মেয়েদের শরীরের কোষগুলো সাধারণত দুর্বল।
গর্ভধারণকালে এগুলো অত্যাধিক দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে পুরুষ শরীরের প্রতিফল-ক্রিয়া রোধ করার ক্রিয়া শক্তি একেবারে হারিয়ে ফেলে। এর ফলে গর্ভাবস্থায় পর-পুরুষের দৃষ্টি নিক্ষেপের ফলে প্রতিফলিত আলোক রশ্নিক গর্ভস্থ ভ্রণের গঠন (Configuration) বিকৃত করতে পারে। এ জন্যই কোনো কোনো সময় দেখা যায় স্বামী-স্ত্রী উভয়েই ধার্মিক, চরিত্রবান-চরিত্রবতী হওয়া সত্বেও তাদের সন্তান বদ-ধার্মিক দুশ্চরিত্রবান কিংবা অন্য কোনো পুরুষের চেহারার মত হয়েছে। এটি হয়েছে প্রতিফলন ক্রিয়ার ফলে। এ জন্যই অনেকে তাদের মেয়েদেরকে গর্ভাবস্থায় পর পুরুষের নিকটে যেতে দেয় না। (বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে পর্দা, পৃষ্ঠা-৮)। ফলে তাদের গর্ভস্থ ভ্রণ থাকে সুরক্ষিত।
সংক্ষিপ্ত আকারে আলোচনা করার চেষ্টা করলাম।
আশা করি সবাই আল্লাহর বিধান মেনে চলার তাওফিক দান করুন ।।আমীন।।
কমেন্ট করে জানাবেন কেমন লাগলো
পর্দা নারীর সম্মান এবং রক্ষাকবচ
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
310
Views
6
Likes
1
Comments
4.8
Rating