রহস্যময় বইখানা

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
রাতের ঘন অন্ধকারে শহরের এক প্রান্তে অবস্থিত পুরনো লাইব্রেরি “আলোকদীপ পাঠাগার”। লাইব্রেরি বন্ধ হয়ে গেছে অনেক বছর আগেই। তবে আজ রাতের ঝড়ের মধ্যেই লাইব্রেরির ভেতর থেকে কারো মৃদু ফিসফিসানির মতো শব্দ শোনা গেল।

সেই লাইব্রেরির গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল রাহাত। ছোটবেলা থেকেই সে রহস্যের প্রতি তীব্র আগ্রহী। শুনেছে, আলোকদীপ পাঠাগারের ভেতরে একটা বই আছে, যেটা নাকি পড়লেই মানুষ আর কখনো ফিরে আসে না। লোককথা শুনেই তার মনে হলো, নিজে গিয়ে দেখাটা জরুরি।

গেট ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই রাহাতের মনে হলো, চারপাশ যেন অস্পষ্ট আর অস্বাভাবিক। লাইব্রেরির বাতাস ভারী। বইয়ের তাকে ধুলো জমে আছে, তবে সব বই অক্ষত।

কিন্তু একটা তাকের ওপর রাখা ছিল একেবারে নতুন একটা বই। বইটার নাম—“অবশেষের বই”। রাহাত সেটাই হাতে তুলে নিল।

বই খুলতেই ভেতরে বড় করে লেখা—“যে শুরু করবে, শেষ তাকে করতেই হবে।” নিচে আরো ছোট অক্ষরে লেখা, “পড়তে শুরু করলেই তুমি এই গল্পের চরিত্র হয়ে যাবে। আর তোমার গল্প কেউ শেষ না করা পর্যন্ত তুমি এভাবেই বন্দি থাকবে।”

রাহাত মনে করল, এটা হয়তো কোনো মজার সাহিত্যিক রচনা। কৌতূহল থেকে সে প্রথম পৃষ্ঠাটি পড়তে শুরু করল। কিন্তু একবার পড়া শুরু করার পর সে বুঝতে পারল, গল্পে সে নিজেকেই দেখতে পাচ্ছে। সেখানে লেখা—
"রাহাত নামের এক তরুণ ঝড়ের রাতে লাইব্রেরিতে ঢুকল, হাত বাড়িয়ে রহস্যময় এক বই তুলে নিল। কিন্তু তখন সে জানত না, এই বইটা তার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল হবে।"

হঠাৎই রাহাত বুঝল, বইয়ের প্রতিটি লাইন তার পরবর্তী কাজ নির্দেশ করছে। বইয়ে লেখা হলো—“তোমার এক ঘণ্টা সময় আছে, যদি বইটা ফেরত না দাও, তবে তুমি এই লাইব্রেরির অন্ধকারের অংশ হয়ে যাবে।”

রাহাত ভয় পেয়ে গেল। সে বইটা রেখে পালাতে চাইল, কিন্তু দরজা বন্ধ হয়ে গেছে। পুরো লাইব্রেরি কেঁপে উঠতে লাগল, বইয়ের পৃষ্ঠা দ্রুত উল্টে যাচ্ছে। একটা অদৃশ্য শক্তি যেন রাহাতকে আটকে রেখেছে।

শেষ পৃষ্ঠায় লেখা হলো—“সময় শেষ। এখন তুমি এই লাইব্রেরির নতুন রক্ষক। নতুন শিকার আসার অপেক্ষায় থেকো।”

হঠাৎ করে চারপাশ নিস্তব্ধ হয়ে গেল। লাইব্রেরির গেট খুলে গেল, কিন্তু রাহাত আর কোথাও নেই।

সেই রাত থেকে কেউ কেউ লাইব্রেরির ভেতর অদ্ভুত একটা ছায়ামূর্তি দেখতে পায়। আর “অবশেষের বই” অপেক্ষা করে নতুন কারো জন্য।

শেষ।

205 Views
1 Likes
3 Comments
5.0 Rating
Rate this: