বাবা কেস

বাবা কেস
অঙ্ক ১: বাবার দরবার

চরিত্রসমূহ:

বাবা দিব্যজ্যোতি — এক রহস্যময় ভণ্ড সাধু

রামেশ্বর — গ্রামের সরলপ্রাণ কৃষক

মঞ্জু — রামেশ্বরের মেয়ে, সন্দেহপ্রবণ

ডি.এস.পি. রুহুল — সাহসী পুলিশ অফিসার

ভক্তরা — সাধারণ মানুষ যারা বাবাজির অন্ধ ভক্ত

কনক — বাবাজির চেলী, তার প্রতারণার অংশীদার

শিবনাথ — বাবাজির পুরনো বন্ধু, এখন পুলিশের সহযোগী


দৃশ্য ১: বাবার দরবার

(স্টেজের মাঝখানে ধূপ, আলো, মঞ্চে সাদা কাপড় পেঁচানো, বাবাজি ধ্যানরত অবস্থায় বসে আছেন। পাশে কয়েকজন ভক্ত বসে কীর্তন করছে।)

রামেশ্বর (দ্বিধাভরে):
বাবা... আমার গরু তিনদিন ধরে নিখোঁজ। আপনি বললে ও ফিরে আসবে নিশ্চয়ই?

বাবা দিব্যজ্যোতি (চোখ বন্ধ করে):
ওম হরং... গাভী তোমার পূর্বজন্মের কর্মফল...
তোমার জমিতে পাথর ছিল, মাটি খুঁড়ো, উত্তর পাবে।

রামেশ্বর:
(চোখ বড় বড় করে) আহা! কী অলৌকিক শক্তি! আমি এখনই খুঁড়ি।

(পেছন থেকে মঞ্জু আসছে ধীর পায়ে, বাবাজিকে লক্ষ্য করছে সন্দেহভরে।)

মঞ্জু:
(চুপি চুপি) বাবা, তুমি বিশ্বাস করো এই লোকটার কথা?
গত সপ্তাহে গ্রামের মুদি বলছিল, এই বাবা রাতে মোবাইলে ফেসবুক চালায়।

রামেশ্বর:
(অস্থিরভাবে) চুপ কর! বাবাজি সব শুনতে পান। ওনার অভিশাপ লাগলে সর্বনাশ হবে।

(হঠাৎই পেছন থেকে পুলিশের সাইরেন বাজে। ঢুকে পড়েন ডিএসপি রুবিনা।)

ডিএসপি রুহুল :
(উঁচু স্বরে)
সবাই সরো! এই বাবাজি একজন প্রতারক। তার বিরুদ্ধে ৩টি মেয়েকে প্রতারণা করে টাকা নেওয়ার অভিযোগ আছে।

বাবাজি:
(ভণ্ডামি করে)
ওম হরং! এ হচ্ছে মায়ার খেলা... মায়ার পুলিশ...

ডিএসপি রুহুল :
(ঠাণ্ডা গলায়)
আর তোমার মায়ার খেলাও শেষ। গ্রেপ্তার করা হচ্ছে তোমাকে!

(বাবাজিকে গ্রেফতার করা হয়। ভক্তরা স্তব্ধ হয়ে যায়। মঞ্চে ধীরে ধীরে আলো কমে আসে।)


---

অঙ্ক ২:

(মঞ্চে আলো ফের বাড়ে। ডিএসপি রুহুল অফিসে বসে, তার সহযোগী শিবনাথ তার কাছে এসে দাঁড়ায়।)

শিবনাথ:
রুহুল, এই বাবাজির পুরো চক্রটা এতদিন ধরে চলছিল। কেউ জানত না, কিন্তু তার প্রতারণা এখন প্রকাশ্যে এসেছে। সারা দেশে তার নামে ভক্তরা টাকা পাঠাচ্ছিল।

ডিএসপি রুহুল:
(কাগজপত্র পড়ে)
তবে এটা একটা বড় জালিয়াতি ছিল। শুধু লোকজনের টাকা নয়, এমনকি সে মেয়েদের জীবনও নষ্ট করেছে। বাবাজি নিজের জাল-জোকিয়াস দিয়ে পুরো সমাজের উপর নিজের আধিপত্য তৈরি করেছিল। কনক নামে তার একটি চেলী ছিল, যাকে সে বাড়িতে রেখে নিজের সঙ্গে কাজ করাতো।

(মঞ্চে কনক আসেন। তার মুখে আতঙ্ক, হাতে বাঁধা রশি।)

কনক:
(কাঁপছে)
আমি জানতাম না এটা হবে! আমি শুধু... আমি শুধু কিছু টাকা চাইছিলাম... বাবাজির পেছনে ছিল অনেক কিছু, কিন্তু এখন... এখন আমি শুধু ভয় পাচ্ছি। আমার জীবন শেষ হয়ে যাবে!

ডিএসপি রুহুল :
(কনককে শান্ত করে)
কনক, তুমি যদি সঠিক তথ্য দাও, তোমার শাস্তি কম হতে পারে। এখনই আমাদের একমাত্র পথ হলো সবকিছু উন্মোচন করা। বাবাজির সাথে তোমার সম্পর্ক, তার প্রতারণা, সবই প্রকাশ্যে আনতে হবে।

(ডিএসপি রুহুল ও শিবনাথ বাবাজির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র প্রস্তুত করতে থাকে।)


---

অঙ্ক ৩

(গ্রামের এক ছোট মাঠে লোকজন জমে গেছে। রামেশ্বর, মঞ্জু, ও অন্যান্য গ্রামবাসী সেখানে উপস্থিত।)

রামেশ্বর:
(বিষণ্নভাবে)
দূর! এত বছর ধরে আমি বিশ্বাস করেছিলাম এই লোকটিকে, আর সে আমাদের সাথে এমন করেছে। আমাদের ধর্ম, আমাদের বিশ্বাস—সব কিছু নিঃশেষ করে দিয়েছে!

মঞ্জু:
(কড়া গলায়)
এখন আমাদের প্রতিবাদ করতে হবে। শুধু বাবা দিব্যজ্যোতির মতো প্রতারক নয়, আমাদের মধ্যে যারা এই ধরনের মানুষদের সমর্থন করেছে, তাদেরও প্রশ্নের সম্মুখীন করতে হবে।

(ডিএসপি রুহুল এবং পুলিশ বাহিনী গ্রামবাসীদের সমর্থন নিয়ে বাবাজির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।)

ডিএসপি রুহুল :
(গ্রামবাসীদের উদ্দেশ্যে)
আজ থেকে আমাদের কাজ শুধু বাবাজির শাস্তি নয়, এই সমাজে অন্ধবিশ্বাস ও ভন্ডামির বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করা।

(মঞ্চে আলো ফিকে হয়ে আসতে থাকে, এবং গ্রামবাসী একটি প্রতিবাদী আন্দোলনে যোগ দিতে প্রস্তুত হয়।)


---

অঙ্ক ৪:

(বাবাজির কোর্টে উপস্থিতি। তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ। বাবাজি অসহায়ভাবে দাঁড়িয়ে আছেন, তার ভক্তরা সবার সামনে আছেন।)

বাবাজি:
(কাঁপছে)
এটা কি ঠিক হলো? আমি কি এমন কিছু করেছিলাম, যার জন্য আমাকে এই শাস্তি পেতে হবে?

ডিএসপি রুহুল :
(কঠোরভাবে)
তুমি শুধু অন্যদের জীবন নষ্ট করেছো, তাদের বিশ্বাসকে অপমানিত করেছো। এখন তুমি শাস্তি পাবে।

(মঞ্চে ঘোরাফেরা শুরু হয়, বাবাজি তার অপরাধ স্বীকার করে নীচু মাথায় দাঁড়িয়ে থাকে। মঞ্চের আলো ধীরে ধীরে কমতে থাকে।)


---

শেষ দৃশ্য:

(মঞ্চে আলো ফিরলে দেখা যায়, রামেশ্বর ও মঞ্জু গ্রামবাসীদের সঙ্গে মঞ্চে দাঁড়িয়ে আছেন।)

মঞ্জু:
(শান্তভাবে)
আজ আমরা শিখেছি, আমাদের বিশ্বাস আমাদের নিজের দায়িত্ব। ভণ্ডদের মোকাবেলা করতে, আমাদের সাহস ও সচেতনতা প্রয়োজন।

রামেশ্বর:
(গর্বিতভাবে)
হ্যাঁ, সত্যি কথা বললে, আমরা সবাই এখন আরও শক্তিশালী, আরও সচেতন। আমাদের সমাজের উন্নতি হবেই, একদিন।

(মঞ্চে আলো ধীরে ধীরে কমে আসে।)

37 Views
0 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this:
(0)

মন্তব্য

কোন মন্তব্য নেই