বয়সটা এখনো কাঁচা

পলাশ
পলাশ
লেখক
বয়সটা এখনো কাঁচা
বয়সটা এখনো কাঁচা
কবি পলাশ

মা বললো—
ছেলের বাড়ি ভালো
লোকজন নামাজি
খাবার কষ্ট হবে না।

আমি বললাম না কিছু,
আমার খাতা তখনো অর্ধেক লেখা
স্বপ্নের পাতায়
নীল কালি শুকায়নি।

বাবা হিসাব করলেন—
দায়িত্ব কমবে
সমাজ বলবে
“মেয়ে মানুষ বড় হয়েছে।”

আমি আয়নায় দেখি—
চোখে এখনো স্কুলের মাঠ
চুলে এখনো বৃষ্টির গন্ধ
হাতে এখনো কলমের দাগ।

বিয়ের শাড়ি
আমার কাছে
কাফনের মতো লাগে—
অপূর্ণ জীবনের জন্য।

যে বয়সে
বন্ধুরা ভবিষ্যৎ আঁকে
আমি কি
অপরিচিত একটা নাম
ডাকতে শিখব?

যে বয়সে
নিজেকে খুঁজে পাওয়ার কথা
সে বয়সে
কারো ঘরের দায়িত্ব
আমার কেন?

মা,
আমি খারাপ না
আমি শুধু
আরো কিছুদিন
মেয়ে থাকতে চাই—
কারো বউ না হয়ে।

আমার বয়সটা এখনো কাঁচা
স্বপ্নগুলো ভাঙলে
শব্দ হবে
তোমরা শুনতে পারবে না
আমি বাঁচতে পারব না।

— শেষ —

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা:
বয়সটা এখনো কাঁচা কবিতাটি অল্প বয়সে বিয়ের চাপের বিরুদ্ধে এক কিশোরীর নীরব প্রতিবাদ। এখানে মা–বাবা সমাজ ও দায়িত্বের যুক্তিতে বিয়েকে নিরাপত্তা হিসেবে দেখলেও, মেয়েটি নিজের অপূর্ণ পড়াশোনা, স্বপ্ন, পরিচয় খোঁজার সময়—এসব হারানোর ভয় অনুভব করছে।

বিয়ের শাড়িকে কাফনের মতো বলা হয়েছে—যা তার কাছে জীবনের শেষ নয়, বরং অসময়ে স্বপ্নের মৃত্যু বোঝায়। সে খারাপ নয়, বিদ্রোহীও নয়; শুধু কিছুদিন নিজের মতো করে বড় হতে চায়, নিজের স্বপ্ন পূরণের সুযোগ চায়।

মূল ভাবনা:
অপরিণত বয়সে বিয়ে মানে শুধু দায়িত্ব নয়—একটি সম্ভাবনাময় জীবনের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়া।
57 Views
0 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this:
(0)

মন্তব্য

কোন মন্তব্য নেই