একটা ছোট শহরের গলিতে, একটা পুরনো বাড়ি ছিল। বাড়িটা সবাই পায় না দেখার কথা বলত। কারণ, সেই বাড়ির ইতিহাসে লুকিয়ে ছিল অনেক রক্তের গল্প।
বাড়ির মালিক ছিলেন প্রবীণ এক ব্যক্তি, যাকে সবাই ‘মাষ্টার বাবু’ বলত। তিনি একদম একা থাকতেন। কখনো কেউ তার বাড়ির ভিতরে ঢুকত না। গিয়ে ফিরে আসত কেমন যেন ভয়ে ভীত হয়ে।
একদিন শহরের কিশোর রিয়াদ বন্ধুদের নিয়ে সেই বাড়ির সামনে দাঁড়ালো। তারা সাহস দেখাতে চেয়েছিল।
"যাই, দেখি কি সত্যি ওই বাড়িতে ভূত আছে," রিয়াদ বলল।
রাত যখন গভীর হলো, তারা মাষ্টার বাবুর বাড়ির দরজায় কড়া নাড়ল। দরজা ধীরে ধীরে খোলা হলো, ভেতর থেকে অন্ধকার আর একটা অদ্ভুত গন্ধ বের হলো — যেন রক্তের গন্ধ।
তারা ভিতরে ঢুকতেই, মাটিতে রক্তের দাগ দেখতে পেল।
রিয়াদ কাঁপতে কাঁপতে বলল,
"এইটা কি? কেউ আহত হয়েছে?"
আচমকাই বাতাসে একটা ঠাণ্ডা ছুঁয়ে গেল। তারা ফিরে যেতে চাইলেও পথ খুঁজে পাচ্ছিল না। একে একে চারপাশ থেকে ফিসফিস আওয়াজ আসতে লাগল,
"রক্ত চাই... রক্ত চাই..."
রিয়াদ দেখতে পেল, মাটির নিচ থেকে রক্তিম হাত বেরিয়ে আসছে। সে চিৎকার করে দৌড়াতে গেল, কিন্তু পায় পিছল করে মাটিতে পড়ে গেল।
আসপাশের অন্ধকার থেকে একটা কণ্ঠস্বর গর্জন করল,
"রক্ত দিয়ে আমি বাঁচি। রক্ত ছাড়া আমি মুক্ত হব না।"
রিয়াদ চোখ মেলতেই দেখতে পেল মাষ্টার বাবুর মুখ, কিন্তু তার চোখ ছিলো লাল জ্বলন্ত আগুনের মতো। মুখ থেকে লম্বা রক্তের ফোয়ারা পড়ছিল।
রিয়াদ আর বাঁচতে পারল না। তার চিৎকার রাতের অন্ধকারে হারিয়ে গেল।
পরদিন সকালে কেউ রিয়াদের আর দেখতে পায়নি।
তবে ওই বাড়ি থেকে একটাই গন্ধ বের হয় — সেই রক্তের গন্ধ, যা কখনো ম্লান হয় না।
রক্ত
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
56
Views
5
Likes
0
Comments
0.0
Rating