, সবুজে ঘেরা একটি গ্রাম। সেই গ্রামেই থাকত রাশেদ নামে এক কিশোর। রাশেদ পড়াশোনায় ভালো ছিল, কিন্তু তার মনে সবসময় একটা প্রশ্ন ঘুরত—এই পৃথিবী কে তৈরি করেছে? কেন মানুষ জন্মায়, কেন মরে?
একদিন বিকেলে রাশেদ মাঠে বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। সূর্য ধীরে ধীরে ডুবে যাচ্ছে, পাখিরা নীড়ে ফিরছে। হঠাৎ তার মনে প্রশ্ন জাগল, “এত সুন্দর এই পৃথিবী, এটা কি নিজে নিজেই তৈরি হয়েছে?”
পরদিন সে গ্রামের মসজিদের ইমাম সাহেবের কাছে গেল।
—“হুজুর, একটা প্রশ্ন করব?”
—“অবশ্যই, বলো রাশেদ।”
—“এই পৃথিবী কে তৈরি করেছে? আমরা কেন এখানে?”
ইমাম সাহেব মৃদু হেসে বললেন,
—“এই প্রশ্নের উত্তরই হলো ‘তাওহীদ শিক্ষা’। তাওহীদ মানে একত্ব—আল্লাহ এক, তাঁর কোনো শরিক নেই। এই আকাশ, পৃথিবী, মানুষ—সবকিছু তিনি সৃষ্টি করেছেন।”
রাশেদ মন দিয়ে শুনতে লাগল।
—“তুমি যখন একটা ঘর দেখো, তখন কি মনে হয় সেটা নিজে নিজে তৈরি হয়েছে?”
—“না, কেউ না কেউ তো বানিয়েছে।”
—“ঠিক তেমনি, এই বিশাল পৃথিবীও নিজে নিজে তৈরি হয়নি। এর একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন—তিনি আল্লাহ।”
রাশেদের চোখে যেন নতুন আলো জ্বলে উঠল।
ইমাম সাহেব আরও বললেন,
—“তাওহীদ শুধু বিশ্বাস নয়, এটা জীবনের পথ। তুমি যখন বুঝবে আল্লাহ এক, তখন তুমি অন্যায় থেকে দূরে থাকবে, ভালো কাজ করবে, কারণ তুমি জানো—আল্লাহ সব দেখছেন।”
সেই দিন থেকে রাশেদ বদলে যেতে শুরু করল। আগে সে ছোটখাটো মিথ্যা বলত, বন্ধুদের সাথে ঝগড়া করত। এখন সে নিজেকে ঠিক করতে লাগল।
একদিন তার বন্ধু সোহেল তাকে বলল,
—“তুই এত বদলে গেলি কেন?”
রাশেদ শান্তভাবে বলল,
—“আমি বুঝেছি, আমরা একা না। আমাদের একজন স্রষ্টা আছেন, যিনি সব দেখেন। তাই আমি চাই, আমি যেন ভালো মানুষ হতে পারি।”
ধীরে ধীরে গ্রামের অন্য ছেলেরাও রাশেদের কাছ থেকে শিখতে শুরু করল। তারা নামাজ পড়তে লাগল, মিথ্যা বলা ছেড়ে দিল, একে অপরকে সাহায্য করতে লাগল।
কয়েক মাস পর, শান্তিপুর গ্রাম যেন সত্যিই শান্ত হয়ে উঠল।
একদিন সন্ধ্যায় রাশেদ আবার সেই মাঠে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকাল। আগের মতোই সূর্য ডুবছে, কিন্তু আজ তার মনে কোনো প্রশ্ন নেই—বরং এক গভীর শান্তি।
সে মনে মনে বলল,
“হে আল্লাহ, তুমি এক, তুমি ছাড়া আর কেউ নেই। আমাকে সবসময় সঠিক পথে রেখো।”
আর সেই মুহূর্তে, রাশেদ বুঝতে পারল—
তাওহীদ শুধু জ্ঞান নয়, এটা হৃদয়ের আলো, যা মানুষকে সত্যের পথে চালিত করে।

কোন মন্তব্য নেই