আপনি কতো সুন্দর


রাত গভীর হলে, চারপাশ যখন নিস্তব্ধ হয়ে যায়, তখন আমাদের ভেতরের কণ্ঠস্বরটা যেন আরও জোরে শোনা যায়।
আমরা অনেকেই তখন নিজের সাথে এক কঠিন লড়াইয়ে নামি—
একটা অদৃশ্য কষ্ট, একটা লুকানো হীনমন্যতা…
আমরা আয়নার সামনে দাঁড়াই, কিন্তু শুধু নিজের চেহারা দেখি না—
আমরা দেখি অপূর্ণতা, দেখি তুলনা, দেখি অন্য কারো মতো না হওয়ার ব্যর্থতা।
এই দুনিয়া আমাদের শিখিয়েছে—
সুন্দর মানে নিখুঁত চেহারা, উজ্জ্বল গায়ের রঙ, আকর্ষণীয় গঠন, মানুষের প্রশংসা।
আর এই মাপকাঠিতে দাঁড়িয়ে আমরা নিজেরাই নিজেদের ছোট করে ফেলি।
কিন্তু আমরা কি কখনো থেমে ভেবেছি—
আমাদের সৃষ্টিকর্তা আমাদের সম্পর্কে কী বলেছেন?
নীরবতার মাঝেই যেন কুরআনের বাণী ভেসে আসে—
❤️لَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنسَانَ فِي أَحْسَنِ تَقْوِيمٍ
“নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সর্বোত্তম আকৃতিতে সৃষ্টি করেছি।”
(সূরা আত-তীন: ৪)❤️

এটা শুধু একটি বাক্য নয়—এটা আমাদের পরিচয়।
আমরা “অপূর্ণ” নই, আমরা “সেরা আকৃতিতে” তৈরি।
তাহলে সমস্যা কোথায়?
সমস্যা হলো—
আমরা নিজেদেরকে আল্লাহর কথার আলোয় দেখি না,
বরং মানুষের চোখের অন্ধকারে বিচার করি।
আমরা ভুলে যাই, সৌন্দর্য শুধু বাহ্যিক কিছু না।
এটা অন্তরের বিষয়, ঈমানের বিষয়, তাকওয়ার বিষয়।
এই সত্যটাকে আরও স্পষ্ট করে দেন রাসূল ﷺ—
“❤️নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের চেহারা ও ধন-সম্পদের দিকে তাকান না, বরং তিনি তোমাদের অন্তর ও আমলের দিকে তাকান।”
(সহীহ মুসলিম, হাদিস: ২৫৬৪)❤️

তাহলে আমাদের ভয় কিসের?
মানুষ কী বলবে—নাকি আল্লাহ কী দেখবেন?
আমরা কখনো কখনো এমন জায়গায় পৌঁছে যাই,
যেখানে মনে হয়—
“আমাদের কোনো মূল্য নেই…”
এই ভাবনাটা শুধু ভুল না—এটা বিপজ্জনক।
কারণ কুরআনে আল্লাহ স্পষ্ট করে বলেছেন—
❤️وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ
“নিশ্চয়ই আমি আদম সন্তানকে সম্মানিত করেছি।”
(সূরা আল-ইসরা: ৭০)❤️

আমরা সম্মানিত।
আমাদের মূল্য আছে।
এটা মানুষের দেওয়া কোনো ট্যাগ না—এটা আল্লাহর ঘোষণা।
তবুও আমরা নিজেদেরকে ছোট করি কেন?
আমরা অন্যদের সাথে নিজেদের তুলনা করি।
আমরা এমন কিছু পেতে চাই, যা আল্লাহ আমাদের জন্য নির্ধারণ করেননি।
আমরা নিজের ভেতরের সৌন্দর্যকে উপেক্ষা করি।

কিন্তু আসল সৌন্দর্য কোথায়?
✅যখন আমরা গুনাহ থেকে নিজেকে বাঁচাই—সেখানে সৌন্দর্য।
✅যখন আমরা কারো কষ্ট বুঝে পাশে দাঁড়াই—সেখানে সৌন্দর্য।
✅যখন আমরা একা থাকলেও আল্লাহকে ভয় করি—সেখানে সৌন্দর্য।
✅যখন আমরা রাতের অন্ধকারে নীরবে দোয়া করি—সেখানে সৌন্দর্য।

এই সৌন্দর্য চোখে দেখা যায় না,
কিন্তু আসমানে তা নূরের মতো জ্বলে।
আমাদের সমস্যার সমাধান তাই একটাই—
আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে।
আমরা যদি নিজেদেরকে মানুষের চোখে দেখি,
তাহলে কখনোই সন্তুষ্ট হতে পারবো না।
কিন্তু আমরা যদি নিজেদেরকে আল্লাহর চোখে দেখতে শিখি,
তাহলে শান্তি পেয়ে যাবো।
আমরা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে শুধু চেহারা না দেখে—
নিজেদের ঈমান, নিয়ত, আমল—এসবকেও দেখার অভ্যাস করি।
আমরা অন্যদের সাথে তুলনা করা ছেড়ে দিই।
কারণ আল্লাহ আমাদের প্রত্যেককে আলাদা করে, বিশেষভাবে সৃষ্টি করেছেন।
আমরা তাকওয়াকে গুরুত্ব দিই।
কারণ এটাই সেই সৌন্দর্য, যা কখনো নষ্ট হয় না।

আর আমরা আল্লাহর সাথে সম্পর্ক ঠিক করি।
কারণ যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে প্রিয় হয়ে যায়,
সে কখনো “অসুন্দর” হতে পারে না।
শেষ রাতে, যখন সবকিছু থেমে যায়…
আমরা যদি সিজদায় গিয়ে বলি—
“হে আল্লাহ,
আমরা এতদিন মানুষের চোখে নিজেদের বিচার করেছি…
আজ থেকে আমরা আপনার চোখে নিজেদের দেখতে চাই।”
তখনই পরিবর্তন শুরু হবে।


আমরা যদি নিজেদেরকে অসুন্দর ভাবি,
তাহলে আমাদের আবার ভাবতে হবে—
আমরা কার সৃষ্টি।
যিনি আমাদের বানিয়েছেন, তিনি বলেছেন—
আমরা সেরা আকৃতির।
আর যিনি আমাদের বিচার করবেন, তিনি দেখবেন—
আমাদের তাকওয়া।
তাহলে…
নিজেকে প্রশ্ন করি,এতো কিছুর পরও কি আমি সত্যিই অসুন্দর?

✍️ Ripon Khan ✍️
60 Views
1 Likes
0 Comments
5.0 Rating
Rate this:
(1)

মন্তব্য

কোন মন্তব্য নেই