রাইসাঃ আব্বু আরেক টা কথা ?
আঙ্কেলঃ কি ?
রাইসাঃ আমিই রাকিবকে সেদিন চোর সাবস্থ্য করার জন্য টাকা গুলো ওর ব্যাগে রেখে ছিলাম ।
আঙ্কেলঃ কিহ বুঝি নি ।
রাইসাঃ তোমরা ওকে অনেক ভালোবাসতে আর ও গ্রামের ছেলে বলে আমি ওকে সহ্য করতে পারতাম না । তার উপর ওকে তুমি এই বাড়িতে রেখেছো । তাই আমি প্লান করে রাতে টাকা গুলো নিয়ে ওর ব্যাগে রেখে ছিলাম যাতে ওকে তোমরা এই বাসা থেকে বের করে দাও ।
আঙ্কেল সব কিছু শুনে মাথায় হাত দিয়ে অবাক হয়ে বললো,,,,,,,,,
আঙ্কেলঃ এটা আমি কি ভুল করলাম । ছিঃ । আর তোমার এসব করতে লজ্জাও লাগলো না ।
রাইসাঃ সরি আব্বু । আমি বুঝতে পারি নি । এখন আমি আমার ভুল বুঝতে পারছি ।
আঙ্কেলঃ আমাকে সরি বলে কি হবে । যার কাছে ভুল করেছো তাকেই সরি বলবে । আর আমিও তো অনেক বড় ভুল করেছি । যে আমাদের জন্য এতো কিছু করে গেছে তাকে সন্দেহ করাটা মোটেও ঠিক কাজ হয় নি । এখন ওর কাছে ক্ষমা চাইবো কি করে । ও কোথায় থাকে কিছুই তো জানি না ।
রাইসাঃ ও কোথায় থাকে আমি জানি ।
আঙ্কেলঃ কোথায় থাকে ?
রাইসাঃ একটা গাড়ির গ্যারেজে থাকে ।
আঙ্কেলঃ কিহহহ গ্যারেজে । কত কষ্টই না আছে । কালকেই আমরা সবাই যাবো ওর কাছে ক্ষমা চাইতে । আর এই বাসায় ফিরিয়ে আনতে ।
রাইসাঃ ঠিক আছে আব্বু ।
আঙ্কেলঃ হুমম এখন তুমি তোমার রুমে যাও ।
বলেই যে যার রুমে চলে গেল ।
এদিকে,,,,,,,,,,,
আমি গ্যারেজে এসে ফ্রেশ হয়ে কিছু খেয়ে কাজে লেগে পড়লাম । আজকে বাসার সবার কথা অনেক মনে পড়ছে ।
জানি না তারা কেমন আছে । নিশিই বা কেমন আছে । হয়তো আমাকে ভুলে গেছে । কিছুক্ষণ চিন্তা ভাবনার পর একটা ডিসিশন নিলাম ।
তাই হাতের কাজ গুলো সারার পর মহাজনের কাছে গেলাম । যেতেই তিনি বললেন,,,,,
আমিঃ আসসালামু আলাইকুম ।
মহাজনঃ ওয়ালাইকুম আসসালাম । আরে রাকিব যে তুমি তো আসোই না গ্যারেজ ছাড়া । তা আজ কি মনে করে ।
আমিঃ একটা কথা বলতাম যদি অনুমতি দিতেন ।
মহাজনঃ আরে পা*গ*ল ছেলে অনুমতি নেয়ার কি আছে । বলে ফেলো তো । টাকা লাগবে ?
আমিঃ না সেরকম কিছু না ।
মহাজনঃ তাহলে ?
আমিঃ আসলে আমি কালকে সকালে গ্রামের বাড়িতে যেতে চাই । বাড়ির কথা অনেক মনে পড়ছে । দুই বছর হলো বাসায় যাই নি । আর তাদের সাথে যোগাযোগ ও নেই । ফোন ছিনতাই হওয়ার জন্য । আপনাকে তো সব বলেই ছি ।
মহাজনঃ হ্যাঁ মনে আছে । তাহলে তোমার ভার্সিটির ক্লাস ।
আমিঃ ভার্সিটি গরমের কিছুদিন বন্ধ আছে ।
মহাজনঃ আচ্ছা ঠিক আছে যেও । কিন্তু যাওয়ার আগে কাল সকালে আমার সাথে দেখা করে যেও ।
আমিঃ আচ্ছা ঠিক । ধন্যবাদ মহাজন ।
উনি মুচকি হাসলেন । আমিও সেখান থেকে চলে আসলাম । কত দিন পর গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছি । ভেবেই অনেক ভালো লাগছে ।
চাচা চাচিকেও বলতে হবে । না হলে উনারা চিন্তা করবেন । চাচাকে তো এখন পাবো না রিকশা নিয়ে বের হইছে । তাই ভাবলাম রাতে যাবো ।
গ্যারেজে এসে টুকটাক কাজ করে সন্ধ্যায় ফ্রেশ হয়ে চাচার বাসায় চলে গেলাম । গিয়ে দেখি চাচি চুলায় রান্না করতাছে । চাচা তার পাশেই বসে আছে ।
আমিঃ আসসালামু আলাইকুম চাচা চাচি ।
চাচাঃ ওয়ালাইকুম আসসালাম বাপজান । আরে তুমি হঠাৎ এখানে । খুব খুশি হইছি বাপজান তুমি আইছো । তোমার চাচি তোমার কথাই বলছিল ।
আমিঃ কেমন আছেন আপনারা ।
চাচাঃ ভালো আছি বাপজান । তুমি কেমন আছো ?
আমিঃ আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি ।
চাচিঃ তুমি কিন্তু খেয়ে যাবা বাবা ।
আমিঃ অবশ্যই খাবো চাচি । আপনার হাতের রান্না মিস করতেছি বলেই তো এসেছি ।
চাচিঃ অনেক খুশি হইলাম ।
আমিঃ চাচা একটা কথা বলতে আসছি ।
চাচাঃ কি কথা বাপজান কও ? কিছু বিপদ হইছে ?
আমিঃ না চাচা সেরকম কিছু না ।
চাচাঃ তাহলে ?
আমিঃ কাল সকালে আমি গ্রামের বাড়িতে যেতে চাচ্ছি । আপনি যানেন ই তো দুই বছর হলো পরিবারের কাউকে দেখি না । তাই আজ খুব মনে পড়ছে ।
চাচাঃ তুমি আইবা কবে ?
আমিঃ কয়েকদিন পরেই চলে আসবো ।
চাচাঃ ঠিক আছে বাপজান যেও ।
তারপর রাতে চাচা চাচির আর আমি একসাথে ডিনার করে নিলাম । উনার হাতের রান্নার মজাই আলাদা ।
তারপর আরো কিছুক্ষণ উনাদের সাথে আড্ডা দিয়ে রাতে গ্যারেজে ফিরলাম । এসেই ঘুমিয়ে পড়লাম । সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে নিলাম ।
তারপর ব্যাগ গুছিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিলাম । মহাজন দেখা করতে বলেছিল তাই সেখানে চলে গেলাম । গিয়ে বললাম,,,,,
আমিঃ আসসালামু আলাইকুম মহাজন । আমি যাচ্ছি । দেখা করতে বলেছিলেন ।
মহাজনঃ একটু দাঁড়াও ।
বলেই মহাজন ভিতরে চলে গেল । কিছুক্ষণ ফিরে এসে যা বললেন শুনে তো আমি অবাক । কারন উনি বললেন,,,,,,,,,,,,,
মহাজনঃ ..............
""
""
""
চলবে,,,,,,,,,,,,,,
কপি করা কঠোর ভাবে নিষেধ । পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন । ধন্যবাদ ।
গ্রামের মেয়ের ভালোবাসা
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
129
Views
2
Likes
0
Comments
0.0
Rating