নাগিন ( এক ভয়ানক প্রতিশোধের খেলা)

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
গ্রামে রাত নেমে এলো নীরবতা আর শান্তি। নদীর পাশের বটগাছ যেন আরও গম্ভীর হয়ে উঠেছে, তার শাখাগুলো মৃদু বাতাসে দুলছিল। চাঁদ আর নাগিন একসাথে গ্রামের অন্দরে পাহারা দিচ্ছিল। চাঁদের চোখে তখন এক নতুন দৃঢ়তা ছিল, আর সে বুঝতে পারছিল, তার জীবন আর কখনো আগের মতো হবে না।

কিন্তু শান্তি আর স্থিরতা গ্রামে দীর্ঘস্থায়ী হয় না। দূরের শহর থেকে আসা ধনী ব্যবসায়ী মনজুর আহমেদ নামে এক লোক গ্রামে পৌঁছেছে। সে তার বড় ফ্যাক্টরি বসাতে চায় নদীর পাশে, যাতে লাভ হয় কোটি কোটি টাকা। কিন্তু তার জন্য গ্রামের জমি দরকার। গ্রামের অনেকেই এই জমি বিক্রির লোভে পড়ে গিয়েছে, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ সন্ত্রস্ত ছিল।

মনজুর আহমেদের দলের হাতে ছিল আধুনিক প্রযুক্তি, সশস্ত্র নিরাপত্তাকর্মী, আর স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা। তারা গ্রামের শান্ত পরিবেশকে বিনাশ করে দিতে রাজি ছিল।

একদিন সকালে মনজুর গ্রামে এসে বলল, “আপনাদের জন্য এটা সুযোগ, বড় উন্নয়ন আসছে। যারা বাধা দিবে, তাদের জন্য আর কোন জায়গা থাকবে না।”

গ্রামের মাটির মানুষরা ভয়ে কাঁপছিল। তাদের কেউ সাধ্যমতো প্রতিবাদ করল, কেউ চুপচাপ ছিল। কিন্তু চাঁদ আর তার নাগিন সঙ্গী এই বিপদের জন্য প্রস্তুত ছিল।

নাগিন চাঁদকে বলল, “এই লড়াই আর অর্থের নয়, এটা আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের মাটির রক্ষা। আমরা যদি হারাই, তাহলে আমাদের আত্মা হারিয়ে যাবে।”

তারা গ্রামের সবচেয়ে পুরনো বটগাছের নিচে গেল। নাগিন প্রাচীন মন্ত্র উচ্চারণ করল, আর বাতাসে সুরের মতো একটা জাদুময় গুঞ্জন উঠল। গ্রামের পুকুর থেকে সাপেরা বেরিয়ে আসল, আর বনের গাছে বসবাসকারী পাখিরা হঠাৎ করে আওয়াজ কমিয়ে দিল।

মনজুরের লোকেরা যখন গোপনে জমি দখলের চেষ্টা করল, তারা হঠাৎ অদ্ভুত এক শক্তির মুখোমুখি হল। তাদের শরীর ধীরে ধীরে স্ফটিকের মতো হয়ে যেতে লাগল। তাদের চাহনি তীব্র শীষানাশক বিষাক্ত আগুনের মতো জ্বলতে লাগল।

গ্রামের মানুষের চোখে তখন এক আশ্চর্যের ছাপ পড়ল। তারা বুঝতে পারল, প্রকৃতির রক্ষী এসে দাঁড়িয়েছে। চাঁদ আর নাগিন একসাথে তাদের শক্তি দিয়ে ব্যবসায়ীর দলকে পরাজিত করল।

একদিন গভীর রাতে, ব্যবসায়ীর গডফাদাররা আবার গোপনে গ্রামে ঢুকল। তারা নাকি এক যাদুকরী মন্ত্র হাতে পেয়েছে, যা নাগিনকে ধ্বংস করতে পারবে। কিন্তু তারা জানে না, যে চাঁদ এখন শুধু একজন মেয়ে নয়—সে এই গ্রাম আর নাগিনের শক্তির মিশ্র রূপ।

নাগিন তার আসল রূপ প্রকাশ করল—লম্বা লাল সাপের মতো, গা ঝলমলে আঁশে ঢাকা, চোখে বিষাক্ত আগুন। তার গর্জন গ্রামে নেমে এলো বজ্রস্রোতের মতো। সে বলল, “এই গ্রাম রক্ষার জন্য আমি তোমাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াব।”

গ্রামের মাঠে সেই রাত্রি সেই ভয়ঙ্কর যুদ্ধ হল। ব্যবসায়ীর দল যতই শক্তিশালী হোক, নাগিন ও চাঁদের একত্রিত শক্তি তার থেকে অনেক বেশি ছিল। অবশেষে, সেই যাদুকরী মন্ত্রও ভেঙে গেল, আর ব্যবসায়ীর দল হার মানল।

গ্রামবাসী তখন চাঁদ ও নাগিনের প্রতি শ্রদ্ধা জানালো। তারা বুঝতে পারল, প্রকৃতির সঙ্গে মানবের সম্পর্ক যত গাঢ় হবে, ততই তারা শক্তিশালী হবে।

চাঁদ বলল, “আমাদের মাটির ভালোবাসা আর সাহসই আমাদের সুরক্ষা। আমরা হারাব না।”

গ্রামের বটগাছের নিচে আবার শান্তি নেমে এল, আর নদীর জল আরও মধুর সুর বেজে উঠল।

চাঁদ আর নাগিন থেকে গেল এক অপরিমেয় বন্ধুত্ব, এক চিরন্তন লড়াইয়ের গল্প, যা থেকে শিখা যাবে—ভালোবাসা আর সাহস যে কখনো হারায় না।



সমাপ্ত......................
52 Views
6 Likes
0 Comments
5.0 Rating
Rate this: