রমজান রিওয়াইন্ড

মসজিদের দিকে হাঁটা ধরলাম। রাস্তার দু'পাশে রমজানের এক স্নিগ্ধ নীরবতা। আকাশে তারার মেলা বসেছে, আর ঠান্ডা বাতাস মনটাকে জুড়িয়ে দিচ্ছে। হঠাৎ রাহাত্তার মাথায় যেন নতুন কোনো ফন্দি এলো।

সে আমার কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে বললো, "দোকানে চল।"

আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, "এখন দোকানে কী কাজ?"

"আরে একটু বার্মিজ তো লাগবে!" – রাহা চোখ টিপে বললো।

"বার্মিজ? এই ভরসন্ধ্যায় বার্মিজ দিয়ে কী করবি?" – আমি ভ্রু কুঁচকে তাকালাম।

রাহা আমার কথায় কর্ণপাত না করে দোকানের সামনে গিয়ে হাঁক ছাড়লো, "ও চাচা, চারডা এটম বার্মিজ দেন তো!"

আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। এই ছেলের সাথে থাকলে যে কোনো মুহূর্তে একটা হাসির কাণ্ড ঘটবে, তা আমি ভালো করেই জানতাম। বার্মিজ কেনা শেষ হলে আমরা তাড়াহুড়ো করে মসজিদের দিকে ছুটলাম।

মসজিদে তখন মুসল্লিতে পরিপূর্ণ। ভেতরে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। আমরা কোনোমতে পেছনের দিকে এক কোণে একটু জায়গা খুঁজে নিলাম। ফরজ আর সুন্নত নামাজ শান্তভাবেই শেষ হলো। কিন্তু তারাবিহ শুরু হওয়ার সাথে সাথেই রাহাত্তার আসল রূপ প্রকাশ পেতে শুরু করলো।

প্রথম দুই রাকাত নামাজ শেষ হতেই আমি রাহাত্তার হাত তার প্যান্টের পকেটের দিকে যেতে দেখলাম। আমার সন্দেহ হলো।

"কিরে, এখনই তোর খাই খাই শুরু হয়ে গেল?" – আমি ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করলাম।

রাহা আমার দিকে তাকিয়ে রহস্যময় হাসি হেসে বললো,
"আরে না, একটু এনার্জি দরকার বুঝলি না? লম্বা নামাজ তো!"

আমি হেসে ফেললাম। এই ছেলের অজুহাতের শেষ নেই।
108 Views
2 Likes
0 Comments
5.0 Rating
Rate this:
(3)

মন্তব্য

কোন মন্তব্য নেই