প্রেম আমার (পর্ব ৮)

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
প্রেম_আমার
পর্ব_৮
কানিজ ফাতেমা

কোল্ড ড্রিঙ্কস টা খেয়ে মাইশার কেমন যেন লাগছিল। মাইশা চোখের সামনে সব যেন ঘোলা ঘোলা দেখতে পাচ্ছিল। হঠাৎ পিছন থেকে কেউ মাইশার মুখ চেপে ধরে। মাইশা অনেক চেষ্টা করেও নিজের মুখ থেকে তার হাত সরাতে পারছিল না। টেবিলে রাখা গ্লাসের সাথে মাইশার হাত লেগে গ্লাস টা নিচে পড়ে ভেঙ্গে যায়। কিন্তু ভিতরে মিউজিক চলছিল এই জন্য গ্লাস ভাঙ্গার শব্দ কারো কান পর্যন্ত পৌঁছায় নি।এমনকি ভিতরে অন্ধকার ছিল বিধায় কেউ বিষয়টাও খেয়াল করে নি।

লোকটা মাইশার মুখ চেপে ধরে মাইশাকে জোর করে ওখান থেকে অন্যদিকে নিয়ে গেল। তখনই ওখানে আরিয়ান চলে আসে। আরিয়ান মাইশাকে ওখানে না দেখে এদিক-সেদিক খোঁজা খুঁজি শুরু করে। আরিয়ান কয়েকবার মাইশার নাম ধরে ডাকলো কিন্তু ভিতরে মিউজিক চলার কারণে আরিয়ানের ডাক আরিয়ানের কানেই ফিরে আসছিল। আরিয়ান মিউজিক অফ করে দিয়ে রুমের লাইটস অন করতে বলে।হঠাৎ রুমের লাইট অন করাতে লোকটা মাইশা কে নিয়ে পালাতে পারে নি।

আরিয়ান দেখলো মুখোশ পরা একটা লোক মাইশার মুখ চেপে ধরে আছে আর মাইশা কে নিয়ে যাবার জন্য টানা হেচরা করছে।অবস্থা বেগতিক দেখে লোকটা মাইশা কে একটা ধাক্কা মেরে সেখান থেকে দৌঁড়ে চলে যায়। আরিয়ান অফিসের কয়েক টা স্টাফ কে বলল লোকটার পিছু নিতে।রাফাত সহ ভিতরের কয়েকজন লোকটার পিছু নেয়। আরিয়ান মাইশার কাছে গিয়ে দেখল মাইশা সেন্সলেস হয়ে গেছে আর মাইশার কপাল ফেটে রক্ত পড়ছে। কোল্ড ড্রিংকস টা খেয়ে মাইশার কিছুটা নেশা ধরে গিয়েছিল তাই তাল সামলাতে না পেরে ও সেই লোকটার ধাক্কায় ওয়ালের সাথে গিয়ে বাড়ি খেয়েছিল।আরিয়ান দ্রুত মাইশাকে কোলে নিয়ে গাড়িতে তুলে হসপিটালের দিকে চলে যায়।

রাফাত আর অফিসের কয়েকটা স্টাফ অনেক চেষ্টা করেও লোক টাকে ধরতে পারে নি।লোকটা দৌড়ে দ্রুত একটা গাড়িতে বসে চলে গিয়েছিল। আলিয়া বাহিরে রাফাতের জন্য অপেক্ষা করছিল।

রাফাতকে দেখা মাত্রই আলিয়া জিজ্ঞেস করল,
------ লোকটাকে ধরতে পেরেছ।

------ না অনেক চেষ্টা করলাম কিন্তু পালিয়ে গেল। কিন্তু আমি এটা বুঝতে পারছি না এই রকম একটা পার্টিতে এই রকম একটা লোক ঢুকলো কি করে।

------ আচ্ছা এটা নিয়ে পড়ে ভাইয়ের সাথে কথা বল।ভাইয়া মাইশাকে নিয়ে হসপিটালে দিয়ে গেছে দ্রুত হসপিটালে চলো।

হসপিটালে যাবার সঙ্গে সঙ্গে মাইশা কে ইমারজেন্সি রুমে নেয়া হলো।আরিয়ানের মাথায় কিছুই ঢুকছে না কে বা কারা এবং কেন মাইশার ক্ষতি করতে চায়। শত্রুতা থাকলে আরিয়ানের সঙ্গে থাকার কথা কারণ বিজনেস আরিয়ান করে মাইশা নয়।শত্রুতা হবার কথা একমাত্র আরিয়ানের সাথে মাইশা কে কেন তারা মাঝখান থেকে মারতে চাইছে সেটাই বুঝতে পারছে না আরিয়ান।

কিছুক্ষণ পর ডক্টর এসে আরিয়ান কে বলল,
------ she is out of danger.

আরিয়ান একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল।

------ আচ্ছা আমি কি ওর সঙ্গে দেখা করতে পারি।

------ ওনার এখনো জ্ঞান ফেরে নি। আসলে মনে হচ্ছে ওনাকে কেউ নেশা জাতীয় দ্রব্য খাইয়েছিল এবং নেশা জাতীয় কোনো কিছু ওনার নাকে মুখে চেপে ধরেছিল। তাই তার ঘোর কাটতে সময় লাগবে।ঘন্টাখানেক পর ওনাকে বাসায় নিয়ে যেতে পারবেন

ডক্টরের কথা শুনে আরিয়ান যেন কিছুতেই হিসাব মেলাতে পারছে না। মাইশাকে, কে নেশা জাতীয় কিছু খাওয়ালো। আর কেনই বা মাইশার নাকে মুখে নেশা জাতীয় কিছু চেপে ধরেছিল।

কিছুক্ষণ পর রাফাত আর আলিয়া আসলো আরিয়ান এর কাছে।

রাফাত কে দেখেই আরিয়ান জিজ্ঞেস করল,
------ কিরে লোকটাকে কি ধরতে পেরেছিলি।

------ নারে অনেক চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু ধরতে পারি নি।

------ oh shit. Dammit.

রাফাত আরিয়ানের কাঁধে হাত রেখে বলল,
----- শোন মাথা গরম করিস না।

তারপর‌ আরিয়ানের হাতে একটা কাগজ দিয়ে বলল,
------ এটা ধর এটা ওই গাড়ির নাম্বার আমি লিখে এনেছি।

আরিয়ান একজনকে ফোন দিয়ে গাড়ির নাম্বার টা দিয়ে বলল খোঁজ নিতে।

আরিয়া কিছুটা বিচলিত হয়ে আরিয়ানকে জিজ্ঞেস করল,
----- আচ্ছা ভাইয়া এখন বল মাইশার কি অবস্থা।

------ ও এখন আউট অফ ডেঞ্জার ঘন্টাখানেক পর ডক্টর বাসায় নিয়ে যেতে বলেছে।

~~~~~~~~~~~~~

ঘন্টাখানেক পর ওরা মাইশাকে বাসায় নিয়ে গেল কিন্তু ওর নেশার ঘোর এখনো কাটে নি। কেমন যেন একটা ঢুলুঢুলু অবস্থা ওর। বাড়িতে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই মাইশার মামি মাইশাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিল।ওমা হঠাৎ করেই মাইশা ওর মামির হাত ধরে নাচা শুরু করল।ওর মামী চোখ বড় বড় করে মাইশার দিকে তাকিয়ে আছে। মাইশার মামি ওর সাথে নাচছে না দেখে মাইশা ফ্লোরে বসে পড়ে হাত পা ছিটিয়ে দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে লাগলো। ঘরের সবার তো চোখ কপালে উঠে গেল মাইশার এই কান্ড দেখে। আলিয়া মাইশার কাছে গিয়ে মাইশা কে উঠানোর চেষ্টা করলো।

হঠাৎ মাইশা আলিয়ার চুল টেনে বলতে লাগলো,
------ আলিয়া আমার সাথে নাচ না একটু,আমি নাচবো। দেখ আমি কত সুন্দর নাচ পারি।

এই বলে মাইশা সবার সামনে উরাধুরা নাচতে শুরু করল। মাইশার এই কান্ড দেখে ওর মামা দ্রুত ওখান থেকে চলে গেল। ওর মামী আর আলিয়া মাইশা কে শান্ত করার অনেক চেষ্টা করল কিন্তু পারলো না। শেষে আরিয়ান আর সহ্য করতে না পেরে মাইশাকে জোরে একটা ধমক দিল। মাইশা বাচ্চা মানুষের মত ভ্যা ভ্যা করে কেঁদে দিল।

আরিয়ান মাইশার হাত চেপে ধরে বলল,
------ চল ঘরে চল।

মাইশা আরিয়ানের গলার জড়িয়ে ধরে দাঁত বের করে হেসে দিয়ে বলল
------ হি হি হি না আমি যাব না আমাকে কোলে করে দিয়ে আসো।

আলিয়া আর ওর মা ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে মাইশার দিকে।আরিয়ান এই মুহূর্তে কি করবে বুঝতে পারছে না। শুধু মনে মনে আওড়ালো,
------ এই বেসামাল মেয়েকে আমি এখন কি দিয়ে সামাল দেবো। ও তো আমার প্রেস্টিজ একদম প্লাস্টিক করে দিচ্ছে। ইচ্ছা করছে ঠাটিয়ে দুটো চড় মেরে ওর নেশা ছাড়িয়ে দিতে।

মাইশা আরিয়ানের গলা ধরে ঝুলতে ঝুলতে বলল,
------ কই কোলে নাও না।

আরিয়ান হাসবে না কাঁদবে বুঝতে পারছে না। অবস্থা বেগতিক দেখে আরিয়ানের মা ওখান থেকে চলে গেল।

আলিয়া মাইশার কাছে গিয়ে বলল,
------ মাইশা চল তোকে আমি রুমে দিয়ে আসছি।

মাইশা আলিয়াকে সরিয়ে দিয়ে বলল,
------- না আমি তোর সাথে যাব না আমি ওর কোলে উঠে যাব।

------ আর কি করবি ভাইয়া সামলা এবার।

আরিয়ান আর কোনো উপায় না পেয়ে মাইশা কে কোলে তুলে নিল।আরিয়ান মাইশা ‌কে রুমে নিয়ে খাটে শুয়ে দিতেই মাইশা আরিয়ানের গলা জড়িয়ে ধরে আরিয়ানের ঠোঁটে মিশিয়ে দিল। একটা শিহরণের ঢেউ খেলে গেল আরিয়ানের সারা শরীরে। আরিয়ান নিজেকে মাইশার কাছ থেকে ছাড়িয়ে মাইশাকে রেখে চলে আসতে যাচ্ছিল তখনই মাইশা আরিয়ানের হাত টেনে ধরে বলল,
------ কি হলো আমাকে একা রেখে চলে যাচ্ছ কেন। ভালোবাসো না আমাকে।

------ আমার ভালোবাসাটা বুঝিস তুই।

------ হুম বুঝি তো।

------ কি বুঝিস।

------ কাছে এসো বলছি।

আরিয়ান মাইশার কাছে যেতেই মাইশা আরিয়ানকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে নিজের ঠোঁট ওর ঠোঁটে ডুবিয়ে দিল। আরিয়ান ও আর নিজেকে স্থির রাখতে পারল না।মাইশা কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।পাগলের মত কিস করতে লাগলো মাইশাকে। হঠাৎ মাইশার নখের আঁচড় লাগলো আরিয়ানের ঘাড়ে। সঙ্গে সঙ্গে আরিয়ানের হুঁশ ফিরে। আরিয়ান মাইশার কাছ থেকে সরে গিয়ে ভাবতে লাগে,
""" ছি ছি এ আমি কি করছিলাম। মাইশা না হয় নেশা ঘোরে আছে আর আমি সেই সুযোগটা নিচ্ছিলাম ছি ছি।

আরিয়ান চলে যেতে নেবে তখনই মাইশা বলে উঠলো,
------ কি হলো চলে যাচ্ছে কেন আমাকে আদর করবে না।

------ এখন তুই ঘুমা মাইশা অনেক রাত হয়ে গেছে তোর জন্য এখন ঘুমানো টা অনেক দরকার।

------ না আমি তোমার বুকের মধ্যে মাথা রেখে ঘুমাবো। না হলে কিন্তু আমি চিৎকার করবো।

আরিয়ান এবার আচ্ছা বিপদে পড়ে গেল।এই মেয়ে বলে কি ও কি আমার প্রেস্টিজ প্লাস্টিক করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে নাকি। মনে মনে ভাবলো,
"" এখন ও ঘুমানো পর্যন্ত এখানেই থাকি তা না হলে আবার কি করতে কি করে ফেলবে বলা যায় না""।

আরিয়ান মাইশাকে নিজের বুকে জড়িয়ে নিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই মাইশা ঘুমের দেশে পাড়ি জমালো।মাইশার ঘুমন্ত মুখটার দিকে তাকিয়ে আরিয়ান মনে মনে আওড়ালো,
'" এভাবেই চেয়েছি সারা জীবন তুই আমার বুকে থাক। আমাকে সব সময় তোর ভালোবাসা দিয়ে জড়িয়ে রাখ। খুব তাড়াতাড়ি তোকে আমি আমার করে নেব।এতটুকু ক্ষতি তোর আমি হতে দেব না।

কথাগুলো ভাবতে ভাবতে আরিয়ান মাইশার কপালে একটা ভালোবাসার পরশ এঁকে দিল। আস্তে আস্তে মাইশাকে নিজের কাছ থেকে সরিয়ে সুন্দর করে শুইয়ে দিয়ে মাইশার রুম থেকে চলে গেল।

নিজের রুমে গিয়ে আরিয়ান বসে বসে ভাবছে,
""আজকে রাতের কথা মাইশাকে কিছুতেই জানতে দেয়া যাবে না। তাহলে শুধু শুধু নিজেকে দোষ দিবে আর লজ্জায় পড়ে যাবে মেয়েটা।

আরিয়ান আয়নার সামনে দাঁড়ালো। দেখল ওর ঘাড়ে মাইশার নখের আঁচড় পরে গেছে। অনেকটা ভালো লাগা কাজ করছে আরিয়ানের মধ্যে। এই প্রথম মাইশা কে এতটা কাছ থেকে ছুঁয়ে দেখেছে আরিয়ান। সারা জীবনের জন্য মাইশা কে এতটাই কাছে রাখতে চায় সে। কথা গুলো ভেবেই মনে মনে মুচকি হাসলো আরিয়ান।

তখনই আরিয়ানের ফোনটা বেজে উঠলো।আরিয়ান ফোন রিসিভ করতেই যা শুনল তা শোনার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিল না।

চলবে.....

784 Views
16 Likes
2 Comments
4.8 Rating
Rate this: