ঢাকার পুরান একটা বাড়িতে একা থাকত একটি তরুণী, নাম মিম। সে ছিল একজন শিল্পী, আঁকাআঁকিই তার জীবন। কিন্তু একদিন সে পুরান বাজার থেকে একটা অদ্ভুত আয়না কিনে আনে, যার চারপাশে অজানা ভাষায় কিছু খোদাই করা ছিল।
রাতের পর রাত, সে দেখল সেই আয়নায় কিছু অদ্ভুত ছায়া ভেসে ওঠে। কখনো দেখা যায় একটা বাচ্চা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে, কখনো আবার কেউ পেছন থেকে তাকিয়ে আছে, অথচ ঘরে কেউ নেই।
এক রাতে হঠাৎ আয়নার ভেতর থেকে সেই মেয়েটি বলল,
“আমার ছবি এঁকো... আমাকে মুক্তি দাও...”
মিম ভয় পেয়ে আয়নাটা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখল। কিন্তু তখন থেকেই তার চারপাশে অদ্ভুত ঘটনা ঘটতে থাকে—বাতি হঠাৎ জ্বলে ওঠে, দেয়ালে আঁকা ছবি নড়ে ওঠে, ঘুমের মধ্যে কারো গলার আওয়াজ...
শেষমেশ একদিন সাহস করে মিম আয়নাটির সামনে বসে সেই মেয়েটির ছবি আঁকতে শুরু করে। চোখ, নাক, ঠোঁট—সব একে ফেললেও, মুখের একপাশ আঁকতে গেলেই পেন্সিল ভেঙে যায়।
হঠাৎ আয়না কেঁপে ওঠে, মেয়েটি বলে উঠে,
“তুমি যদি মুখ শেষ না করো... তুমি আমার জায়গায় চলে যাবে!”
মিম ভয় পেয়ে দৌড় দেয়। পরদিন সকালে বাড়িওয়ালারা এসে দেখে—ঘরের মেঝেতে পড়ে আছে একটা ফাঁকা ক্যানভাস, আর আয়নার ভেতর আটকে আছে মিমের প্রতিচ্ছবি, যেটা বাইরে আসার জন্য কাঁদছে।
তারপর থেকে আয়নাটার সামনে দাঁড়ালে মাঝেমধ্যে কেউ কাঁদতে কাঁদতে বলে ওঠে,
“আমার ছবি শেষ করো... আমাকে মুক্তি দাও...”
আয়নার ওপারে
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
94
Views
2
Likes
1
Comments
5.0
Rating