আংটি রহস্য

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
চারদিক তখন অমাবস্যা রাতের ঘোর অন্ধকার। জনশূন্য নির্জনতা যেন শ্মশানের মতো বিরাজ করছে। আর সেই নীরবতাকে ভেদ করে  শিয়াল-কুকুরের করুন আর্তনাদের চিৎকার  যেন মৃত্যুর বাণী হয়ে কানে প্রতিধ্বনিত হতে লাগলো বার বার।

ঠিক এরই মাঝে হাতে একটা লণ্ঠন নিয়ে ভাঙাচোরা এক রাজ প্রাসাদের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে সৈকত। কেন আর কিভাবেই বা সে এখানে এসেছে তা তার নিজেরও অজানা।

সামনে থাকা রাজপ্রাসাদটাকে দেখে মনে হচ্ছিলো এ যেন সাক্ষাৎ কোনো এক মৃত্যুপুরী। আর সেই মৃত্যুপুরীরই সিংহদ্বারের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে সৈকত।

এমন এক গা ছমছমে পরিবেশের মাঝে দাঁড়িয়ে আশেপাশে তাকিয়ে সৈকত যখন কাউকে খুঁজে পাওয়ার বৃথা চেষ্টা করছিলো, ঠিক তখন হঠাৎ করে আপনা আপনিই খুলে যায় সেই রাজপ্রাসাদের সিংহদুয়ার।

বাইরে দাঁড়িয়ে এবার সৈকত লক্ষ্য করলো এই ঘন অন্ধকারের মাঝেও রাজপ্রাসাদের ওপর তলার একটা ঘরে আলো জ্বলছিলো। আর সেই আলোতেই দেখলো এক অস্পষ্ট নারী মূর্তি তার দিকেই ইশারা করে তাকে রাজ প্রাসাদে প্রবেশের জন্য আহ্বান জানাচ্ছে।

এবার কেই বা এই  মহিলা আর কেনই বা তাকে রাজপ্রাসাদের ভিতরে যেতে ইশারা করলো- এসব প্রশ্ন সৈকতের মাথায় ঘুরপাক খেতে লাগলো। তাছাড়াও অন্ধকার রাতের এই  নির্জন পরিবেশে একা একা এমন ভয়ানক এক রাজপ্রাসাদে প্রবেশ করতেও সৈকতের মন ঠিক সায় দিচ্ছিলো না।


কিন্তু ফিরে যাওয়ারও তো কোনো উপায় নেই। আর তার মাথায় ঘুরতে থাকা হাজারো প্রশ্নের উত্তর হয়তো এই রাজপ্রাসাদে প্রবেশ করলেই মিলতে পারে। তাই আর সাত পাঁচ না ভেবে রাজপ্রাসাদেই প্রবেশের সিদ্ধান্ত নিলো সৈকত।

এবার ভয়ে ভয়ে আশেপাশে তাকিয়ে ধীর পায়ে হেঁটে সিংহদুয়ারের সামনে এসে দাঁড়ালো সৈকত। দরজার সামনে দাঁড়াতেই আচমকা বয়ে আসা দমকা বাতাসের সাথে সাথে এক ঝাঁক বাদুড়ের দল উড়ে গেলো সৈকতের ওপর দিয়ে। হঠাৎ এমনটা হওয়ায় সৈকত বেশ ঘাবড়ে গেলো। তবে তৎক্ষণাৎ নিজেকে সামলে নিয়ে কাঁপা কাঁপা পায়ে  রাজপ্রাসাদে প্রবেশ করলো।

রাজপ্রাসাদে প্রবেশ করে , হল রুমে চোখ পড়তেই সৈকতের চোখ কপালে। কারণ  রাজপ্রাসাদের বাইরের‌ পরিবেশ যতোটা না ভয়ানক ছিল তার থেকেও বেশি বীভৎস আর ভয়ানক পরিবেশ প্রাসাদের ভিতরে ‌।


লণ্ঠনের আবছা আলোয় সে দেখতে পেলো রাজপ্রাসাদের ভিতরে হল রুমের মেঝে এবং দেয়ালের চারপাশে রক্তের সাথে সাথে মানুষসহ বিভিন্ন জংলী হিংস্র পশুরও কঙ্কাল আর হাড় গোড় ছড়ানো ছিটানো। সেই সাথে সাথে কয়েকটা অর্ধ গলিত লাশ পড়ে আছে সিঁড়ির কাছে। একটা বিশ্রী ভ্যাপসা গন্ধে হল- রুমটা ভরে আছে। এমন দৃশ্য দেখে যেন সৈকতের বুকের রক্ত জমাট হয়ে গেলো।

সে তৎক্ষণাৎ রাজপ্রাসাদ থেকে পালিয়ে যাওয়ার জন্য পিছনে ঘুরতেই দেখলো সাথে সাথে নিজে থেকেই রাজপ্রাসাদের সিংহদুয়ার বন্ধ হয়ে গেলো। সৈকত দৌড়ে গিয়ে দরজা ধাক্কাধাক্কি করতে লাগলো। কিন্তু কিছুতেই দরজা খুলতে পারলো না। এমন সময় হঠাৎ সৈকত অনুভব করলো তার ঘাড়ের কাছে জামাটা কেমন ভেজা ভেজা। ঘাড়ে হাত দিয়ে দেখতেই লণ্ঠনের আলোতে লক্ষ্য করলো যে ওটা তাজা রক্ত। এবার সৈকতের অবস্থা বেশ খারাপ হয়ে গেলো। ভয়ে ভয়ে উপরে দিকে তাকাতেই সৈকত যা দেখলো তার জন্য হয়তো কখনোই সে প্রস্তত ছিল না।


সে দেখলো প্রসাদের সিংহদুয়ারে ঝোলানো কতগুলো জংলী পশুর কাটা মাথা। যেন কিছুক্ষণ আগেই মাথাগুলো কাটা হয়েছে। এখনো তাই সেই কাটা মাথাগুলো থেকে  ঝরে পড়ছে তাজা রক্ত।


এই এমনটা হতে দেখে এবার সৈকত প্রচণ্ড ভয় পেয়ে গেলো। তার গা গুলিয়ে উঠলো আর বমি পেল। তাই এদিকে ওদিক ছোটাছুটি করতে লাগলো রাজপ্রাসাদ থেকে পালিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজতে। কিন্তু কিছুতেই সে বাইরে যাওয়ার পথ খুঁজে পাচ্ছিলো না। এতক্ষনে সে বেশ বুঝতে পেরেছিলো যে এই রাজপ্রাসাদে প্রবেশের সিদ্ধান্তটা তার জন্য কত বড় ভুল ছিলো। তাই তাকে বাঁচতে হলে যেভাবেই হোক এখন এখান থেকে পালাতেই হবে।


ভেবে এদিক ওদিকে ছোটাছুটি করার সময়েই হঠাৎ একটা বিকট মেয়েলি হাসির শব্দ কানে ভেসে আসলো সৈকতের।
এক মুহুর্তের জন্য সৈকতের মাথাই কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছিলো এই ভেবে যে এই নির্জন পরিবেশে এমন ভয়ানক রাজপ্রাসাদে কোথা থেকে এই নারী কণ্ঠ ভেসে আসছে?

চলবে.................

396 Views
8 Likes
1 Comments
4.8 Rating
Rate this: