মারিয়ার হুজুর বর

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
আমি এখন তৈরি হয়ে আমার ঘরে বসে রয়েছি।পাশে রয়েছে আপু,মামাতো বোনরা আর বন্ধুরা।

কীরে,মারিয়া!তোর নিশ্চয়ই নার্ভাস ফিল হচ্ছে তাই না?(আপু)

জবাবে আমি শুধু মাথা ঝাঁকিয়ে সায় জানালাম।আপুর কথাটা শুনে হার্টবিট আরও দুইগুণ বেড়ে গেলো।
পাশ থেকে আমার মামাতো বোন সাফা বলল-চিন্তা করিস না,আপু।আর তোর কী ভালো লাগছে না?
আমাদের তো প্রচুর ভালো লাগছে এতো সুন্দর একটা দুলাভাই পেয়ে।

ওই একদম নজর দিবি না।কোনো মেয়ের নজর ওর দিকে পড়লে আমি তার চোখ তুলে নেবো,মুখ ফসকে কথাটা বলে জিভ কাটলাম।এখন এরা আমাকে হাজারটা কথা শোনাবে।😨
ঘরে উপস্থিত সবাই হেসে ফেলল।

নারে,বনু।তোর বরের দিকে আমরা কেউ নজর দিবো না।আমার কী মাথা খারাপ।হেসে কথাটা বলল সাফা।

এই সাফা,তোর মাথা খারাপ কিনা জানি না,আমিন ভাইয়ার মাথা নিশ্চয়ই খারাপ হয়ে যাবে এই পাগলকে সামলাতে গিয়ে।😁😂(আপু)

আমি রাগী রাগী গলায় বললাম - এই আমার বরের মাথায় গন্ডগোল হলে তোদের কী?ওর সুবিধা,অসুবিধা নিয়ে ভাবার জন্য আমি আছি।

সেই তো আমার বোনটা যেনো হঠাৎ করেই কতোটা বড়ো হয়ে গেলো এখন অন্য বাড়ির বউ হতে চলেছে।কতো দ্বায়িত্ব!কর্তব্য!(কাঁপা কাঁপা গলায় বলল আপু)
আমি তাকে জড়িয়ে ধরলাম।আমার গালে হাসি,তবে চোখে পানি জমে গেছে।

এইভাবে বললে আমার কী খারাপ লাগে না?তুমি কিন্তু আমার সাথে দেখা করতে যাবে।(আমি)

আপু কিছু বলার আগেই আমার এক ফ্রেন্ড এসে বলল,এই বর এসেছে।চল গেট ধরবো।

চল,আজ আমিন ভাইয়ার পকেট খালি করবো।(আপু)

সবাই চলে গেলো,থাকলাম শুধু আমি।ঘুরে ঘুরে নিজের রুম দেখতে লাগলাম।হঠাৎ কারোর সাড়া পেয়ে চোখ তুলে দেখি আমার মা এসেছে,হাতে খাবারের প্লেট।

মা?তুমি?(আমি)

হ্যাঁ,তোর ও বাড়ি যেতে নিশ্চয়ই অনেক রাত হয়ে যাবে।সবেমাত্র আমিনরা আসলো।তাই ভাবলাম তোর জন্য খাবার নিয়ে আছি,খিদে পেয়েছে নিশ্চয়ই?হেসে বলল মা।

তাতো প্রচুর পেয়েছে।তবে আজ তুমি আমায় খাইয়ে দেবে।(আমি)

বেশ তাই হবে।বলে মা আমাকে খাইয়ে দিতে শুরু করলো।আমার চোখ বেয়ে তখন অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে।আজ নিজের আপন মানুষগুলোকে ছেড়ে যেতে হবে।
মা আমাকে কাঁদতে দেখে নিজেও কেঁদে ফেলল।
একটু পরে আমাকে সান্তনা দেওয়ার জন্য বলল,,এই কাঁদছিস কেনো?না কেঁদে খাবার শেষ কর।দেখ তোর প্রিয় ইলিশ মাছ আছে।
আমি খেতে খেতেই মাকে জড়িয়ে ধরলাম।

এটা সত্যিই খুব কষ্টের মুহূর্ত ছিলো।কোনোদিন ভুলতে পারবো না।


বিদায়ের সময় আব্বু,আম্মু,ভাইয়া আর আপু কে জড়িয়ে ধরে প্রচুর কাঁদলাম।
ফুপি আর আরিফা আমাকে সান্ত্বনা দিতে লাগলো,আরিফা গাড়িতে আমিন ভাইয়ার পাশে আমাকে বসিয়ে দিলো।
উফ্,আমার মুখ থেকে এখনো ভাইয়া ডাকটা বেরোচ্ছে।এটাকে কন্ট্রোল করতে হবে।
184 Views
2 Likes
0 Comments
5.0 Rating
Rate this: