সৌমিক:বাহ!তোদের ঘরটা তো দারুন।তা এখানে কবে শিফট হলি???
আমি:এই তো, যখন অর্পিতার সঙ্গে আমার বিয়ে হলো, তখন থেকেই এখানে থাকি।
নয়ন:এই সৌমিক দেখ, এদের রেলিং থেকে চারপাশটা কতো সুন্দর লাগছে।
(নয়ন রেলিং এ দারিয়ে আমাদের বাড়িটার চারপাশটা দেখছে।সৌমিক আর নয়ন আমার ক্লাসমেট ছিল, সাথে আমার ভাইও। তারা আজ চার বছর পর প্রথম বার এখানে এসেছে।
সৌমিক: আমার তো ইচ্ছে করে এখানেই সারাজীবনের জন্য থেকে যাই।
আমি:তো থেকে যা না আমাদের সাথে। (চাপা গলায় বললাম)
সোমিক:কিছু বললি তুই??
আমি:কই নাতো, কিছু না। চল সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে। ফ্রেশ হয়ে নে আমি খাওয়ার কিছু ব্যবস্থা করছি।
নয়ন:আরে রাখতো। কতদিন পর তোর সাথে দেখা। কোথায় একটু আড্ডা মারবো, তা না....
সৌমিক :আচ্ছা প্রভাশ, বউদিকে কোথাও দেখতে পাচ্ছি না কেন???
কোথাও গিয়েছে নাকি???
নয়ন: হ্যাঁ তা-তাই তো। অর্পিতা বউদি কি কোথাও গিয়েছে নাকি???
আমি:আরে একটু দারা, আমাকে বলতে তো দিবি। তোদের বউদি কোথাও যায় নি। সে ওই পাশের ঘরেই আছে।
নয়ন:কিন্তু বের হচ্ছে না কেন???জ্বরটর এসেছে নাকি??
আমি:সময় হোক, ঠিকই বেরিয়ে আসবে।
সৌমিক:সময় হোক মানে?? তোর বউ কি সেই কালি ঘাটের পিশাচ নাকি যে টাইম দেখে চলে। ঠিক রাত ১০ টা।
(এটা বলে সৌমিক আর নয়ন হালকা হেসে উঠলো।)
আমি:তোদের মজা করা হয়েছে!এবার যা ফ্রেশ হ।আমি রাতের খাবারের ব্যবস্থা করছি।
(এই বলে আমি উঠে এলাম। তারাও যে যার রুমের দিকে এগিয়ে গেল।তাদের দুজনের রুম পাশাপাশিই।)
সৌমিক:বুঝিনা এই চাবিতে সবসময় জল কোথা থেকে আসে।
নয়ন :জল...
সৌমিক :হ্যাঁ, দেখ না, যাই তালায় চাবিটা ঢুকালাম অমনি কোথা থেকে যেন চাবিটা জলে ভিজে গেলো।
নয়ন:আজ কি তুই খেয়েছিলি নাকি রে...
সৌমিক:আরে না, আজ মদটদ কিছু খাই নি।
নয়ন:তো অমন ভুল বকছিস কেন? দেখাই তো যাচ্ছে তালা চাবি দুটোই একদম সাফ।
সৌমিক :কি জানি...
তারা দুজনেই ঘরে ঢুকে গেলো। কিন্তু তারা এটা দেখতে পেলো না যে তারা ঘরে ঢোকার পরই দুজনের তালা থেকে এক ধরনের কালো তরল বেরিয়ে আসছে।
................রাত ৯:৩০ ...............
তিন জনই খাবার টেবিলে বসে আছে। আমি উঠে সৌমিক আর নয়নের খাবার বেরে দিতে লাগলাম।
নয়ন:আচ্ছা প্রভাশ!তুই অর্পিতার খোঁজ পেলি কিভাবে???
আর তুই বিয়েও করলি তবু একটাবার আমাদের বললিও না।
সৌমিক:হুমমম। তার উপর চার বছর পর আমাদের কথা মনে পড়লো তোর। এতো দিন কি করলি???
আমি তাদের খাবার দিয়ে নিজেও খেতে বসলাম।
আমি: আচ্ছা তাহলে শোন!কিভাবে আমি এখানে এলাম।
সময়টা ছিল ছিল, ২০২৩সালের ডিসেম্বরের শেষের দিকে। আমি পড়া শেষে একটা ডেলিভারি ম্যানের চাকরি পাই। জানিস তো বাবা অসুস্থ ছিল সেই সময়। বাবার ওষুধের জন্য হলেও তো টাকা লাগতো। তাই চাকরি টা নিয়ে ছিলাম।
একদিন রাত ৯টার সময় একটা অর্ডার এলো। আর তা রাতেই দিতে হবে।
সেইদিন ডিউটিতে আমিই শেষ ডেলিভারি ম্যান ছিলাম তাই আমাকেই যেতে হলো।
আমি প্রায় পৌনে ১০টার সময় সেই বাড়িতে গেলাম। আশপাশে আর কোনো বাড়ি দেখতে পেলাম না।
তখন একটু ভয়ও লাগলো। এই শুনশান জায়গায় অমন একটা বাড়ি। তাও আবার রাতে অর্ডার।
নিজেকে শান্তনা দিলাম, কিচ্ছু হবে না। সাহস করে বাড়ির বেল বাজাতে গেলাম। বেল বাজাবে এমন সময় মেয়েলি একটা কণ্ঠস্বর ভেসে এলো ভেতর থেকে।
বেল বাজাতে হবে না। দরজা খোলাই আছে। ভেতরে চলে আসেন।
আমি প্রথমে ঘাবড়ে গেলাম। পরে শান্ত হয়ে ভেতরে ঢুকলাম।
কোথাও কাউকে দেখতে পেলাম না।
আমি এভাবেই চারিদিকে তাকিয়ে বলতে লাগলাম,,, আপনার একটা পার্সেল আছে। দয়া করে এটা নিন আর আমার পাওনা টা দিয়ে দিন।
আমি জানি। (কোথা থেকে বললো ঠিক বুঝতে পারলাম না )
পার্সেলটা ওই পাসের টেবিলের ওপর রাখুন। আর টেবিলের ডান কোণায় দেখুন টাকা রাখা আছে।
আমি পার্সেল টা রেখে টাকাটা নিলাম।
বলছি আমার কাছে তো খুচরো নেই।আ...
পুরোটাই রেখে দিন। বাকিটা আপনার টিপস।
আচ্ছা তাহলে আমি এবার আসি।
(এই বলে আমি বেরিয়ে আসতে লাগলাম। কিন্তু আবার পেছন থেকে ডেকে বললো।)
এই যে শুনুন না। একটা সাহায্য করবেন??
ক-কি সাহায্য...
ওই যে পাশের রুমটা দেখতে পাচ্ছেন না, ওই দরজাটা একটু খুলুন না।
কে-কেনো??
একটু খুলুন না। আপনার বাম পাশের ওই দেয়ালে দেখুন চাবি রাখা আছে। 004 নাম্বার চাবিটা দিয়ে খুলুন না একটু প্লিজ।
আমি আনমনে চাবিটা হাতে নিয়ে দরজাটা খুলে দিলাম।খুলতেই দেখলাম মাটিতে কি যেন পড়ে আছে।
ওই লাল কাপড়টা একটু সরান না ওই পাত্র থেকে।
আমি :কেনো??? সরালে কি হবে???
তোমাকে যা বলছি তা করো তাহলেই তুমি এখান থেকে বেঁচে ফিরতে পারবে।(কর্কশ গলাায় যেন খেকিয়ে উঠলো।
আমি পাত্রটা হাতে নিলাম।
অমনি দরজায় কেউ ঠকঠক আওয়াজ করলো।
দরজা খোলার কোনো প্রয়োজন নেই।তোমাকে যা করতে বলেছি তা করো।
পাত্রর দিকে তাকাতেই আবার দরজায় কেউ ঠকঠক করলো।
বললাম না দরজা খোলার কোনো প্রয়োজন নেই।ও দিকে কান দিও না।
আমি আর ওর কথা না শুনে।
দরজাটা খুললাম।দেখলাম সমনের রুম থেকে একজন বেরিয়ে ঠকঠক করছে।
আমাকে দেখেই চমকে উঠলো। কিছু বলতে যাবে তার আগেই আমার হাতের পাত্র থেকে লাল কাপড়টা এমনি উড়ে গেলো।
আমার সামনেই লোকটার ঘাড়টা মটকে গেলো আর সঙ্গে সঙ্গে দরজাটা বন্ধ হয়ে গেলো।
.....................................
এতক্ষন সৌমিক আর নয়ন দুজনে আমার গল্প শুনছিলো।
নয়ন:তুই যদি ভেতরে থাকিস তো তুই বেঁচে গেলি কীভাবে???
আমি:কে বলেছে আমি বেঁচে গেছি???(বলেই একটা শয়তানি হাসি দিলাম)
দেয়াল ঘড়িতে ১০টার কাটায় তিনবার ঘন্টা বাজলো।
সৌমিক আর নয়ন দুজনেই চকমে গেলো।
সৌমিক:বেঁচে যাসনি মানে???
আমি :চাবি নাম্বার 004 এর দরজার দিকে তাকা একবার।....
সৌমিক আর নয়ন দুজনে একসাথে পেছনে তাকালো।আর তখনি ঘরের সব আলো একসাথে জ্বলা নেভা শুরু করলো।
তারা যা দেখলো তা দেখে দুজেই চমকে উঠলো।
আমি:তোদের বউদিকে দেখতে চেয়েছিলি না, দেখ এবার..
তারা দুজনে দেখলো, যখন আলো জ্বলছে, তখন অপরূপ সৌন্দর্যের এক মেয়ে সাদা শাড়ি পড়া, চুল খোলা অবস্থায় তাদের দিকে হেটে আসছে।
আর আলো নেভা অবস্থায়, রূপ তো দূরের কথা, গালের একপাশের মাংস উঠে গেছে। চুল সব হাওয়ায় উপর দিকে উঠছে, আর পা উলটো দিকে ঘোরানো।
এই আলো জ্বলা নেভায় তাকে আরো বেশি ভয়ঙ্কর লাগছে।
সৌমিক আর নয়ন কিছু ভেবে না পেয়ে জোড়ে একটা চিৎকার দিলো।
~~~~~~~~~~~~~$$$~~~~~~~~~~~~
এই শা*লা চিকন হলেও এর মাংসের টেস্টটা দারুন।
পরেরবার কিন্তু ভালো দেখে আনতে হবে।
অপরূপ সৌন্দর্যে দুজন দুই পাশে বসে আছে।
অর্পিতার হাতে এক হাড় আর মাংস এবং মুখে লেপ্টে থাকা রক্তের ছড়াছড়ি।
পাশ থেকে প্রভাশ বললো।
এরপরের বার ভালো দেখে আনবো আমার জান। (সে তাকে নিজের দিকে টেনে নিলো।আর মাথায় হাত বুলাতে লাগলো।)
.............. ☠️☠️☠️.............সমাপ্ত ............. ☠️☠️☠️.............
প্রিয় পাঠক/পাঠিকাগন🌸
আজ অনেক দিন পর গল্প লিখলাম। জানি না কেমন হয়েছে। সবাই ভুল ত্রুটি মাফ করবেন। আর আমার পাশে থাকার জন্য সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। 🥰🌸

কোন মন্তব্য নেই