প্রেম আমার (পর্ব ৭)

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
প্রেম_আমার
পর্ব_৭
কানিজ ফাতেমা

হঠাৎ মাইশার চোখ গেল ওর ড্রেসিং টেবিলের উপরে রাখা দুইটা শপিং ব্যাগের দিকে।তখনই মাইশার মনে পড়ে গেল এই শপিং ব্যাগে আরিয়ান তো তার জন্য পার্টিতে যাবার জন্য ড্রেস নিয়ে এসেছিল।মাইশা শপিং ব্যাগ টা হাতে নিয়ে টা ড্রেস টা বের করে তো ওর চোখ একদম কপালে উঠে গেল।গ্রে কালারের একটা গাউন।গাউন টার উপরে হোয়াইট কালারের স্টোন বসানো,
জরি সুতার কাজ করা।দেখেই বুঝা যাচ্ছে এটা খুব এক্সপেন্সিভ আর স্পেশাল অর্ডার দিয়ে বানানো। তারপর মাইশা অন্য শপিং ব্যাগটা খুলে দেখল গাউনের সাথে ম্যাচিং করা খুব এক্সপেন্সিভ সব অর্নামেন্টস।

মাইশা গাউন আর অরনামেন্টস গুলোর দিকে তাকিয়ে ভাবছে,
"" এত দামি একটা গাউন আর অর্নামেন্টস আরিয়ান কেন শুধু শুধু কিনতে গেল ওর জন্য।ওর যা ছিল তাতেই তো সে পার্টিতে এটেন্ড করতে পারতো।আরো অনেক কথা ভাবতে লাগলো মাইশা।

তখনই মাইশার রুমে আলিয়া ঢুকলো। আলিয়া গাউন আর অরনামেন্টস গুলো দেখে বললো,
-------ওয়াও কি সুন্দর গাউন আর অর্নামেন্টস।ভাইয়া দিয়েছে নিশ্চয়ই।

মাইশা মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ সূচক জবাব দিলো।

----- সো নাইস।আসলেই ভাইয়ার পছন্দ আছে বলতে হবে।তোকে খুব সুন্দর লাগবে মাইশা এই গুলো পড়লে।

----- ধুর এই গুলোর কি দরকার ছিল বল তো আলিয়া।

------- ছিল ছিল সে তুই বুঝবি না।

------আমার অত বুঝার দরকার নেই।

------- আচ্ছা শোন ভাইয়ার অফিসে একটা কাজ আছে বিধায় ভাইয়া অনেক আগেই অফিসে চলে গেছে। ভাইয়া গাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে আমাদেরকে রেডি হয়ে সময় মত চলে যেতে বলেছে।

------ হুম ঠিক আছে।

আলিয়া মাইশার দিকে তাকিয়ে ভাবছে,
"" তুই কবে যে ভাইয়ার ভালোবাসা টা বুঝবি মাইশা""।

আলিয়া কে মাইশার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে মাইশা ওকে বলল,
------ কি রে এই ভাবে তাকিয়ে আছিস কেন কিছু কি বলবি।

------ না। তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নে।

আলিয়া চলে গেল।মাইশা রেডি হতে শুরু করলো।

~~~~~~~~~~~~~

এদিকে আরিয়ান একটা পুরাতন গোডাউনে ঢুকলো। ঢুকে চেয়ার নিয়ে একজনের সামনে বসলো।ওর সামনের লোকটির মুখ আর হাত-পা বাঁধা। আরিয়ান ঠাস ঠাস করে কয়েকটা থাপ্পড় বসিয়ে দিল তার দুই গালে। আরিয়ানের চোখ দিয়ে যেন আগুন ঝরছে। আরিয়ানের ইচ্ছে করছিল ওর হাতের পিস্তল টা দিয়ে এখানেই ওকে শুট করে মেরে ফেলতে। কিন্তু আরিয়ান তা পারছে না। আরিয়ান ওর মুখের বাঁধন টা একজনকে খুলে দিতে বলল।

আরিয়ান ওর হাতের পিস্তল টা লোকটার সামনে নাড়া চাড়া করতে করতে বলল,
------- কিরে কি ভেবেছিলি? আমি কোনদিন তোকে খুঁজেই পাবো না। তুই ডাইরেক্ট আমার কলিজায় হাত দিয়েছিস। এইবার বল কার কথায় তুই এই কাজটা করেছিলি।

লোকটা চুপ করে আছে কোন কথা বলছে না। আরিয়ান পিস্তল টা ওর কপালের মাঝ বরাবর ধরে ওকে বলল,
------ জাস্ট একবার ট্রিগারে চাপ দেব একটা গুলিই যথেষ্ট তারপর তুই ফিনিশ। আর তোর পরিবার ও শেষ। এবার ঠিক করে ভেবে দেখ কি করবি সত্যি টা বলবি নাকি শেষ হয়ে যাবে।

লোকটা আকুতি মিনতি করে বলতে লাগলো,
------ প্লিজ স্যার প্লিজ আমাকে মারবেন না, আমার পরিবারের কোনো ক্ষতি করবেন না। আমার কিছু হয়ে গেলে আমার পরিবার শেষ হয়ে যাবে।

------ ওকে তোকে আমি মারব না ছেড়ে দেব তার আগে তুই সত্যিটা বল কে তোকে হায়ার করেছিল।Tell me the truth right now.

লোকটা ছোট করে একটা ঢোক গিলে বলল,
------- স্যার আমি ওনার চেহারা দেখি নি। উনার সাথে শুধু আমার ফোনে কথা হয়েছিল। আমার এক লোকের মাধ্যমে উনি মাইশা ম্যাডামের ছবি দিয়ে আমাকে বলেছিলেন উনাকে যেকোনো ওভাবে হয় খুন করতে আর না হয় ঘুম করতে।আমার সেই লোক ও ওনার চেহারা দেখেনি কারণ উনি তখন একটা কালো মুখোশ পড়েছিলো।

------ বুঝতে পেরেছি তোর বাঁচার কোন ইচ্ছে নেই ঠিক আছে তাহলে তোর ইচ্ছেটাই আমি পূরণ করে দেই।

------- না স্যার বিশ্বাস করুন, স্যার আমি সত্যি বলছি। বিশ্বাস না হলে আপনি আমার ফোন টা চেক করে দেখতে পারেন ওই নাম্বার থেকে আমাকে কতবার কল দেয়া হয়েছিল।

আরিয়ান ফোনটা চেক করে দেখলো সত্যিই একটা নাম্বার থেকে ওকে অনেকবার কল দেয়া হয়েছিল। আরিয়ান সেই নাম্বারটা তে কয়েকবার কল দিল কিন্তু বারবার ওই নাম্বারটা সুইচ অফ বলছে। তারমানে সে জেনে গেছে ওর হায়ার করা লোকটা আরিয়ানের কাছে ধরা পড়ে গেছে। কিন্তু কতদিন সে পালিয়ে বাড়াবে আরিয়ানের কাছ থেকে। আরিয়ান যেভাবেই হোক তাকে ঠিক ধরে ফেলবে। তারপর অনেক হিসাব তার সাথে বুঝে নেবে।

আধঘন্টা পর মাইশা রেডি হয়ে আয়নার সামনে দাঁড়ালো। পুরো গাউন জুড়ে হোয়াইট স্টোন আর জরি সুতার কাজ, ম্যাচিং করা কানের দুল, ব্রেসলেট, চুলগুলো কিছুটা উঁচু করে বাঁধা, চোখে হালকা কাজল, হালকা লিপস্টিক, আর হালকা মেকআপ সব মিলিয়ে একদম কিউটের ডিব্বা।

কিছুক্ষণ পর ওরা দু'জন বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল। ওদের গাড়িটা অফিসের সামনে এসে থামল। অফিসের ভিতরে ঢুকতেই মাইশার এক কলিগ সিমা মাইশার কাছে এসে বলল,
------- ওয়াও দোস্ত তোকে তো খুব সুন্দর লাগছে।

সীমা হলো মাইশার খুব ক্লোজ এক ফ্রেন্ড। কিছুদিন আগেই মাইশার রেফারেন্স এ সীমার এই অফিসের চাকরি হয়েছে।

মাইশা, সীমাকে জড়িয়ে ধরল। মাইশা আর সিমা কথা বলছিল। আর আলিয়া অফিসটাকে ঘুরে ঘুরে দেখছিল। হঠাৎ কেউ একজন আলিয়ার হাতে জোরে একটা টান দিয়ে আলিয়াকে একপাশে নিয়ে গেল। আলিয়া চিৎকার করতে যাবে তখনই ওর মুখ চেপে ধরল।
------- আরে আলিয়া কি করছো কি।

সামনে লোক টিকে দেখে আলিয়া রীতিমতো অবাক হয়ে গেল। এই যে তার ভাইয়ের বন্ধু রাফাত। গত কালকে এর সাথেই ছাদে দাঁড়িয়ে কথা বলছিল আলিয়া।

আলিয়া নিজের মুখ থেকে রাফাতের হাত সরিয়ে বলল,
------ একই রাফাত তুমি এখানে। তুমি এখানে কি করছ। ভাইয়া দেখলে কিন্তু সন্দেহ করবে।

রাফাত হেসে দিয়ে বলল,
------- আমি এখানে না আসলে তোমাদের ডিল টা কে সাইন করবে শুনি।

------- মানে!

------- মানে আরিয়ানের ডিল টা আমাদের কোম্পানির সাথেই হচ্ছে।

------- সত্যি।

------ হুম।

হঠাৎ রাফাত আলিয়ার হাত ধরে এক টান দিয়ে নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে নিল। আলিয়া ঠোঁটের সাথে নিজের ঠোট হালকা ছুঁইয়ে দিল। আলিয়া লজ্জা পেয়ে কিছুটা সরে গেল।

------ কি করছো কি এই সব রাফাত।

------ আমার জান টা কে একটু আদর করলাম।

------ হয়েছে হয়েছে এখন চলো যাওয়া যাক মাইশা আমাকে না দেখলে পরে খোঁজাখুঁজি শুরু করবে।

আরিয়ানের চোখ জোড়া মাইশাকে দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল।সেই মুহূর্তে মাইশা ভিতরে ঢুকলো।মাইশার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আরিয়ান।মাইশা ভিতরে ঢুকে দেখল অনেকে কাপল ডান্স করছে।

রাফাত তার এক হাত আলিয়া দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
------can I get the chance, dance with my dream girl.

আলিয়া একটা মুচকি হেসে রাফাতের হাত ধরে সম্মতি জানালো।

একটা স্টাফ এসে সবার হাতে পার্টি মাক্স দিল। কারণ এই টাই পার্টি স্পেশাল রুলস। সবাইকে আজ পার্টি মাক্স পড়েই ডান্স করতে হবে। লাইটস অফ হয়ে গেল আর তখনই একজন ছেলে বলে উঠলো,
------- Hey guys choose your partners.And start your dance.

সবাই যে যার মতো পার্টনার সিলেক্ট করে ডান্স করা শুরু করলো। মাইশা এক পাশে যেয়ে একটা চেয়ারে বসে আছে। মাইশার পাশে আরো কয়েকজন মেয়ে বসেছিল। কিছুক্ষণ পর ওদেরকে এসে কয়েকজন ছেলে ডান্স করতে প্রোপজাল দিতেই ওরা ও ডান্স করতে চলে গেল।

মাইশা এখন একাই বসে আছে।হঠাৎ মাক্স পরা একজন লোক এসে মাইশার দিকে হাত বাড়িয়ে দিল।মাইশা উঠে দাঁড়ালো। হঠাৎ কেউ পিছন থেকে মাইশার হাত এক টান দিয়ে মাইশা কে নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে নিলো।

আর আ*ঙ্গু*ল তুলে সামনে থাকা লোকটিকে বলল,
------she is my partner. So get out form here.

লোকটার গলার কন্ঠ শুনে মাইশা বুঝতে পারল এটা আরিয়ান। মাইশা আরিয়ানের দিকে তাকালো। আরিয়ানকে খুব সুন্দর লাগছিল দেখতে।গ্রে কালারের সুট ,প্যান্ট ভিতরে কালো কালারের শার্ট। স্পাইক করা চুল,সব মিলিয়ে দরুন লাগছিল আরিয়ানকে।

আরিয়ান মাইশার কোমর শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল,
------ কিরে খুব শখ না অন্য কারো সাথে ডান্স করার। আজ দেখব তুই কত ডান্স করতে পারিস।

------ ছাড়ো কেউ দেখে ফেলবে।

------Just shut up.

আরিয়ানের ধমক খেয়ে মাইশা আর কিছু বলল না। ওরা ডান্স করতে লাগলো।প্রায় এক ঘণ্টা ডান্স করার পরে মাইশা অনেকটা হাঁপিয়ে গেল।

------প্লিজ ছাড়ো আমাকে আমার আর ভালো লাগছে না।

আরিয়ান মাইশাকে আরো কাছে টেনে জোরে চেপে ধরে বললো,
------ এই টুকু তেই হাঁপিয়ে গেলে চলবে মাছরাঙ্গা পাখি। তোর তো খুব শখ অন্য কারো সাথে ডান্স করার কর দেখি কত পারিস।

------ দেখো এটা তোমার ভুল ধারণা আমি কারো সাথে ডান্স করার জন্য মত দেইনি। লোকটা আমাকে অফার করেছিল আমি না বলতেই যাচ্ছিলাম তার আগেই তুমি এসে পড়ে ছিলে।

কে শোনে কার কথা।আরিয়ান মাইশাকে জোর করে ধরে আবার নাচতে শুরু করল। বেশ কিছুক্ষণ পর মাইশা আরিয়ানকে করুন গলায় বলল,
------ আমি আর পারছি না প্লিজ।

আরিয়ান মাইশার কানের কাছে মুখ নিয়ে বলল,
------ এরপর থেকে কোন ছেলের ধারে কাছে যাবার চেষ্টাও করবি না। কথাটা মাথায় রাখবি।

আরিয়ান মাইশাকে ধরে নিয়ে একটা চেয়ারে বসালো। একটা ওয়েটার কে বলল এক গ্লাস কোল্ড ড্রিংস দিয়ে দিতে। হঠাৎ আরিয়ানের ফোনটা বেজে উঠলো, আরিয়ান ফোনে কথা বলার জন্য কিছুটা দূরে চলে গেল। আরিয়ান মাইশার কাছ থেকে চলে যেতেই পার্টি মাক্স পড়া একজন মাইশার দিকে তাকিয়ে একটা বাঁকা হাসি দিল। ওয়েটার কিছুক্ষণ পর মাইসাকে এক গ্লাস কোল্ড ড্রিংস এনে দিল।কোল্ড ড্রিংকস টা খেয়ে মাইশার কেমন যেন লাগছিল।

তখনই..…...

চলবে......
800 Views
21 Likes
5 Comments
3.9 Rating
Rate this: