মিশন মিরপুর

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
মিরপুরের বিকেল যখন নেমে আসে, তখন শহরটা যেন নতুন রূপ নেয়। বালি আর গাড্ডায় ঢাকা রাস্তা, গরম গরম ফুচকা আর ভিড়—এর মাঝেই এক অদ্ভুত সুনির্দিষ্ট ছায়া ঘুরে বেড়ায়। সে ছায়ার নাম মিনি।

মিনি, বয়স মাত্র ২৬, মিরপুরের এক জন প্রাক্তন পুলিশ কনস্টেবল। ছোটবেলা থেকেই মিরপুরের অন্ধকার গলি-প্রান্তের গল্প শুনে সে বড় হয়েছে। কিন্তু কিছু বছর আগে অসত্য অভিযোগে চাকরি হারিয়ে, মিনি নিজেই ফাঁসায় পড়েছিল। এখন সে নিজের মতো করে অপরাধের সঙ্গে লড়ছে, একটি ছোট্ট ডিটেকটিভ এজেন্সি চালিয়ে।

কিন্তু আজ মিনি এমন এক ঘটনায় জড়িয়ে পড়বে, যা মিরপুরের গলি, হকারস্টল, বস্তি—সবকিছুকে কাঁপিয়ে দেবে।


---

সকালে মিরপুরের খ্যাতিমান ব্যবসায়ী জয়নাল হক নিখোঁজ হয়। তার বাড়ি থেকে একটি গোপন ল্যাপটপ হারিয়ে যায়, যেখানে ছিল মিরপুরের বড় বড় অপরাধীদের গোপন তথ্য। পুলিশ প্রথমে ধরে নিল, এটা হয়তো একটি সাধারণ অপহরণ। কিন্তু মিনি জানত, এর পেছনে কিছু বড় চক্রান্ত আছে।

মিনি তার পুরনো নেটওয়ার্ক, মিরপুরের রিকশাওয়ালা, মুদি দোকানদার থেকে শুরু করে স্কুলছাত্রদের মধ্য দিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে থাকে। তার তদন্তের প্রথম ধাপ, জয়নালের অফিসের পাশে থাকা ‘বড়ুয়া টিফিন সেন্টার’। সেখানে সে জানতে পারে, জয়নালের সঙ্গে কিছু গোপন মিটিং হয়েছিল মিরপুরের এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের এক নেতা ও একজন অজানা সাদা পোশাকের ব্যক্তির।

রাত হয়ে আসে, মিনি গোপনে ওই নেতার বাড়ির কাছে গিয়ে অপেক্ষা করতে থাকে। হঠাৎ দেখল, একটা গাড়ি এসে থামল, আর সাদা পোশাকের ওই ব্যক্তি অন্ধকার গলিতে গা ঢাকা দিল।

মিনি সিদ্ধান্ত নিল তাকে অনুসরণ করবে। কিন্তু সেই সময়, পেছন থেকে দুইজন ছায়া তার দিকে এগিয়ে আসল। সে বুঝল, তার পরিচয় ফাঁস হয়ে গেছে। কিন্তু মিনি বুদ্ধি আর কসরত দিয়ে পালিয়ে গেল।


---

পরের দিন, মিনি জয়নালের ঘর থেকে পাওয়া একটি ল্যাপটপের চাবির সন্ধান পেল মিরপুরের পুরানো সেকেলে একটি গুদামে। গুদামটিতে ঢোকার পর, সে দেখল অনেকগুলো বড় বড় অপরাধের দল মিলে মিরপুরের জলদস্যুদের মতো কাজ করছে।

সেই গুদামের নিচতলায় ছিল জয়নালের আটক হওয়ার আসল কারণ — একটি কালো বাজার, যেখানে মানব পাচার, অস্ত্র কারবার আর মাদকবিক্রি চলত। আর এই চক্রের মূলে ছিল মিরপুরের এক নাম করা ব্যবসায়ী, যাকে কেউ সাহস করে স্পষ্ট বলতে পারে না।

মিনি নিজের জীবন বিপন্ন করে সে গুদামের ভিতরে পৌঁছাল। তার মোবাইলে হঠাৎ ফোন এলো, অপরাধীদের এক নোঙর ছেলে বলল, “তুমি পিছে হটো না, আমরা তোমার সব গোপন ঠিকানা জানি।”

তখন মিনি ভাবল, শুধু পুলিশের কাছে না গিয়েই নিজে তদন্ত শেষ করতে হবে।


---

মিরপুরের তার পুরনো পুলিশ সাথীদের সাহায্যে, মিনি সেই রাতে গুদামের চারপাশে ফাঁদ পেতেছে। পিছুটান মেটানোর জন্য সে নিজের পুরনো পুলিশ ট্যাকটিক আর গলি থেকে গলি তথ্য সংগ্রহের ক্ষমতা কাজে লাগাল।

আর এক রাতে, যখন সব অপরাধীরা গুদামে মিলিত হয়, মিনি সেখানে হঠাৎ হাজির হয়, হাতে ছিল চুরির ভিডিও ফুটেজ এবং জয়নালের গায়েবের গোপন আলাপ রেকর্ডিং।

অপরাধীরা প্রথমে অবাক, পরে তাদের হাবুডুবু শুরু। কিন্তু মিনি ছিল তার রণকৌশলে অটল। সে পুলিশের সঙ্গে চুক্তি করেছিল আগেই।


---

ভোরের আলো ফুটতেই মিরপুর পুলিশের বড় বড় জঙ্গিরা গ্রেফতার হলো। মিনি আবার তার পুরনো পরিচয় ফিরে পেল, আর মিরপুর শহর শান্তি পেল।

মিনি বুঝল, এই মিশন কেবল মিরপুরের নয়, তার নিজের আত্মবিশ্বাসের বিজয়ও বটে।
34 Views
4 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this: