*২য় পর্ব *
কয়েকদিনের ছুটি শেষে অফিসে চলে আসি। পুরো দমে অফিসের কাজ শুরু করলাম। ইতিমধ্যে অফিসের সকল কাজ করায় পারদর্শী হয়ে উঠলাম। ম্যানেজার স্যার ছুটিতে গেলে এখন আমাকে অফিসের সকল দায়িত্ব দিয়ে যায়। আমি সেটা ঠিকঠাক ভাবে পালন করি।
মাঝে মাঝে তিশার কথা একটু একটু মনে পরে। দেখতে দেখতে ১ মাসের মত কেটে গেলো। একদিন বিকালে অফিসে একা বসে আছি। জানালার দিয়ে বাইরে তাকাতেই দেখলাম তিশা রিকশা থেকে নামছে। এতোদিন পরে দেখলাম ওকে। ওর থেকে চোখ ফেরাতে পারছি না। বাসায় যাওয়া অব্দি দেখতে থাকি। এটা ভেবে খুব ভালো লাগছে যে এখন থেকে প্রতিদিন তাকে দেখতে পাবো।
তিশার বাবা ওকে এখানের একটা স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করিয়ে দিয়েছে। স্কুলটা কাছেই। স্কুলে যাওয়ার সময় মাঝে মাঝে ওর সাথে দেখা হয়। শুধু দু একবার আমার দিকে তাকায়। কোনো কথা বলেনা। আমার ও নিজে থেকে কথা বলতে কেমন জানি লাগে। তাই আমিও কিছু বলিনা।
তিশার বাবার সাথে দোকানে বসে গল্প করতে করতে একপর্যায়ে আমার পড়াশোনার কথা জানতে চায়। আমিও বললাম। শুনে সে আমাকে তিশাকে প্রাইভেট পড়ানোর জন্য রিকোয়েস্ট করে। আমি প্রথমে অফিসের কাজের কথা বলে না করি। তারপর সে সন্ধ্যার পরে তো কাজ থাকেনা তখন পড়াতে বলে। অনেক রিকোয়েস্টের পরে আমি রাজি হই। ৭ টা থেকে ৮টা পর্যন্ত সময় দিলাম।
পরের দিন সন্ধ্যা ৭ টার সময় বাসার সামনে গিয়ে কলিং বেল চাপতেই তিশা দড়জা খুলে দিলো। এই প্রথম বার ওকে এতো কাছ থেকে দেখলাম।
আমি যেকোনো দায়িত্বের ব্যাপারে খুব যত্নশীল। তাই মনে মনে ভাবলাম ওকে আমার ভালোবাসার কথা আর কখনো বলবো না। এখন আমি ওর শিক্ষক। দায়িত্ব আমার কাছে সবচেয়ে বড়।
তিশা সালাম দিয়ে বললো, স্যার ভেতরে আসেন। আমাকে চেয়ার এনে দিয়ে বসতে বললো। আমি বসে পরলাম। তিশা ও বইখাতা নিয়ে বসে পরলো। টেবিলের এক পাশে তিশা আরেক পাশে আমি বসেছি। একটু পরে তিশার মা ঘরের ভেতর থেকে আসলো। আমি সালাম দিলাম। সেও খুব আন্তরিকভাবে কিছুক্ষণ আমার সাথে কথা বললো। তিশা কোন কোন বিষয়ে দুর্বল তাও বললো। স্কুলে সাপ্তাহিক পরীক্ষা নেয়। আগের ২ সপ্তাহের পরীক্ষায় ৩০ এর মধ্যে একবার ১৬ এবং একবার ১৮ পেয়েছিল। আমি তিশাকে বললাম সাপ্তাহিক সিলেবাস দেখাতে। সিলেবাস দেখে নিয়ে সেই অনুযায়ী পড়াই। পরের সপ্তাহের পরীক্ষায় ক্লাসে তিশা সর্বোচ্চ নাম্বার ২৯ পেয়েছে। সেদিন তিশা খুব খুশি হয়েছে। তার বাবা মাও অনেক খুশি হলো। আমাকে অনেক ধন্যবাদ দিলো।
এভাবেই ক্লাসে প্রতি সপ্তাহে তিশা সর্বোচ্চ নাম্বার পায়। ওর বাবা মা আমাকে অনেক ভালোবাসে। রাতে তিশাকে পড়ানো শেষ করলে না খাইয়ে ছাড়ে না। তাছাড়া বাসায় স্পেশাল কিছু আনলে আমাকে দাওয়াত দেয়। তাদের পরিবারের একজন মনে করে সবাই আমাকে ভালোবাসে।
আগের দিন কয়েকটা অংক করতে দিয়েছিলাম। আজ এসে দেখি সেগুলো করেনি।
আমি : অংক গুলো করোনি কেনো?
তিশা: স্যার ভুলে গিয়েছিলাম (ভয়ে ভয়ে বললো)
আমি : একটা ধমক দিয়ে বললাম কান ধরো। তাহলে পরে সব মনে থাকবে।
তিশা একটু লজ্জা পাচ্ছিলো। তবুও ভয় পেয়ে দুই হাত দিয়ে দুই কান ধরলো। আমি বললাম এভাবে দুই মিনিট ধরে থাকো।
দুই মিনিট পর কান ছাড়তে বললাম। তারপর ছেড়ে অংক করা শুরু করলো।
চলবে........
পরবর্তী পার্ট.....
একটা মিষ্টি প্রেমের গল্প (পর্ব ২)
869
Views
21
Likes
3
Comments
4.4
Rating

সকল মন্তব্যগুলো (3)
darun Hoyeche👍👍👍👍👍👍👍👍
একটু দ্রুত দিন প্লিজ
পরের পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম 😍😍😍