ছায়ামানুষের রহস্য
বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যা। ঢাকার এক পুরনো অলিগলির মধ্যে হারিয়ে যাওয়া এক বাড়ি—“কৃষ্ণবাড়ি।” বাড়িটির চারপাশে ঘন গাছপালা, আর মৃদু ঝড়ের সঙ্গে বাতাসে শোনা যায় অদ্ভুত একটা শব্দ। এই বাড়ির গল্প মানুষের মুখে মুখে—নাকি অভিশপ্ত, নাকি রহস্যময়!
সেখানেই একদিন হঠাৎ হাজির হলো নীলা। তরুণ সাংবাদিক নীলা সবসময়ই অদ্ভুত রহস্যের পেছনে ছুটে বেড়ায়। কৃষ্ণবাড়ির গোপন ইতিহাস শুনে তার জেদ চেপে গেল। সে ভাবল, সত্যি জানতেই হবে।
বাড়ির গেটটা পুরনো লোহার। ধাক্কা দিয়ে খুলতেই নীলা দেখল ঘরের দরজা আধখোলা। “এত বড় বাড়ি, অথচ কেউ থাকে না?” মনে প্রশ্ন জাগল।
ভেতরে ঢুকেই প্রথমে সে একটা অদ্ভুত অনুভূতি টের পেল। যেন কেউ তাকে অনুসরণ করছে। মেঝেতে পুরনো কাঠের শব্দ। কিন্তু পেছনে তাকিয়ে কাউকে দেখা যায় না। হঠাৎ ছায়ার মতো কিছু একটা চোখের কোণে ধরা দিল। নীলা ঘুরে দেখল, সেখানে কিছুই নেই।
নীচের ঘরগুলোর ভেতরে ছিল ধুলো আর শূন্যতা। কিন্তু এক কোণে একটা চিঠি পড়ে ছিল। চিঠিতে লেখা:
"যে সত্য জানবে, সে এখানেই হারিয়ে যাবে।"
নীলা ভেতরে একটা ভয় পেলেও ঠিক করল সে দ্বিতীয় তলায় যাবে। ওপরের ঘরে গিয়ে সে দেখতে পেল পুরনো একটা আয়না। আয়নার সামনে দাঁড়াতেই সেখানে তার প্রতিবিম্বের বদলে অন্য একজনকে দেখা গেল—এক বৃদ্ধ, যার চোখে যেন বিষাদ আর হিংস্রতা একসঙ্গে!
বৃদ্ধ বলল, “তুইও জানতে এসেছিস, তাই না?”
নীলার গলা শুকিয়ে গেল। “আপনি কে?”
বৃদ্ধ হেসে বলল, “আমি সেই প্রথম ব্যক্তি যে এই বাড়ির রহস্য জানতাম। কিন্তু জানার পর আমি আর বের হতে পারিনি। আমার আত্মা আটকে আছে এই আয়নার ভেতর। এখন তুইও…”
কথা শেষ হওয়ার আগেই, আয়নাটা ভেঙে পড়ল। নীলা হঠাৎ দেখতে পেল, তার চারপাশে সবকিছু বদলে গেছে। সে নিজেকে আয়নার ভেতর বন্দি দেখতে পেল। আর আয়নার বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল বৃদ্ধ, এখন মুক্ত!
কৃষ্ণবাড়ির বাইরে কেউ একজন হেঁটে যাচ্ছিল। বাতাসে মিশে ছিল নীলার মৃদু কণ্ঠস্বর, “মুক্তি চাই...”
শেষ।
ছায়ামানুষের রহস্য
230
Views
4
Likes
1
Comments
1.0
Rating

সকল মন্তব্যগুলো (1)
💙💙