১৪ই ফেব্রুয়ারির অভিশাপ

পলাশ
পলাশ
লেখক

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
নিহা আর রুদ্রের সম্পর্কের বয়স মাত্র তিন মাস। সম্পর্কের শুরু থেকেই রুদ্র খুবই রোমান্টিক ছিল। তবে মাঝে মাঝে নিহাকে শারীরিক সম্পর্কের জন্য চাপ দিতো। নিহা সবসময়ই এড়িয়ে যেত, কারণ সে চেয়েছিল সবকিছু হোক বিয়ের পর।

১৪ ফেব্রুয়ারি সামনে আসতেই রুদ্র আবারও তার আগ্রহ প্রকাশ করল।

— "নিহা, এই স্পেশাল দিনে আমাদের একটু কাছাকাছি আসা দরকার!"

— "না রুদ্র, প্লিজ! আমি চাই বিয়ের পর এসব হোক।"

— "তুমি আমাকে ভালোবাসো না?"

— "ভালোবাসি, কিন্তু..."

— "তাহলে এত ভয় কেন? আমি তো আছি তোমার সাথে সারাজীবন।"

অনেক অনুরোধের পর নিহা রাজি হয়ে গেলো ডেটে যাওয়ার জন্য।

১৪ ফেব্রুয়ারি রুদ্র আর নিহা শহরের বাইরে একটা রিসোর্টে গেলো। রুদ্র খুব যত্ন করে নিহার জন্য ফুল, চকোলেট আর উপহার এনেছিল। সন্ধ্যার দিকে তারা একসঙ্গে সময় কাটাল।

কিন্তু সেদিন রুদ্র মাত্রাতিরিক্ত জেদ ধরল।

— "নিহা, আমি তোমাকে ভালোবাসি। আমাদের তো বিয়েই হবে, তাহলে আর দেরি কিসের?"

নিহা দ্বিধান্বিত ছিল, কিন্তু রুদ্রের কথায় সে যেন বিশ্বাস স্থাপন করল।

— "তুমি কি সত্যিই আমাকে সারাজীবন ভালোবাসবে?"

— "অবশ্যই!"

সেই রাতে সে নিজের সর্বস্ব দিয়ে দিল রুদ্রকে।

এরপর কিছুদিন রুদ্র আগের মতোই ছিল, কিন্তু ধীরে ধীরে বদলে যেতে লাগল। ফোনে কম কথা বলা, দেখা করতে না আসা, অজুহাত দেখানো—এসবই বাড়তে থাকল।

চার মাস পর নিহা টের পেল তার শরীরে কিছু অস্বাভাবিক পরিবর্তন আসছে। মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব। একদিন কলেজে হঠাৎ সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেল।

ডাক্তার পরীক্ষা করে বললেন, "আপনি গর্ভবতী।"

এই কথা শোনার পর নিহার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল।

নিহার বাবা-মা জানতে পেয়ে একদম স্তব্ধ হয়ে গেলেন। তার বাবা রাগে কাঁপতে কাঁপতে বললেন,

— "তুই আমাদের মুখ কালো করে দিলি! আমরা সমাজে কীভাবে মুখ দেখাবো?"

নিহার গালে ঝড়ের মতো চড় পড়ল। তাকে রুমে আটকে রাখা হলো।

বাধ্য হয়ে নিহা রুদ্রকে ফোন করল।

— "রুদ্র, আমি বিপদে পড়েছি। প্লিজ, আমাকে বাঁচাও!"

— "কী হয়েছে?"

— "আমি গর্ভবতী..."

এক মুহূর্তের জন্যও থামল না রুদ্র।

— "এই ব্যাপারে আমি কিছু করতে পারবো না। এটা তোমার সমস্যা, আমার নয়!"

— "কী বলছো? তুমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলে!"

— "আমি এখন এসব নিয়ে ভাবতে পারছি না, নিহা। তুমি নিজেই সামলাও।"

— "রুদ্র, প্লিজ! আমাকে ফেলে যেও না!"

কিন্তু রুদ্র কল কেটে দিলো এবং এরপর আর কখনো নিহার ফোন ধরেনি।

নিহার পরিবার তাকে সমাজের চোখে লজ্জার কারণ হিসেবে দেখতে লাগল। আত্মীয়রা দূরত্ব তৈরি করল, বন্ধুরা মুখ ফিরিয়ে নিল।

একসময় নিহা বুঝতে পারল—ভালোবাসা যদি বিশ্বাস আর সম্মানের উপর ভিত্তি না করে, তাহলে তার পরিণতি হয় ভয়াবহ।

অনেক কষ্টের পর নিহা একদিন ঘর ছাড়ল। নতুন জীবনের সন্ধানে সে অন্য শহরে চলে গেল। শিক্ষাজীবন শেষ করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল।

সে শপথ করল—"আমি একা থাকলেও চলবে, কিন্তু কারও বিশ্বাসঘাতকতার শিকার আর হবো না।"

শেষমেশ, ভালোবাসার নামে প্রতারণার শিকার হলেও, নিহা ভেঙে পড়েনি। বরং সে নতুন এক সংগ্রামী নারীতে পরিণত হলো।

103 Views
3 Likes
0 Comments
5.0 Rating
Rate this: