প্রেম আমার (পর্ব ৫)

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
প্রেম_আমার
পর্ব_৫
কানিজ ফাতেমা

মাইশা ছাদ থেকে নামতে যাবে তখনই আরিয়ানের সঙ্গে তার ধাক্কা লাগলো। মাইশা পড়ে যাচ্ছিল সঙ্গে সঙ্গে আরিয়ান কোমড় জড়িয়ে ওকে ধরে ফেলে।
-------কিরে দেখে হাঁটতে পারিস না নাকি নতুন করে আবার হাঁটা শিখাতে হবে।

তোর মত একটা আইলা যেখানে থাকবে সেখানে তো ধাক্কা লাগবেই(মনে মনে)

------কিরে উঠবি নাকি এভাবেই থাকবি।

মাইশা সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে স্বাভাবিক করে উঠে দাঁড়িয়ে বলে,
-------শোনো দোষটা আমার নয় দোষটা তোমার। তুমিই এসে আমাকে ধাক্কা মেরেছ আমি নই।

-------চুপ একদম চুপ।ধাক্কা মেরে আবার আমার সঙ্গে তর্ক করছিস।

মাইশা কিছু বলতে যাবে তখনই আরিয়ান ওকে থামিয়ে দিয়ে আবার বলল,
------শোন আগামীকালকে সকাল ১০ টায় খুব ইম্পর্টেন্ট একটা মিটিং আছে অফিসে। আগামীকাল কালকে সকালে খুব দ্রুত অফিসে ঢুকবি ।তাই আর এখানে দাঁড়িয়ে না থেকে দ্রুত ঘুমিয়ে যা।

কথাটা বলেই আরিয়ান ওখান থেকে চলে গেল।কিছুক্ষণ পর মাইশা ও নিচে নেমে গেল।

~~~~~~~~~

পরদিন সকালে মাইশা সহ সবাই খুব দ্রুত অফিসে ঢুকলো।অফিসে ঢোকার কিছুক্ষণের মধ্যেই সবাই মিটিং রুমে উপস্থিত হল।সবাই যে যার মত চুপচাপ বসে আছে। মিটিং রুমে পিন পতন নিরবতা কেউ কোন কথা বলছে না।

নীরবতা ভেঙে আরিয়ান সবার উদ্দেশ্যে বলল,
------ আমি আজকে দারুন একটা খবর এনাউন্স করতে চলেছি।

কথাটা শুনে সবাই একযোগে আরিয়ানের দিকে তাকালো।

------ পি.এল.সি কোম্পানির সাথে আমাদের যে ডিল টা হওয়ার কথা ছিল সেটা ফাইনাল হয়ে গেছে। আমরা খুব বড় একটা প্রজেক্ট হাতে পেতে চলেছি।

আরিয়ানের কথা শুনে সবার মুখে হাসি ফুটে উঠলো। ওদের মধ্যে থেকে নিহা নামের একজন মেয়ে বলে বলে উঠলো,
------- এটা তো অনেক বড় খুশির খবর স্যার।

------- হ্যাঁ অবশ্যই। সেই উপলক্ষে কাল আমাদের অফিসে একটা পার্টি হতে চলেছে।পি.এল.সি কোম্পানির এমডি আসবে আগামীকালকে অফিসে। আর সেখানেই সে ড্রিলটা সাইন করবে।

পার্টির কথা শুনে সবাই আরো অনেক বেশি খুশি হলো। সবাই আরিয়ানের কথা শুনা নিয়ে ব্যস্ত এদিকে রিয়াদ বারবার মাইশার দিকে তাকাচ্ছে। কেউ খেয়াল না করলেও এই জিনিসটা আরিয়ানের চোখ এড়ালো না। আরিয়ানের ইচ্ছে করছিল রিয়াকে ঠাস ঠাস করে কয়েকটা চড় মেরে মিটিং রুম থেকে বের করে দিতে।

আরিয়ান রিয়াদকে জোরে একটা ধমক দিয়ে বলল,
------- মিস্টার রিয়াদ আপনাকে এই মিটিং রুমে ডাকা হয়েছে মিটিংয়ে মনোযোগ দেওয়ার জন্য অন্য কোন দিকে তাকিয়ে থাকবার জন্য নয়।

রিয়াদ আমতা আমতা করে বলল,
------সরি স্যার।

-----এখন থেকে নিজের যে কাজটা ঠিক সে কাজ টাই করবেন। বাড়তি কিছু করার চেষ্টাও করবেন না।

-------জি স্যার।

------এবার যে যার কেবিনে চলে যান আর মন দিয়ে কাজ করুন।

সবাই যে যার কাজে চলে গেল। সবাই রুম থেকে চলে যেতেই আরিয়ান মাইশার উপর রাগে ফেটে পরল । আরিয়ান রাগে কটমট করতে করতে বিড়বিড় করে বলল,

'"এই মেয়েটাকে কিছুই বোঝে না কে ওর দিকে তাকিয়ে আছে, কে ওকে ফলো করছে কিছুই কি ও নোটিশ করে না। এমন কেন এই মেয়েটা এখনো বাচ্চা স্বভাবের'''। ডিসকাস্টিং।🤬🤬

~~~~~~~

বিকালের দিকে,মাইশা নিজের কেবিনে বসে কাজ করছিল তখনই অফিস বয় মাইশার কাছে এসে বলল,
------ম্যাডাম স্যার আপনাকে ডাকছে।

মাইশা আর কিছু না ভেবে দ্রুত আরিয়ানের কেবিনে চলে গেল।
------ আমাকে ডাকছো কেন।

আরিয়ান কিছুটা চোখ গরম করে মাইশার দিকে তাকিয়ে মাইশা কে বলল,
------- এটা অফিস আর এখানে আমি আপনার বস সুতরাং আমাকে স্যার বলে ডাকবেন।

আরিয়ানের কথা শুনে মাইশা চরমভাবে অবাক হল। মাইশা ভাবছে,
-------এর আবার কি হলো? আবার কোন রূপ ধারণ করল। আবার কি ফন্দি ঘুরছে মাথায় আল্লাহ জানে।

আরিয়ান মাইশার সামনে কতগুলো কাগজ এগিয়ে দিয়ে বলল,
------এইগুলো অফিসের কিছু ইম্পরট্যান্ট কাগজ এই গুলোতে সাইন করে দিন।

মাইশা চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে কাগজ গুলোর দিকে।
-------এতগুলো কাগজ সাইন করতে তো আমার আজ সারাদিন লেগে যাবে। আর কত ভাবে যে এই ডেভিলটা আমার উপর অত্যাচার করবে আল্লাহ জানে।

আরিয়ান মাইশাকে একটা কলম এগিয়ে দিয়ে বলল,
------কাগজগুলো পড়ে এখানে বসেই সাইন করে দিন।

"""এই কাগজগুলো পড়ে সাইন করতে গেলে তো আমাকে আজকে আর বাসায় ফিরতে হবে না অফিসেই থাকতে হবে"""(মনে মনে)

মাইশা কাগজের দুই/এক পাতা উল্টিয়ে পড়ার ভান করে কাগজ গুলোতে সাইন করা শুরু করলো। আরিয়ান মাইশার দিকে তাকিয়ে মনে মনে একটা হাসি দিলো। সেই হাসির কারণ একমাত্র আরিয়ান ছাড়া আর কেউ জানে না।

~~~~~~~~

অফিস টাইম শেষে সবাই অফিস থেকে বের হচ্ছিল।মাইশা ও সব কিছু গুছিয়ে বের নেবে তখনই.......

চলবে
1.03K Views
21 Likes
2 Comments
4.8 Rating
Rate this: