মহাজনঃ উনি কে ? তোমার সাথে এমন ব্যবহার করলো কেন ?
আমিঃ যার গাড়ি ঠিক করলাম সে ?
মহাজনঃ হুমম
তারপর আমি বললাম,,,,,,
আমিঃ বড়লোক বাবার অহংকারী মেয়ে । যে আমাদের মতো গরীবদের দেখতে পারে না । ঘৃণা করে ।
মহাজনঃ আচ্ছা এই টাকাটা তোমার কাছেই রাখো ।
আমিঃ কেন আঙ্কেল ।
মহাজনঃ তুমি ভার্সিটিতে যাও তার খরচ আছে না সেজন্য ।
আমিঃ সেজন্য তো আমি বেতন পাই ই ।
মহাজনঃ রেখে দাও । কাজে আসবে ।
আমিঃ ধন্যবাদ আঙ্কেল ।
ভার্সিটির কথা মনে হতেই ভাবলাম অনেক দিন ভার্সিটিতে যাওয়া হয় না তাই কাল যাবো ।
এদিকে গ্রামের বাড়িতে,,,,,,,,,,,
আজকে রেখা আপুর বিয়ে । বাসায় অনেক আয়োজন চলছে । কিন্তু নিশি সবসময় চুপচাপ মনমরা হয়ে থাকে ।
আব্বুঃ নিশি মামুনি তুমি রেডি হচ্ছো না কেন । বাহিরে যাও মজা করো । দেখছো না সবাই কত আনন্দ করছো ।
নিশিঃ আমার যেতে ভালো লাগছে না বড়আব্বু ।
আব্বুঃ এরকম চুপচাপ মনমরা হয়ে থাকলে আমরা তোমাকেও একদিন হারাবো । আমরা তোমাকে হারাতে চাই না । প্লিজ এভাবে আর থেকো না ।
নিশিঃ বড়আব্বু,,,?
আব্বুঃ হুমম ।
নিশিঃ রাকিব ভাইয়া কি আর কখনো ফিরে আসবে না ।
নিশির কথায় আব্বু এবার চুপ হয়ে গেল । কোনো কথা বলছে না । তারপর নিশি আবার বললো,,,,,,,,,
নিশিঃ বড়আব্বু বলো না ।
আব্বুঃ বাদ দাও না ।
বলেই আব্বু চলে গেল । তারপর নিশি সেই মনমরা হয়ে রেডি হয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানে জয়েন করলো । ধুমধাম করে আপুর বিয়েটা হয়ে গেল ।
এদিকে,,,,,,,,
রাতে আমি গ্যারেজে চুপচাপ টিমটিম আলোই পড়তাছি । হঠাৎ কারো আসার শব্দ শুনতে পেলাম । আমি ভাবলাম হয়তো চোর হবে ।
তাই স্তর অবলম্বন করে এগোতে লাগলাম । কাছে গিয়ে পুরাই অবাক হলাম । কারন ওটা রিকশাওয়ালা চাচা ছিলো ।
আমি তাকে দেখে অবাক হয়ে বললাম,,,,,,,
আমিঃ আরে চাচা এতো রাতে আপনি এখানে ?
চাচাঃ আর বইলো না বাপ । আজকে তোমার চাচি পিঠা বানাইছে । তাই আমাকে জোর করে পাঠালো তোমাকে এগুলো দিয়ে আসতে ।
আমার প্রতি উনাদের এতো ভালোবাসা দেখে চোখ থেকে সত্যিই দুই ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়লো । মাত্র কয়েকদিনের পরিচয়ে একটা গরীব মানুষ কিভাবে আমাকে আপন করে নিয়েছে ।
আল্লাহ হয়তো তাকে সামর্থ্য দেয় নি । কিন্তু অনেক বড় মন দিয়েছে । যেটা অনেক বড়লোকের থাকে না । তারপর আমি চোখের পানি মুছতেই চাচা বললো,,,,,,,
চাচাঃ তুমি কাদছো কেন বাপ কি হইছে আমারে খুইলা কও ।
আমিঃ আরে কিছু না চাচা চোখে কি জানি পড়ছে এখন ঠিক আছি । পিঠা দিন না । চাচি বানাইছে আর আমি খাবো না এটা কি হয় ।
চাচাঃ এই নাও । তাহলে এখন আমি যাই ।
আমিঃ আমার সাথে একটু পিঠা খান না চাচা ।
চাচাঃ না বাপ তুমিই খাও । বাড়িতে খামু নি ।
আমিঃ প্লিজ একটা ।
আমার জোরাজুরিতে চাচা আমার সাথে পিঠা খেল । একটু পর চাচা চলে গেল । আমিও আর কিছুক্ষণ পড়াশোনা করে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়লাম ।
খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে বাহিরে কিছু নাস্তা করে নিয়ে ভার্সিটির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম । অনেক দিন পর আজ ভার্সিটিতে আসলাম ।
একটু ঘোরাঘুরি করে ক্লাসের সময় হলে ক্লাস রুমে চলে গেলাম । ক্লাসে ঢুকতেই রাইসা ওর বন্ধু বান্ধবী দের বলতে লাগলো,,,,,,,,,,
রাইসাঃ কারো গাড়ি নষ্ট হলে বলিস । মিস্ত্রী আসছে ঠিক করে দিবে ।
বলেই সবাই জোরে জোরে হাসতে লাগলো । এক বান্ধবী বললো,,,,,,,
বান্ধবীঃ কি রে রাইসা তোদের বাসার চাকর থেকে সোজা এখন গ্যারেজ মিস্ত্রী হইছে ।
প্রতিদিন এরকম অপমান আর সহ্য করা যায় না । তাই আজ মুখটা খুলেই ফেললাম । তাই তাদের কাছে গিয়ে আমিও বললাম,,,,,,,
আমিঃ আপনারা তো আমার থেকেও আরো বেশী ফকির । নিজের বাবার টাকায় ফুটানি দেখাচ্ছেন । বাবার কেনা গাড়ি দিয়ে ঘুরছেন । কখনো এক পয়সা রোজগার করেছেন । সেই ক্ষমতাও তো আপনাদের নেই । আর আমি কাজ করে নিজের উপার্জন দিয়ে নিজে চলি । এখানে বলতে গেলে সব চেয়ে বড়লোক আমি । আগে এক টাকা রোজগার করে আমাকে দেখান তারপর এই বড় বড় লেকচার ঝাড়েন । ননসেন্স কোথাকার ।
রাইসাঃ এই কি বললি তুই । আমরা ননসেন্স ।
বলেই রাইসা আমার গায়ে হাত তুলতে চাইলো । আর তখনি,,,,,,,,,,,
""
""
""
চলবে,,,,,,,,,,,
গ্রামের মেয়ের ভালোবাসা
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
143
Views
2
Likes
0
Comments
0.0
Rating