সাল ২৩৫৭। পৃথিবীর মানচিত্র পাল্টে গেছে একেবারে। মহাকাশ কলোনিগুলো গড়ে উঠেছে সৌরজগতের নানা গ্রহে, আর সেখানে বসবাস করছে কোটি কোটি মানুষ। পৃথিবীর প্রযুক্তি এমন এক উচ্চতায় পৌঁছেছে যেখানে সময় ও স্থান পেরিয়ে তথ্য বিনিময় করা এখন আর কল্পকাহিনী নয়, বাস্তবতা। তবু মানুষের অন্তরে সেই প্রাচীন প্রশ্নটা থেকে যায় — আমরা কে? কেন এখানে এসেছি? আমাদের জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী?
ফাহিম আলী, আল-নূর প্রজেক্টের প্রধান গবেষক, একজন তরুণ মুসলিম বিজ্ঞানী। তার চেহারায় মেধা আর বিশ্বাসের অনন্য মিশ্রণ ছিল। আধুনিক বিজ্ঞানের সমস্ত আধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়েই কাজ করছিলেন সে, কিন্তু তার হৃদয় ও মন সবসময় ইসলামিক দর্শনের গভীরে ডুবে থাকত। সে বিশ্বাস করত—বিজ্ঞান ও ধর্ম একসাথে চললে প্রকৃত সত্য উন্মোচিত হয়।
“আমাদের গবেষণার মূল লক্ষ্য,” ফাহিম বলত, “বিজ্ঞান আর ইসলামের মধ্যে সেই সেতুবন্ধন খুঁজে পাওয়া, যা মানবজাতিকে সত্য ও ন্যায়ের পথে নিয়ে যাবে।”
আল-নূর ছিল একটি উচ্চতর প্রযুক্তির মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র, যেখানে সময়-স্থান মিশ্রণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে অতীতের মহান মুসলিম বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল। সেই যোগাযোগ থেকে তারা চাইছিল নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা এবং গাইডলাইন।
একদিন ফাহিমের হাতে আসে একটি বিরাট দায়িত্ব—প্রজেক্টের সেই বিশেষ যন্ত্র চালু করার। পুরো দলের মাঝে উত্তেজনা ও অস্থিরতা। কারণ, এটি সফল হলে ইতিহাসের অজানা অনেক সত্য ও জ্ঞান প্রকাশ পাবে।
“সবার সঙ্গেই যেন কাজ সঠিক হয়, আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে,” ফাহিম নিজের মনকে দৃঢ় করল।
যন্ত্র চালু করার সময় পুরো রুমে চুপচাপ নীরবতা নেমে আসে। প্রচণ্ড আলোর ঝলকানি আর প্রযুক্তির গুঞ্জন মাঝে মাঝে বাতাস কাঁপাচ্ছিল। মুহূর্তের মধ্যে একটা কালো চিত্র আস্তে আস্তে স্পষ্ট হতে থাকে। কেউ বলল, “দেখো, ওটা ইবনে সিনা!”
একজন হালকা হাসি সহকারে বলল, “তাই তো, তাঁরই ছায়া আমাদের সামনে।”
ইবনে সিনার কালো ঘন দাড়ি, দীপ্তিমান চোখ, আর চমৎকার বুদ্ধি যেন আবার জীবন্ত হয়ে উঠেছে। সে শান্ত কণ্ঠে বলল, “জ্ঞান কখনো পুরাতন হয় না। বিজ্ঞান আর ধর্মের মধ্যে দ্বন্দ্ব নেই, বরং তারা পরিপূরক।”
ফাহিম গভীর শ্রদ্ধায় বলল, “আপনার পথপ্রদর্শন আমাদের জন্য আলোকবর্তিকা।”
ইবনে সিনা হেসে বললেন, “যে ব্যক্তি তার জ্ঞান ও হৃদয়কে আলোর পথে পরিচালিত করে, সে কখনো হারায় না। তোমাদের প্রযুক্তি যদি মানুষের কল্যাণে ব্যবহার হয়, তাহলে আল্লাহর রহমত সবার ওপর বর্ষিত হবে।”
দলের সবাই মুগ্ধ হয়ে সেই কথাগুলো শুনল। ফাহিমের মনে নতুন দায়িত্বের অনুভূতি জাগল—এখন শুধু প্রযুক্তি নয়, মানবতার কল্যাণই তার মূখ্য লক্ষ্য হতে হবে।
পরবর্তী দিনগুলোতে ফাহিম এবং তার দল কাজ করল সর্বোচ্চ মনোযোগ দিয়ে। তাদের মধ্যে একনিষ্ঠতা গড়ে উঠল, যে কাজ তারা করছে তা শুধু বিজ্ঞানের জন্য নয়, মানব জাতির জন্য।
একদিন সন্ধ্যায়, ফাহিম মসজিদের মেঝেতে বসে ছিলো। তার চোখে অশ্রু জমেছিলো। সে নিজেকে বলল, “বিজ্ঞান হয়তো অনেক কিছু বদলাতে পারবে, কিন্তু শেষ কথা আল্লাহর।” সে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করল, “হে আমার রব, আমাকে এমন শক্তি দাও যাতে আমি সত্য ও ন্যায়ের পথে মানুষের সেবা করতে পারি।”
তার জীবনের মিশন আর পরিষ্কার হয়ে উঠল — বিজ্ঞান ও ধর্মের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে একটি আলোকিত সমাজ গড়ে তোলা।
ফাহিমের বক্তৃতায় একটি বাক্য ছিলো বারবার মানুষের হৃদয়ে গেঁথে গেলো—“বিজ্ঞানই যেখানে মানবতার কল্যাণ করে, সেখানে ইসলামের আদর্শ সেখানে জ্বলজ্বল করবে।”
গল্পের শেষে, ফাহিম তার গবেষণালব্ধ প্রযুক্তি দিয়ে মহাকাশে এমন একটি যন্ত্র পাঠালেন, যা পৃথিবীর চারদিকে আলোর তরঙ্গ ছড়িয়ে দেবে — প্রযুক্তির আলো আর ইসলামের নীতির এক অপূর্ব মেলবন্ধন।
তিনি বললেন, “আমাদের কাজ শুধু প্রযুক্তি নয়, মানবতার সেবায় সেই প্রযুক্তিকে ব্যবহার করা। আল্লাহর রহমত ও নূরের পথে আমরা চলব।”
ভবিষ্যতের আলো
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
56
Views
8
Likes
0
Comments
0.0
Rating