মিষ্টি প্রেমের গল্প


-- ভাইরে দেখ, আমার না মাড়ি ফুলে
যাচ্ছে?? (ফাইজা)
-- কেন কি হলো আবার?? (আমি)
-- মনে হয় দাঁত উঠবো??(ফাইজা)
-- সত্যি তাহলে মিষ্টি খাওয়া??
( আমি)
-- তুই কি খারাপ রে,আমার কষ্টের
মাঝে মজা করস।তুই আরো বলবি কি
ভাবে ভালো হবে। ( ফাইজা)
-- ওকে বোন আমি একটা হাতুরি নিয়ে
আসি, এক বারিতে ঠিক হয়ে যাবে।
(আমি)
-- তুই খুব খারাপ যা তুর সাথে কথাই
বলতাম না। (ফাইজা)
-- ওকে টা টা
রাগ করে চলে গেল ফাইজা। মনে হয়
একটু বেশিই রাগ করছে।
আসেন একটু পরিচিত হয়ে নেই। আমি
রাজ, সিভিল ইন্জিনিয়ারিং
পড়াশুনা শেষ করে এখন বাপের
হোটেলের ম্যানেজারি করি। কি আর
করব, দেশে চাকরীর যেই অবস্তা। মামা
কাকা ছাড়া তো চাকরীর কথা ভাবা
যায় না। আর ফাইজা হচ্ছে আমার
আদরের ছোট বোন। এবার ইন্টার ২য় বর্ষে
পরে। মনে হয় আজ দাঁত একটু বেশি
ব্যাথা করছে তাই চুপ করে আছে। নয়ত
ঝগড়া করতে করতে আমারে পাগল করে
দেয়। ওকে এবার গল্পে আসি..........
-- ওই কুত্তা ঘুম থেকে উঠ?? ( ফাইজা)
-- কি হলো এত সকাল সকাল?? এমন
পাগলামী করস কেন??
-- আগে উঠ, তার পর বলছি?
-- হুম বলেন মহারানী??
-- আমাকে কলেজে দিয়ে আয়??
-- মানে??
-- ভাই তোর কানে সমস্যা দিলো কবে
থেকে??
-- মানে??
-- কথা কম বলে রেডি হো। আমার
কলেজের সময় হয়ে যাচ্ছে?
আর কি করব। যাই ঘুরে আসি পাগলীর
সাথে। দুজনেই বাড়ি থেকে বের হয়ে
রিকশা নিলাম। কলেজে এসে রিকশা
থেকে নামলাম।
-- আমার লক্ষী ভাইটি। আমি যাই
কেমন। আর তুই বাড়ি চলে যা।
ফাইজা এটা বলে কলেজে ঢুকলো। আর
আমি চলে আসতে যাবো এমন সময় আমার
চোখটা কোথায় যেন আটকে গেল। ও
ভদ্র ভাবে বললে ক্রাশ খাইলাম। আমি
কোন কথা না বলেই ওই ক্রাশের পিছন
পিছন হাটতে হাটতে কখন যে কলেজে
ডুকে গেলাম মনেই নেই। হাটতে
হাটতে ঘুর কাটলো মহারানীর সাথে
ধাক্কা খেয়ে ( মানে ফাইজার সাথে
ধাক্কা খেয়েছি)। লে হালুয়া, ও মনে
হয় আমাকে দেখেছে ওর পিছন পিছন
আসতে। ইশ খাইছে রে, এবার কি বলি
ওরে.....
-- কিছুওওওও না রে, এমনি ঘুরে ঘুরে
কলেজটা দেখছিলাম। যা ক্লাসে যা।
আমিও যাই বাই
বলেই চুপ করে চলে আসছিলাম। হঠাত ও
বলে উঠলো....
-- ওর নাম সায়মা। আমার ফ্রেন্ড।
-- কে সায়মা?? আমাকে বলছিস কেন??
( একটা অবুঝ লুক নিয়ে, যেন কিছু
জানিই না)
-- ওকে বলবো না আমি যাই।
-- ওকে যা।
ফাইজা একটু দূরে গিয়ে বলল,
-- ওর কোন বয়ফ্রেন্ড নেই। রাস্তা সম্পূর্ণ
খালি, চাইলে লাইন মারতে পারস। আর
ভাবি হিসাবে হেব্বি লাগবো
আমার।
আমি আর কথা না বলে মাথা চুলকাতে
চুলকাতে চলে আসলাম। ওরে নিয়ে
ভাবতে ভাবতে একটা দিন পার করে
দিলাম।
আজ সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠলাম,
এলার্ম দিয়ে রেখে ছিলাম।
-- ওই এত লেট করস কেন। তারাতারি কর।
কলেজের দেরি হচ্ছে তো। (আমি)
-- আজ নিয়ে যেতে হবে না ।
( ফাইজা)
-- না এটা কি করে হয়। আমার বোনটা
ঠিক মত কলেজ গেলো কি না দেখতে
হবে তো।
-- আমাকে দেখে রাখতে যাবি
নাকি সায়মাকে দেখতে যাবি??
-- ইশ খাইছে রে! বুঝে ফেলছে! আরে
না না আমার মিষ্টি বোনরে নিয়ে
যাবো বলেই যাবো।
-- ওকে চল দেখি নবাবের কী
মতিগতি??
-- ওকে এখন চল।
কলেজের সামনে এসে রিকশা থেকে
নামলাম। ওরে বিদায় দিয়ে দাড়াই
আছি সায়মাকে দেখার জন্য। ওই তো
সায়মা আসছে। ওরে যতো দেখি ততই
ভালো লাগে। এই রকম দেখতে দেখতে
প্রায় ৩মাস হয়ে গেলো। ওরে শুধু
দেখেই গেলাম কিন্তু কিছুই বলতে
পারলাম না। মাঝে মাঝে ওর চোখে
চোখ পরছে আর ও একটু হাসি দিসে। ও এত
দিনে জেনে গেছে আমি ওরে
ভালবাসি। মনে হয় মহারানী কিছু
বলছে,
-- এই যে শুনেন??(সায়মা)
-- জ্বী আমাকে বলছেন??
-- হুম এখানে আসেন তো??
-- হুম বলেন।
-- আপনি প্রতিদিন কি আমার জন্য
দাড়াই থাকেন??
-- কই না তো??
-- মানে??
-- মানে আমি আপনার জন্য দাড়াই
থাকি না।
-- তাহলে কার জন্য?
-- আছে কেউ, আপনাকে কেন বলব??
আর কোন কথা না বলে রাগে কটমট
করতে করতে চলে গেলো। ইশ!! কি
করলাম এটা কত দিন পরে যাও কথা বলল
কিন্তু আমি এটা কি করলাম।
বাড়ি চলে আসলাম আর ভাবছি কি
করলাম এটা। কাল একটা চাকরীর
ইন্টারভিউ আছে। তাই মন দিয়ে পরতে
বসলাম। যদিও বার বার ওর কথাই মনে
পরছে তবু পড়তে থাকলাম।
আজ ইন্টারভিউ দিতে যাবো। সবার
সাথেই কথা হলো শুধু সায়মার সাথে
একটু কথা বলতে পারলে ভালো হতো।
হঠাত আমার ফোনে একটা মেসেজ
আসলো
" শুভ কামনা রইলো"
আর মেসেজটা সায়মার নাম্বার
থেকে আসছে কারন ওর নাম্বার আমার
কাছে আছে ( ফাইজার মোবাইল
থেকে চুরি করে নাম্বারটা নিছি।
কেউ ওরে বলবেন না কেমন। কারন ও
জানতে পারলে আমারে কি যে
করবে...... থাক আর বললাম না)
তবে এখনো ওরে এখনো ফোন দিই নাই
এমন কি মেসেজও দেই নাই। যদিও ওর
নাম্বার আমার কাছে আছে। যাই হোক
এখন অনেক ভাল লাগছে....
কপাল ভালো থাকায় রিটেন
পরীক্ষায় টিকে গেলাম। এবার
মৌখিক পরীক্ষায় টিকলেই চাকরী।
মৌখিক পরীক্ষা টা কিছুদিন পরেই।
আজও ফাইজার সাথে আসলাম শুধু ওরে
দেখতে। একদিন না দেখেই মনে হচ্ছে,
কত দিন জানি দেখি নাই। আর এটাই
যদি হয় ভালোবাসা তাহলে আমি
ওরে ভালোবেসে ফেলেছি....
-- এই যে মিষ্টার পরীক্ষা কেমন হলো?
( সায়মা)
-- ভালো রিটেন পরীক্ষায় টিকে
গেলাম কিন্তু আপনি জানেন কি
ভাবে?? ( আমি)
-- ভাল খবর। আর আমি কিভাবে জানি
হয়ত এটা আপনি খুব ভালই জানেন।
-- হুম মহারানী শয়তান বোনটা বলছে
তাই না।
-- হুম, ওরে কিছু বলবেন না। আর বলছে
বেশ করেছে??
-- কেন বলব না। ওরে তো মারবো
পাইলে?
-- কি বললেন। আবার বলেন তো?
-- কই কিছু বলি নাই তো, আমার আদরের
বোন, কিছু কি করা যাবে???
-- এই তো লাইনে আইসেন?? আর হা এমন
করে আর কত দিন দাড়িয়ে থাকবেন
শুনি??
-- যত দিন আপনি চান??
-- সত্যি তো??
-- হুম নিখুঁত সত্যি!!
-- কি কারনে আমার জন্য দাড়িয়ে
থাকবেন??
-- কারনটা তো জানি না??
-- কারন ছাড়া দাড়াতে হবে না। কাল
থেকে আর আসবেন না। আমি চাই কোন
কারন ছাড়া আপনি আর আসেন??
-- আচ্ছা।
-- আচ্ছা ভালো থাকবেন।
আর কোন কথা না বলে সায়মা চলে
গেল। আমিও চলে আসতাছি। মনটা খুব
খারাপ হয়ে আছে। আর দেখা হবে না
সায়মার সাথে এটা ভেবে। মনটা
খারাপ বলে বাড়িতে না গিয়ে বন্ধুর
বাড়িতে চলে আসলাম। দুপুর হয়ে গেছে
এবার বাড়ি যাওয়া যাক।
-- কিরে কলেজ থেকে এসেই টিভি
দেখতে বসে গেছস। যা তো কাজে
যা। ( ফাইজার মাথায় টুকা মেরে
বললাম)
-- এই যে মিষ্টার আমি সায়মা, ফাইজা
না। ( সায়মা)
অন্য দিকে মুখ করে বসে ছিল বলে
বুঝতেই পারি নাই, আর আমিও অন্যমন্যস্ক
ছিলাম তাই ভুল হয়ে গেছে।
-- আপনি এখানে কি করেন??( আমি)
-- মানে কি আমি আমার বান্ধবীর
বাড়ি আসছি। ( সায়মা)
-- হুম আর আমি ফাইজা ভেবে আপনাকে
টুকা দিছে তাই সরি।
-- ইটস ওকে।
আর কথা না বলে ওর সামনে থেকে
চলে আসলাম। রুমে এসে দরজা বন্ধ করে
দিয়ে চুপচাপ শুয়ে রইলাম। আর ফাইজা
আর সায়মা ওদের মন মতো গল্প করছে।
মা খেতে ডাকছে। সবাই এক সাথে
খেতে বসলাম, সায়মাও। সবাই দেখি
সায়মাকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পরেছে।
আমি যে খেতে বসেছি তার দিকে
কারো নজর নেই। তাই কোন মতে
খাওয়া শেষ করে রুমে চলে গেলাম।
ফাইজার ডাকে আবার ওদের কাছে
গেলাম...
-- ভাইয়া একটা হেল্প করবি?? ( ফাইজা)
-- কি বল ( আমি)
-- সায়মাকে একটু বাড়ি পৌছেঁ
দিবি?? ( ফাইজা)
-- যদি ও যেতে চায় তাহলে দিয়ে
আসতে পারি। ( আমি)
-- এমন করে বলছিস কেন??যা বাবা একটু
দিয়ে আয় । ( মা বলল)
-- ওকে আমি রেডি হয়ে আসছি।
রেডি হয়ে ওর সাথে বের হলাম। একটা
রিকশাতে উঠলাম। কখনো সায়মার
এতোটা কাছাকাছি আসি নাই তাই
বসতে একটু অন্যরকম লাগছে। তবুও চুপ করে
বসে আছি। ওরে ওর বাড়ির সামনে
নামিয়ে দিয়ে চলে আসলাম তবু ওর
সাথে একটু কথা বলি নি আর তাকাইও
নি।।
আজ আমার মৌখিক পরীক্ষা তাই
রেডি হয়ে একটু বই দেখছি। এমন সময়
মেসেজ আসলো " শুভ কামনা রইলো "
কেন জানি আজ মেসেজটা দেখে
খারাপ লাগছে তাই ওর নাম
নাম্বারটা ব্লক লিস্টে রেখে দিলাম।
এবারের পরীক্ষাটাও খুব ভালো হইছে
যার কারনে চাকরীটা হয়ে গেলো।
পরশু দিন থেকে জয়েন করতে বলছে।
মাঝখানের দিনটা কেটে গেলো
ওরে ভাবতে ভাবতেই কিন্তু ওরে
দেখতে যাই নি। কারন ও আমাকে
যেতে না করছে।
আজ প্রথম চাকরীতে যাবো তাই মনটা
খুব ভালো কারন কেউ আমাকে বেকার
বলতে পারবে না। নতুন চাকরী নিয়ে
ব্যস্ত হয়ে গেলাম। দেখতে দেখতে এক
সপ্তাহ চলে গেল কিন্তু ওরে আর
দেখতে যাওয়া হয় না । আজ শুক্রবার
তাই বাড়িতে বসে আছি। এমন সময়
দরজায় কলিং বেল বেজে উঠলো।
ফাইজা গিয়ে দরজা খুলল...
-- আরে সায়মা তুই, কি বেপার হঠাত
না বলে চলে এলি। আর তোর চোখ এত
লাল হয়ে আছে কেন? (ফাইজা)
-- কিছু নারে, তোর ভাই কই?? ( সায়মা)
-- ভাই তার রুমেই আছে যা( ফাইজ)
নিজের রুমে শুয়ে আছি,হঠাত সায়মার
আগমন। ওরে দেখার সাথে সাথে উঠে
বসলাম। আমাকে কিছু না বলতে দিয়ে
নিজেই বলতে লাগলো....
-- ওই নিজেরে ভাবস কি তুই??
-- মানে?
-- নেকামী কম করবি। নিজেরে ভাবস
কি। আর কত কষ্ট দিবি। এখন তো নতুন নতুন
সুন্দরী কলিগ পাইছস তাই আমার কথা
কী মনে থাকে। সায়না বেচেঁ আছে
নাকি মারা গেছে একবার খবরও নিলি
না??
-- আস্তে আস্তে বাড়িতে মানুষ আছে
তো, শুনলে কি বলবে??
-- শুনলে শুনবে, ভাববো একটা পাগলরে
মানুষ করছি? ওই দিন তরে কলেজে যাইত
না করসি বলে আর যাস নাই। এটা কি
আমার মনের কথা ছিলো নাকি। ১ টা
সপ্তাহ হয়ে গেছে, জানস এই দিন গুলো
আমার কত কষ্টে কাটছে।
-- ওকে ওকে বাবা সরি তো। অনেক
গুলা সরি।
-- এত দিনের মাঝে একটা ফোন দিলি
না। আর তোরে ফোন দিয়ে দেখি
আমার নাম্বার ব্লক লিষ্টে রাখছস।
কেন এতো কষ্ট দিলি।
-- কি করলে আমার মায়াবতীর রাগ
কমবে।??
-- বেশি কিছু না, শুধু এই বাড়িতে
আমাকে পার্মানেন্টলি আনার
ব্যবস্তা করো। আমি আর তুমাকে ছাড়া
এক সেকেন্ডও থাকতে পারবো না।
-- এটার ব্যবস্তা তোমাদের করতে হবে
না মা। আমি এর ব্যবস্তা করে
রেখেছি। ( মা)
-- মানে ( আমি)
-- তোর সাথে সায়মার প্রেম করিয়ে
দেওয়াটা ছিল আমার প্লেন। কারন
সায়মাকে যখন প্রথম মা দেখে তখন তোর
সাথে সায়মার বিয়ের বেপারে
ওদের বাড়িতে কথা বলে আসে।
( ফাইজা)
-- তার মানে আমার সাথে সবাই...........
.( আমি)
-- শুধু তোর সাথে না, সায়মাও এইসব এর
কিছু জানে না। এখন সায়মা তোমার
শাশুরি মাকে সালাম করো ( ফাইজা)
আমি শুধু চুপ করে আছি। চুপ করে থাকলেও
মনে মনে অনেক খুশি হইসি। এমন মা যেন
সবার ঘরে ঘরে হয়।।
"
" সমাপ্ত। "
32 Views
0 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this:
(0)

মন্তব্য

কোন মন্তব্য নেই