আজব ব্যাপার না!
আমরা সমুদ্রের বাহ্যিক দৃষ্টিতে যা দেখি ঢেউ তো একটাই মানে সমুদ্রের বুকে ঢেউ যেটা দেখি সেটাই তো তাহলে দ্বিতীয় ঢেউ আসলো কোথায় থেকে?
সে বিষয়ে পরে আসছি তার আগে সমুদ্র সম্পর্কে জানা যাক আসলে সমুদ্র সম্পর্কে বিশাল সংজ্ঞা দেওয়া আমার মত ছোট মানুষের পক্ষে অসম্ভব
তবে সমুদ্রের দুটি বিস্ময় সম্পর্কে বলতে পারি যা থেকে আপনি এই মুহূর্তের মধ্যে সমুদ্রের ছোটখাটো সংজ্ঞা পেয়ে যাবেন
বিষময় দুটি হচ্ছে সুন্দর ও ভয়ংকর
এই দুটি শব্দের মধ্যে পুরো সমুদ্রের সংজ্ঞা নিহিত আছে। সমুদ্রের এই যে বিশালতা উপচে পড়া ঢেউ তার বুকে সূর্যের হারিয়ে যাওয়া নীল জলরাশি উন্মত্ত তা এগুলো হলো সমুদ্রের অপার রহস্য তার সৌন্দর্য
আর এই সমুদ্র যখন উত্তাল হয়েও যায় সে হয়ে ওঠে বিধ্বংসী আর ভয়ঙ্কর যে জল রাশির মাধ্যমে জীবন সঞ্চারিত হয় সেই জলরাশি হয়ে ওঠে জীবন হারানোর কারণ।
খুব অদ্ভুত না! এবার আসল আলোচনা আসা যাক সমুদ্রের দ্বিতীয় ঢেউ
আমরা কম বেশি সবাই সমুদ্র সম্পর্কে জানি তবে আজকে যে বিষয়টি আমি বলতে চাচ্ছি সেটা সম্পূর্ণ অলৌকিক ঘটনার মত এবং যেটা হয়তো কারো অজানা চলুন বিষয়টা একটু সাজিয়ে বলি ধরুন আমি আর আপনি সমুদ্র ভ্রমনের সেন্ট মার্টিন যাবো রাতে জাহাজ দরলাম এ কারণে যাতে করে সমুদ্রের সৌন্দর্য আরো ভালো করা উপভোগ করতে পারি বিষয়টি সাজিয়ে বলছে এ কারণে যাতে আপনাদের বুঝতে সুবিধা হয় ।
এবার জাহাজে উঠে আপনাকে সেই সমুদ্রে দ্বিতীয়টি সম্পর্কে বলা শুরু করলাম সমুদ্রের সৌন্দর্যের মধ্যে একটা বড় সৌন্দর্য হলো তীরে উপচে পড়া ঢেউগুলো এই ঢেউ নিয়ে লেখা হয়েছে অনেক কবিতা লেখা হয়েছে হাজারো গল্প উপন্যাস নাটক ইত্যাদি ।
কিন্তু যে ঢেউ আমরা সাধারনতা দেখি সে ঢেউ ছাড়াও আরো একপ্রকার ঢেউ সমুদ্রের ঘুরপাক খাচ্ছে
এইডের কোন গল্প লেখা হয়নি কোন উপন্যাস লেখা হয়নি লেখা হয়নি কোন নাটক এমনকি গত শতাব্দীতেও বিজ্ঞানীরা এই দেবের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানতো না ।
কি খুব অবাক হচ্ছেন তাই না? অবাক হওয়ার কারণ নেই বলছি আস্তে আস্তে সব
আপনার মনে এতক্ষণে হয়তো প্রশ্ন জাগ্রত হয়েছে এটা আবার কেমন ঢেউ?
হ্যাঁ এটাই হল সেই ঢেউ যার অস্তিত্ব উপরে নয় সমুদ্রের গভীরে এবার হয়তো আমায় পাগল ভাবতে পারেন যেগুলো কি বলতেছে সে কারণে ।
এবার আমি একটু বলি শুনেন সমুদ্রের রয়েছে কয়েকটি স্তর। সব স্তরের ঘনত্ব সমান নয়।
সমুদ্রের গভীরতা যত বেশি পানির ঘনত্ব তত বেশি গভীরতা কম হলে পানির ঘনত্ব কম ।
এক একটি স্তরের সাথে অপর স্তরের রয়েছে সংযোগ বেশি ঘনত্বের পানি যখন কম ঘনত্বের পানির সাথে মিশে তখন সেখানে একটি ঢেউয়ের সৃষ্টি হয় আর এই ঢেউ চোখে দেখা যায় না শুধুমাত্র লবণাক্ততা এবং তাপমাত্রা পরীক্ষা করি এই ঢেউয়ের অস্তিত্ব নিরূপণ করা সম্ভব।
তাহলে বুঝতে পারছেন যে খুব অত্যাধুনিক বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি না হলে এই ব্যাপারে জানা কোনভাবেই সম্ভব না এবং আরো মজার ব্যাপার হলো বিজ্ঞানীরা মাত্র কয়েক বছর আগে এই ব্যাপারে জানতে পেরেছে
বিস্ময় কিন্তু এখানে শেষ নয় সমুদ্রের গভীর রয়েছে এক অদ্ভুত রকমের অন্ধকার অবাক হওয়ার কিছু নেই সেই অন্ধকারের ব্যাপারে জানতে হলে সূর্য সম্পর্কে জানতে হবে সূর্যের রয়েছে মোট সাতটি রং সমুদ্রের পানিতে এসে পড়ে সাতটি রং হলো লাল নীল বেগুনি সবুজ কমলা আসমানী এবং হলুদ এর মানে হলো একটা সম্পূর্ণ রংধনু এই আলোগুলো যখন সমুদ্রে এসে পৌঁছায় তখন সেগুলো পানি ভের করে গভীরে ঢুকতে থাকে গভীরে যেতে যেতে এই রংগুলো হারিয়ে যায় কি ব্যাপার বুঝেন নি আচ্ছা বুঝিয়ে বলছি সূর্যের আলো যখন সমুদ্রে পৌঁছায় তাদের ধীরে ধীরে গভীরে প্রবেশ করতে শুরু করে সমুদ্রের প্রথম ২০ মিটার শুধু লাল আধিক্য থাকে
তারপর ২০ মিটার পার হয়ে যখন ২৫ মিটারে যায় তখন কিন্তু আর লাল রং থাকে না কারণ লাল রং আগে মিলিয়ে গেছে অর্থাৎ প্রতি ২০ মিটার পর পরে এক একটি রং ফিকে হয় হারিয়ে যায় তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে যে এই রংয়ের তো শুধু ২০০ মিটার পর্যন্ত
২০০ মিটারের পর আর কোন রংয়ের উপস্থিত না থাকার সে অঞ্চলে একেবারে গুটগুটে অন্ধকার হয়ে থাকে সেখানে যদি কেউ হাত নিজের চোখের সামনে আনে তারপরও সে তার হাত দেখতে পারবে না তবে আপনি প্রশ্ন করতে পারেন ২০০ মিটার নিচে মানুষের যাওয়া কি সম্ভব ?
সম্ভব সাবমেরিন আবিষ্কারের পর বিজ্ঞানীরা এমন অনেক অসম্ভব ব্যাপার কে জানার ব্যাপারে আমাদের জন্য সহজ করে নিয়েছে ।
কিন্তু আজ থেকে কয়েক বছর আগ পর্যন্ত সমুদ্রের নিচে এই অবস্থা কেউ জানতো না এমনকি এটাও জানতো না যে সমুদ্রের গভীরেও একটি ঢেউয়ের সৃষ্টি হয় যদি জানত তাহলে সেগুলো নিয়েও হয়তো কবিতা লেখা হতো স্থান পেত কবিদের সাহিত্যের ইতিহাস ।
আচ্ছা আপনি কি জানেন আধুনিক বিজ্ঞানের আবিষ্কারের আগে এ ব্যাপারটি সম্পর্কে একজন কিন্তু ঠিকই জানে আপনার মনে হয়তো প্রশ্ন জাগতে পারে কে সে মহাজ্ঞানী? সে কি জানেন মহান আল্লাহ সুবহানাল্লাহ তায়ালা শুধু তাই নয় কোরআনের একটি আয়াতে এ ব্যাপারে আজ থেকে সাড়ে চৌদ্দশ বছর আগে বলা হয়েছে প্রশ্ন জাগতেই পারে এই ব্যাপার গুলো কিভাবে সাড়ে চৌদ্দশ বছর আগে কোরআন লেখা থাকতে পারে অবাক হওয়ার কারণ নেই বলছি কোরআন সূরা নূরের 40 নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন যা কাফেরদের উপমা টানতে গিয়ে বলেছেন চাঁদনি বিজ্ঞান দ্বারা প্রমাণিত ।
আল্লাহ বলেন তাদের আমলের অবস্থা (কাফিরদের) হচ্ছে গভীর সমুদ্রের গনীভূত অন্ধকারের মত যাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে ঢেউয়ের উপরে ঢেউ তার উপর ভাগে রয়েছে মেঘমালা কেউ যদি তাতে নিজের হাত বের করে তখন সে নিজের হাতটাও দেখতে পারে না আল্লাহ যাকে আলো দান করেন না তার জন্য আর কোন আলো থাকে না।
একটু ভাবুন তো এই আয়াতে উপমার মূল বিষয়বস্তু হিসেবে কোনটি ধরা হয়েছে সেটি হল তাদের অবস্থা গভীর সমুদ্রের অন্ধকারের মত সমুদ্রের গভীরে যে অন্ধকার আছে সাবমেরিন আবিষ্কারের আগে মানুষ তা জানতেই না এরপর বলা হয়েছে যে অন্ধকারাচ্ছন্ন করে আছে ঢেউয়ের উপর ঢেউ এতে করে করে সুস্পষ্ট ভাবে দুইটি ঢেউয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং তার উপর মেঘমালা
এখানে প্রথমে যে ঢেউয়ের কথা বলা হয়েছে সেটি হল সমুদ্র গভীরে যে ঢেউয়ের কথা বলছিলাম সেটাই এই দুই এর উপর রয়েছে আরও একটি ঢেউ সেটি কোনটি যেটা আমরা সমুদ্রের উপরিভাগে দেখতে পাই এর উপরে রয়েছে মেঘমালা একদম ক্লিয়ার আল্লাহ তা'আলা সমুদ্রের দ্বিতীয় সম্পর্কে বলেছেন সাড়ে চৌদ্দশ বছর আগে যা কোনদিনই মানুষের পক্ষে জানা এবং বলা সম্ভব ছিল না একমাত্র সম্ভব হয়েছে আল্লাহতালা পবিত্র কোরআনে বলেছেন বলে।
আচ্ছা ডক্টর গ্যারি মিলার সম্পর্কে একটু বলি তিনি একটা ঘটনা বলেছিলেন ঘটনা ছিল এরকম একবার সে তার মুসলিম বন্ধু থেকে সে পবিত্র কুরআন পড়ার জন্য নয় এবং পড়া শেষ হলে সেটা ফেরত দেয় এবং এটা জানতে চাই যে এই বইটি যিনি রচনা করেছেন তিনি কি কোন নাবিক ছিলেন নাকি কোন সমুদ্র সম্পর্কে ভালো জ্ঞানী ব্যক্তি ছিলেন তিনি মূলত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কোরআনের রচনাকারী ভেবেছিলেন তখন তার মুসলিম বন্ধু বলেছিলেন তিনি কোন নাবিক ও নন না কোন সমুদ্র জ্ঞানী ব্যক্তি তিনি ছিলেন উত্তপ্ত মরুবাসী বাসিন্দা একথা শুনে তিনি খুবই অবাক হয়েছিলেন এবং বলেছিলেন কোন নাবিক বা সামুদ্রিক ব্যক্তি ছাড়া এত সুন্দর ভাবে সমুদ্র সম্পর্কে বলা কোন সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব না পরবর্তীতে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন অবশেষে কিন্তু আমাদের সাজানো ভ্রমণটা শেষ হয়ে এসেছে আল্লাহ সবাইকে বুঝার তৌফিক দান করুক আমিন।
সমুদ্রের দ্বিতীয় ঢেউ!!!
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
645
Views
10
Likes
0
Comments
4.0
Rating