জমিদার বাড়ির মেয়ে

পর্ব-০৭ এর প্রথম অংশ
👇
আরমান...এটা হচ্ছে নানুর বাড়ি,
আমি আর মা একখানেই থাকি।
- তোমার জমিদার দাদুর বাড়ির
থেকে ছোট কিন্তু ভালোই।
শান্তি শান্তি একটা ভাব আছে।
- হুমমমমম...এবার ভিতরে চলো।

- ঐ ঐ থামো থামো... সামনে যে তিনজন
বসে আছে ওনারা কারা ।
- মাঝখানে টা মা, ডান সাইটের টা নানু,
আর বাম পাশেরটা নানি।
- ওক্কে....মাথাই সব ঢুকে গেছে,
এবার শুধুু আমার পিছন পিছন আসো আর
দেখতে থাকো।
- ঐ আরমান... উল্টা পাল্টা কিছু
কইরো না যেনো... মা কিন্তু অনেক রাগি।

- আন্টিইইইইইই, বলে, জোরে একটা
চিল্লানি দিয়ে... নীলার মায়ের পা ধরে
শুয়ে পড়লাম।
- আরে আরে কে তুমি...এই ছেলে
উঠো।
- না আন্টি আমি উঠমু না ।
- আরে বাবা কী হইছে বলবা তো নাকি।
- আগে বলেন আমারে আপনার কাছে
থাকতে দিবেন।
- ঠিকআছে থাইকো, কিন্তু আমার
কাছে কেনো থাকবা।
- এত কিছু বুঝি না.... থাকতে
দিবেন কিনা সেটা বলেন...
তা না হলে কিন্তু উঠমু না,, এমনেই আপনার
পা ধরে থাকমু... হুমমমম।
- আচ্ছা বাবা ঠিকআছে উঠো... থাকতে
দিবো।
- আর একটা কথা....।
- আবার কী কথা।
- হাতটা বাড়িয়ে দিয়ে বললাম... ফ্রেন্ড।
- ঠিকআছে ফ্রেন্ড।
- হি হি হি।

- নীলা... তুই।
- হুমমমমম....আর মা ও আরমান...
আমার ফ্রেন্ড।
- ঠিকআছে, বুঝলাম... কিন্তু তুই
হঠাৎ করে চলে আসলি কেনো।
- ওহহহহ আন্টি আপনি ও না
সিনেমাটিক মা গুলার মতো।
বাবাকে দেখতে মন চাইছিলো তাই
বাবা কাছে গেছিলো।
আবার এখন মাকে দেখতে মন
চাইছে তাই মার কাছে চলে আসছে... সিম্পল।
- তাই বলে যখন তখন এত দূরে যাওয়া
আসাটা কী ঠিক ।
- বাবা, মা একটু কাছে থাকলেই
তো আর এমন দূরে যাওয়া আসা
করা লাগতো না (ফিসফিস করে)
- কী বললে।

- আন্টি..
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
প্রথমে এসে সালাম দিতে ভুলে গেছিলাম
তো তাই ফিসফিস করে সালাম
দিচ্ছিলাম....সরি আন্টি।
- অদ্ভুত ছেলে তো তুমি।
- আন্টি সালামটা নেন।
- ওয়ালাইকুম আসসালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু....হইছে।
- জ্বী আন্টি।
- নীলা... ওকে নিয়ে ভিতরে যা আমি
আসতেছি।
- ঠিকআছে... মা।
- আরমান... ভিতরে চলো।
- আরে দাঁড়াও না।
নানু, নানির সাথে তো এখনো
কথাই হয় না।

- কী বুড়ো কেমন আছো...
তোমারে দেখে তো মনে হচ্ছে নানিরে
নিয়ে বেশ মজাই আছো।
তারপরে দিনকাল কেমন কাঁটতেছে।
- ভালো।
- নানি.....আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
- ওয়ালাইকুম আসসালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
- নানি নানুরে একটু দেইখা রাইখো,
তারে দেখে তো মনে হয় না তার
যৌবনের পানি উঠা বন্ধ হইছে।
কবে দেখবা আর একটা ধরে আনছে।
আমি এই সব বুইড়া রে ভালো করে চিনি।
অন্যরে দিয়া আর কী কমু, আমার
নিজের নানুই একটা জাত হারামি আছিলো।
এমন বয়সেই আর একটা ধরে আনছিলো।
সেই কী কান্ড....তাই একটু তোমারে
সাবধান করে দিলাম।
চলো নীলা।
আর নানু.....
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

-আরমান...তোমার মুখে কী কিছুই
আটকায় না হ্যা।
আর তোমার কী কোন লজ্জা সরম
কিছুই নাই।
- লজ্জা সরম নাই জন্যই তো এখানে
আসছি নাকি....আর আমি যা যা বলছি
সব আমার নিজের এক্সপিরিয়েন্স থেকেই
বলছি বুঝলা।
আমার নানুু ও তোমার নানুর মতোই
আছিলো...আর ফট করে একদিন
আর একটা বিয়ে করে নিয়ে আসছিলো,
এই সব বুইড়ারে আমি ভালো করে চিনি।

এবার ভিতরে চলো আর খাওয়ার কিছু
থাকলে নিয়ে আসো যাও।
অনেক খিদে লাগছে।
- হুমমমমম.....ঠিকআছে।
রুমে বসে খাচ্ছিলাম.... এমন সময়
দেখি আন্টি সাইট দিয়ে যাচ্ছে।

- আন্টি আন্টি আন্টি।
- হুমমমমম... বলো।
- ওহহহ....সব সময় এমন করে
থাকেন কেনো।
একটু হাঁসলে কী হয় ।
- এই ছেলে... তুমি আমাকে কত দিন
ধরে চেনো হ্যা।
তাই বলতেছো সব সময় এমন করে থাকি।
- আচ্ছা ঠিকআছে....এখন তো আমরা
ফ্রেন্ড তাই না.. আপনার সাথে একটা
সেলফি তুলি...প্লিজ আন্টি, প্লিজ প্লিজ।
- ওকে।
- হি হি।

- আন্টি একটু হাঁসেন।
মুখটা একটু ডান দিকে বাঁকান।
- ঐ তুুমি তুলবা নাকি আমি চলে যাবো।
- ওহহহহ... থামেন না একটু।
- হইছে।
- এই তো একদম পারফেক্ট।
আংকেল রে ফোন দিলাম।
- হ্যালো আংকেল।
- কে।
- আমি... আরমান।
- ওহহহ আরমান...হ্যা বলো।
- আংকেল... আন্টির সাথে আমার ফ্রেন্ডশিপ হয়ে গেছে।
- বাহ্.. ভালো... কিন্তু কেমনে।
- আংকেল, আপনি রাগ না করলে কিছুু
কথা বলতাম।
- ঠিকআছে বলো।
- আসলে কথা গুলো কিন্তু রাগ করার
মতোই..রাগ করবেন না তো।
- আরে না বলো।
- আচ্ছা মনে করেন আমরা দুইজন এখন
থেকে ফ্রেন্ড।
- হ্যা... বলো।

- ওই ইরফাইন্না... হারামি
তুই কী হ্যা... এত্ত সুুন্দরী একটা
বউ রাইখা যৌবনডা হুদাই পার করতেছিস।
তোরে তো সালা তুরাগ নদীতে চুবানো দরকার।
আমি তোর বউয়ের সাথে একটা সেলফি
তুলে...তোর ইমুতে পাঠাইছি।
বউডারে একটু ভালো করে দেখ...
আর ভাই এত সুুন্দরী একটা বউ থাকতে
যৌবনডা হুদাই পার হতে দিসনা.. বাই...
টুুট টুট টুট টুুট

জমিদারের পোলারে বকা দিছি,
নিজেরে কেমন বীর বীর লাগতেছে..হি হি হি !
যাই হোক ফটাফট নীলার মা আর বাপরে
মিলাইতে পারলেই আমি বাঁচি....
তারপরে আরামছে একা একা সিলেট
ঘুরমু।
আহা...কী শান্তি লাগবো তখন।।
এদিক ওদিক লাফাইতে লাফাইতে,
একদিন কেঁটে গেলো।
রাত্রে ঘুমাতে যামু এমন সময় আংকেলের
ফোন।

- সরি আংকেল... তখন ওমনে কথা
বলছি বলে আবার রাগ করেন নাই তো।
- আরে দূর কী যে বলো না....তোমার
উপরে কী রাগ করা যায়।
- হুমমমম.... সেটা অবস্য ঠিক কইছেন।
তবে এই রাইত্রে ক্যান ফোন দিছেন,
কাহিনী কী বলেন তো।
- আরমান.... যেমনেই হোক তোমার
আন্টিকে আমার কাছে এনে দাও প্লিজ।
এর বিনিময়ে তুমি আমার কাছে যা চাইবা
আমি তোমাকে সেটাই দিবো।
- শোনেন আংকেল...আপনি জমিদার
হইতে পারেন বাট আমি এতোটা ছ্যাঁচড়া না যে
একটা ফ্যামিলিরে এক করার বিনিময়ে
কিছু নিমু... আর চিন্তা
নিয়েন না আমি ফিরলে আন্টিকে নিয়েই
ফিরমু।
এখন ভালো করে ঘুমান আমি ঘুমামু... বাই..
টুট টুট টুুট।

সকালে ঘুম থেকে উঠে নীলার রুমে
গেলাম।
ঠক ঠক ঠক।

- ঐ দরোজা খুুলো।
- এই সকালে আবার কী?
- কালকে রাইত্রে তোমার বাবা ফোন
দিছিলো।
তোমার মায়ের ছবি দেখে তো সে
একদম.. হি হি হয়ে গেছে।
- হি হি হয়ে গেছে মানে।
- তোমার বয়স হয় নাই... বুঝবা না...বাই।
এখন যেমনেই হোক... তোমার মাকে
একটু ভরকাতে পারলেই কাজ শেষ।

নীলার রুম থেকে বাহিরে বের হয়ে
আসতেই সামনে আন্টি।

- এতো সকালে নীলার রুমে কী করছিলে।
- কিছু না আন্টি... এমনিই।
- সত্যি করে বলো বলছি।
- সত্যি কিচ্ছু না।
- তোমরা কী দুই জন দুই জনকে ভালবাসো।
- নাউজুবিল্লাহ্....আন্টি আপনি যা
ভাবছেন সেটার ১০০ হাত দূরে ও আমি নাই।
আর আমারে দেখে কী ওমন মনে হয় বলেন।
- তোমারে দেখে তো সব কিছুই মনে হয়।
- আন্টি আপনি যদি জোর করে ও আমারে
নীলার সাথে বিয়ে দেন না..
আমি প্রথম রাইত্রেই ভাইগা যামু।
কারণ এই সব ঝুর ঝামেলা আমার
একদম ভাল্লাগে না(ডাহা মিছা কথা)
- ঠিকআছে...তোমার রুমে যাও।
- আচ্ছা।
- যাক...বাঁচলাম।
বিকেলে দেখি...
আন্টি বাড়ির ভিতরের বাগানে একা একাই
বসে আছে।
হঠাৎ মাথাই একটা বুদ্ধি আসলো।
ধীরে ধীরে আন্টির কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম।

- আরমান... কিছু কী বলবা।
- জ্বী আন্টি ।
- ঠিকআছে বলো।
- আচ্ছা আন্টি এই খানের আশেপাশে
কোন নদী আছে।
- কেনো।
- আছে নাকি সেইটা বলেন আগে।
- হুমমমম... আছে তো।
- আন্টি চলেন না.... একটু নদীর পার থেকে
ঘুরে আসি।
- আমি যাবো না.... তোমার যেতে
ইচ্ছে হলে তুমি যাও।
- আন্টি... আপনি না গেলে আমি কিন্তু
এখানে আপনার পা ধরে শুয়ে পড়মু
বলে দিলাম।
- আজব.... আমি যাবো না
বললাম না।
- চলেন না... একটু গেলে কী হয়।
- আরমান.... বেশি জেদ ভালো না,
তুমি একাই যাও.... আর না হলে নীলাকে
সাথে নিয়ে যাও।
- ওহহহহ....তার মানে আপনি যাবেন না।
- না।
- ঠিকআছে...।

- আন্টি গো আন্টি.......চলেন না একটু।
আপনি না যাওয়া অব্দি পা তো আমি
ছাঁড়মু না।
যদি ভূমিকম্প আসে তবু ও না।
- আরমান.... পা ছাড়ো বলছি।
- না.... আগে বলেন যাবেন।
- না।
- ঠিকআছে...পা ও ছাড়মু না তাইলে।
- ওহহহহ.... কথাই কথাই এমন পা জরাই
ধরো কেনো।
- আগে বলেন যাবেন।
- ঠিকআছে.... আগে পা ছাড়ো ।
- না... আগে তিন সত্যি বলেন যে যাবেন।
- ওহহহহহহ... ঠিকআছে.... তিন সত্যি যাবো।
- হি হি হি.... তাহলে চলেন।
- এখনি।
- হুমমমমম... এক্ষুনি।
এমন সময় নীলা ও এসে হাজির।
আমি আন্টি আর নীলা মিলে নদীর
চড়ে হাঁটছি।
- মা তোমরা হাঁটো... আমি একটু মাছ
ধরা দেখবো।
- আচ্ছা।

- আহা... কী সুন্দর নদী,
কী সুুন্দর তার পানি।
কী সুন্দর বাতাস।
এমন সময় নিজের একটা বউরে
নিয়ে হাঁটতে যা লাগবে না।
- আরমান... তুমি কিন্তু আমার হাতে
মাইর খাবা।
আমি কী তোমার গার্লফ্রেন্ড লাগি,
তাই এই সব বলতেছো।
- ঠিকআছে..... সরি।
- এতদম নেকা নেকা ভাব
করবা না।
- আমি আবার কী করলাম।
- কিছু না।

- আন্টি আপনি যদি রাগ না
করেন...কয়েকটা কথা বলবো।
- তোমার সব কথাতেই আমার রাগ
লাগে। কী বলবা বলো।
- রাগ লাগলে আর কী করার... বলতে
তো আমাকে হবেই।
কারণ... আমি তো আর আপনাদের
মতো না যে সামান্য একটু
রাগের জন্য হুদাই হুদাই সতেরো আঠারো
বছর নষ্ট করমু।
- কী বলতে চাও তুমি।
- আচ্ছা আন্টি ঐ খানে একটু বসেন।
- কেনো।
- বসেন না.... প্লিজ।
- ঠিকআছে ।

আন্টি আমার বয়স যখন সাত বছর
তখন আমার বাবা মার ডিভোর্স হয়ে যায়।
তার এক বছর পরে বাবা আর একটা
বিয়ে করে।
অন্যদিকে মা ও বিয়ে করে।
তখন থেকেই আমি একা থাকতাম।
রাত্রে যখন শুতাম...প্রথম প্রথম
খুব কষ্ট হতো.. আবার রাগ ও হতো।

আস্তে আস্তে নিজেই নিজেকে
বুঝালাম... এই সব রাগ আর কষ্ট
পেয়ে আমার কী লাভ।
সবাই যখন ভালোই আছে,, আমি ও তো
ভালো থাকলেই হয়।
আমি একা একা কষ্ট পাচ্ছি এটা শুনলে তো
আমার মায়ের ও কষ্ট হবে।
তাহলে অযথা কষ্ট পাবার কী আছে।

এর পর থেকেই রাগ আর কষ্ট
জিনিসটা আমার ভেতর থেকে
কেমন উধাও হয়ে গেলো।
তারপরে থেকে শুরু হলো দুুষ্টুমি আর ফাজলামি করা... এই সব নিয়ে আমিও হ্যাপি
সাথে আমার মা, বাবা সবাই।

কিন্তু আপনিই বলেন, প্রথম থেকেই
যদি আমি হাবলুর মতো রাগ করে
থাকতাম কষ্ট পেতাম... হায় হুতাস করতাম,
আহারে আমার বাবা, মা কেউ আমাকে
ভালোবাসে না, আমি এই
দুুনিয়াই থেকে কী করমু।
কে আছে আমার....
এই সব চিন্তা ভাবনা করলে, আমার ও কষ্ট
আর আমার সাথে সাথে অন্য দশ জনের ও কষ্ট।

আসলে একটা কথা কী জানেন আন্টি,
আমাদের চারিপাশের সব কিছুই
অনেক সোঁজা.... কিন্তু আমরাই
বেকুবের মতো সব কিছু কঠিন বানিয়ে
ফেলি আর হায় হুতাস শুরু করে দিই।

ধরেন এই নদীটাই আপনি পার হবেন,
আর নদীটা পার হওয়ার জন্য দরকার
একটা নৌকা।

এখন আপনি নদীর পারে বসে হায়
হুতাস করতেছে।
ওরে বাপুরে, আমি কেমনে পার হবো রে,
আমি তো নৌকা বানাতে পারি না রে।
আমার কী হইবো রে।
কেমনে ঐ পারে যামু রে।
এই সব বলে বলে জিনিসটা আরো
জটিল বানিয়ে ফেলতেছে।

আপনাকে কে এমন বাপ মা মরার
দায় দিছে যে... নৌকা বানিয়েই
নদীটার ঐ পারে যেতে হবে।
ফটাফট চার পাঁচটা কলাগাছ এক সাথে
বেঁধে ও তো নদী পার হওয়া যাবে তাই না।

হ্যা এখানে একটু রিক্স আছে,
তবে অযথা হায় হুতাস করার থেকে
অনেক ভালো।

- আচ্ছা আরমান... তুমি আমাকে
কী বুঝাইতে চাইতেছো বলতো।
- আন্টি আংকেল আপনাকে অনেক
ভালোবাসে.... ওনি প্রতি রাতে
আপনাদের পছন্দের ঐ গাড়িটা নিয়ে
নদীর পারে গিয়ে শুয়ে শুয়ে
কাঁদে।
আমি নিজে ওনার শার্টে নদীর বালু
লেগে থাকতে দেখছি।
আন্টি আপনাকে ছাঁড়া ঐ জমিদার
বাড়িটা..লবণ ছাঁড়া তরকারির মতো।
ঐ বাড়ির প্রতিটা ইট আপনাকে
অনেক মিস করে আন্টি।
আন্টি আমি তো অন্য পর একটা ছেলে।
চার পাঁচ দিন আগে নীলার সাথে
বাসে আসার সময় আমাদের পরিচয়।
তারপরে আংকেলের সাথে, এরপরে
আপনার সাথে।
আপনারা সবাই খুব ভালো আন্টি।
আপনি ফিরে চলেন আন্টি... সবাই
আপনাকে খুব মিস করে।

আমি হয়তো দুইদিন পরে চলে যাবো,
আর কোনদিন দেখা না ও হতে
পারে।
কিন্তু আপনারা যদি একে অন্যে থেকে এমন
দূরে থাকেন।
আর কারো না হোক, নীলার খুব
কষ্ট হয় আন্টি।
আমার মা আমার কাছে থাকে না
আমি সেই কষ্ট বুঝি আন্টি।
ফিরে চলেন আন্টি, প্লিজ আন্টি।
- বাহ্..... কত টাকা ঘুষ খেয়ে
আমাকে ফিরিয়ে নিতে আসছো শুনি।
- আন্টি....মানতেছি আমি অনেক
ফাজিল... কিন্তু আমি এমন না যে
টাকা খেয়ে এখানে আসবো।
আর আন্টি আপনার মন যদি
না যেতে চায় তাহলে আর কী করবো
বলেন।
মন কে তো আর জোর করে নিয়ে
যেতে পারবো না।
আর যদি নিয়ে ও যাই.. সেই যাওয়াটার
তো কোন লাভই নাই।
ঠিকআছে আন্টি.... অনেক কথা
বলে ফেলছি...আমার কথাই যদি কষ্ট
পান তাহলে একটু মাফ করে দিয়েন।
আর আপনার মন যদি ফিরে আসতে
চায় তবেই আইসেন।
আমি তো একটা অন্য পর ছেলে।
এতো কিছু বলার অধিকার আমার নেই।
তাই তো অনেক কথা বলে ফেলছি... সরি
আন্টি।
ভালো থাকবেন..... বাই।

এই সব বলেই ওখান থেকে বিদায়।

লটরপটর করতে করতে
জমিদার বাড়িতে আসলাম।

- আরমান... নীলা কোথায়, আর তুমি না
বললা...তোমার আন্টিকে নিয়েই আসবা।
- ওরে আংকেল....যা ডোস দেওয়ার
দিছি... এখন বাঁকি সব আল্লাহ্ তায়ালার
হাতে।
- মানে।
- মানে আবার কী?
যখন প্রেম করছিলেন, তখন কী
দুুনিয়াই মাইয়ার কোন অভাব ছিলো না।
এমন একজনরে বিয়ে করছেন।
ওনার তো খালি রাগ না পুরাই
রাগের একটা গুডাউন।
বলে কী না... আমি নাকি আপনার কাছে
ঘুষ খেয়ে ওনাকে নিতে গেছি।
কেমনডা লাগে কন।
- তাহলে কী নিরা আর আমার কাছে
আসবে না।
- আচ্ছা নিরা কে।
- আরে তোমার আন্টির নাম নিরা।
- ওহহহহহহ....মেয়ের নাম নীলা,আর মায়ের
নাম নিরা... বাহ্ ভালো।

- ও কী তাহলে আসবে না।
- আমি কী জানি।
যেমন বিয়ে করছেন আপনি
জানেন।
আমি এখন ঘুমামু।
দুই দিন ধরে জার্নি করে আমি
শেষ।
তবে হ্যা চিন্তা নিয়েন না।।।
আপনার নিরারে আপনার কাছে
না নিয়ে এসে.. আমি এখান থেকে
যামু না।
ওখানে আবার যাওয়ার জন্য আর একটা
রাস্তা করেই আসছি।
- কী রাস্তা করে আসছো।
- আমার ব্যাগ ওখানে রেখে
আসছি... যাতে ওটার অছিলাই
আবার যেতে পারি.....।
- তোমার বুদ্ধি আছে...মানতেই হবে।
- হুমমমমমম...এবার একটু আমারে
ঘুমাইতে দেন পিলিজ...
মেলা টায়ার্ড আমি।
- ঠিক আছে.... যাও ঘুুমাও ।

আহা কী শান্তি..... বিয়া করার থেকে ও
ঘুমাইতে বেশি মজা লাগে... হি হি হি।

- তিনডা দিন হয়ে গেলো আন্টির তো
এখানে আসার কোন লক্ষণই নাই।
আর সাথে নীলার ও কোন খোঁজ খবর নাই।

আংকেল কে ও কেমন ল্যাদা মার্কা
টাইপের লাগতেছে।

ওহহহ..কী যে করমু কিছুই বুঝতেছি না ।

নিচে সোফাই আংকেল বসে আছে।
ওনার কাছে গেলাম।

- আংকেল আমার কাছে একটা
প্ল্যান আছে... এই প্ল্যান অনুুযায়ী যদি
কাজ করতে পারেন... তাহলে আন্টি
এতদম উঁড়ে উঁড়ে আপনার কাছে আসবে।
- সত্যি।
- হুমমমমমমম... তবে সেটার জন্য
আপনাকে একটু আমার মতো
ছ্যাঁচড়া টাইপের হতে হবে।
- না না তাহলে থাক।
- এত্ত সুুন্দরী একটা বউয়ের জন্য এই
টুকু করতে পারবেন না।
আচ্ছা বউটারে না হয় বাদ দিলাম,
নীলার জন্য হলে ও তো একবার ট্রাই
করবেন নাকি।
- আচ্ছা ঠিকআছে.... কী করতে হবে
সেটা বলো।

পর্ব ৭ম এর ২য় অংশ দ্রুত দেওয়ার চেষ্টা করবগল্পঃ জমিদার বাড়ির মেয়ে😍
37 Views
2 Likes
0 Comments
5.0 Rating
Rate this:
(1)

মন্তব্য

কোন মন্তব্য নেই