প্রথম দেখা পর্ব (৫)

মাঝে একটা মাস কেটে গেছে...🙂

পৃথার ফাইনাল পরিক্ষা ভালোভাবেই মিটে গেছে। কিন্তু পুলিশ দু-দুটো খুনের কোনও রকম কূল-কিনারা করতে পারেনি প্রমাণের অভাবে তারা কেস ক্লোজ করবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।😓

পৃথা এখন আগের থেকে অনেকটাই স্বাভাবিক হতে পেরেছে। কিন্তু তবুও মেহেদী ঠিক করেছে আরো কিছুদিন তারা রাসবিহারীর এই বাড়িটাতেই থাকবে। পরিক্ষা শেষ হওয়ার পর থেকে মেহেদীকে আর রান্নাঘরে ঢুকতেই দেয় না পৃথা। 😊

পরিক্ষা শুরু হওয়ার এক সপ্তাহ আগে থেকেই পৃথাকে কোনো কাজই করতে দিতো না মেহেদী। কিন্তু এখন হেঁশেলের সব দায়িত্ব একা হাতে তুলে নিয়েছে পৃথা, মেহেদীও এতে আর দ্বিমত করেনি। পুথার হাতের রান্না খেতে তার বেশ লাগে,পৃথাও একেক দিন একেকটা রান্না পরিবেশন করে মেহেদীকে। আবার কখনও মেহেদীর আবদার রাখতে তাকে খাইয়েও দিতে হয়।☺️ এভাবেই ভালোবাসার এক অদৃশ্য বন্ধনে কখন যে তারা আবদ্ধ হয়েছিল তা তারা নিজেরাই বুঝতে পারেনি।🫶🥹

রাত ৮টা বাজে...

নিজের ঘরের ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে চুল বাঁধছে পৃথা। মেহেদী এখনও বাড়ি ফিরেনি। হঠাৎ পাশের ঘরের দরজার আওয়াজ হতেই পৃথা বুঝতে পারে মেহেদী বাড়ি ফিরেছে। মেহেদীর জন্য কাপ বানাতে রান্নাঘরে যায় পৃথা। কপির কাপ হাতে মেহেদীর ঘরে ঢুকে দেখে মেহেদী একটা shorts পরে খাটে বসে মাথা টাওয়াল দিয়ে মুচ্ছে।🤦‍♀️ মেহেদীকে এভাবে দেখে একটু লজ্জা পেয়ে চলে যেতে নেয় পৃথা 🙈। পৃথাকে চলে যেতে দেখে খাটের পাশের টেবিলে কপির কাপটা রাখতে বলে মেহেদী। পৃথা মুখ নিচু করে কাপটা রেখে চলে যেতে নিলে মেহেদী এক টানে পৃথাকে নিজের কোলে এনে বসায়। দু'হাত দিয়ে ওকে জরিয়ে ধরে ঘারের কাছে একটা স্নেহের পরশ এঁকে দেয়।😘

"তোমার জন্য একটা উপহার এনেছি সেটা না দেখেই চলে যাচ্ছ?" বলে পৃথার হাতে রঙিন কাগজে মোরা একটা বাক্স তুলে দেয় মেহেদী।💝

" ঘরে গিয়ে দেখি?😑 "

"না,এখানেই দেখবে 😌"

তাই বাধ্য হয়ে মেহেদীর কোলে বসে wrapping paper টা ছিঁড়ে gift box টা খুলে পৃথা। খুব সুন্দর এক জোরা রুপুর মল দেখতে পেয়ে মনটা ভালোলাগায় ভরে উঠে।😊

"কি হলো পছন্দ হযেছে?"🤔

" হু..."🥹

"তাহলে এতো তাকিয়ে কি দেখছো? " বলেই পৃথার হাত থেকে মলটা নিয়ে নেয় মেহেদী। পৃথার পা দু'টো নিজের কোলের উপরে তুলে আস্তে করে শাড়ি কিছুটা উপরে উটিয়ে বেশ যত্ন সহকারে মল জোরা ওর পাযে পরিয়ে দেয় মেহেদী। 🌸 মেহেদীর প্রত্যেক স্পর্শে কেঁপে কেঁপে ওঠে পৃথা। ❤️‍🔥 ভয়ে দু’চোখ বন্ধ করে নেয় পৃথা। পৃথার দিকে তাকিয়ে ওর মনের অবস্থা বুঝতে পেরে ওর কানের কাছে মুখ এনে বলে, "এখনই এতো লজ্জা পাচ্ছো, বিয়ের পর কি করবে?" 😉 মেহেদী বলা কথাগুলো পৃথার কর্ণগোচর হতেই শীরদাঁড়া দিয়ে ঠান্ডা শ্রোত নেমে যায় পৃথার। আরষ্ঠ কন্ঠে শুধু বলে, নিচে আসো খাবার বাড়ছি। বলেই একচুটে ঘর থেকে বেড়িযে যায় পৃথা। 🤫

ডাইনিং টেবিলে খাবার বেড়ে দিয়ে মেহেদীকে পাশে না বসে কিছুটা দূরত্ব রেখে খেতে বসে পৃথা। পৃথার আরষ্ঠভাবটা ঠিক করতেই মেহেদী বলে, "কাল ভাবছি তোমাকে নিয়ে তোমার কাকার বাড়ি যাবো।"

মেহেদীর কথা শুনে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকায় পৃথা। 🤔 পৃথার অভিবাক্ষ লক্ষ্ করেই মেহেদী বলে, অনেকদিন হলো বাড়ি বসে আছো একদিন ওনার বাড়ি থেকে ঘুরে এলে অসুবিধা কোথায়? উনি কেমন আছেন সেটাও জানা হয়ে যেতো। আর তোমার নিজের বলতে তো শুধু উনিই বেঁচে আছেন।"

"না,আমি যাবো না। আমি এখানেই ভালো আছি। আর কাকু আমাকে পছন্দ করতো না। যেহেতু ওরা নিঃসন্তান তাই আমার বাবা মা কেও হিংসার চোখে দেখতো। এখন আমার বাবা, মা দিদিমা কেওই বেঁচে নেই আমি কিছুতেই যাবোনা। "🥺

”ওই বাড়ি তো না। আমরা তো কাল উনার নিউ টাউনের ফ্লেটে যাবো। " ওই বাড়ি তো এখন সিল হয়ে পরে রয়েছে। আর মাত্র দু'ঘন্টার জন্য, তুমি আর না করো না। "🥺

"পরদিন বেলা ১০টা নাগাত নিউ টাউনের complex-B এর 22nd floor এর প্রথম দরজায় কলিং বেল বাজায় মেহেদী।"

"দরজা খুলতেই চল্লিশের এক লোক রাশভারী কন্ঠে বিরক্ত নিয়ে বলে ওঠে, "কাকে চাই?" প্রশ্নটা শেষ করার সাথে সাথেই তার চোখ চলে যায় পৃথার দিকে।"

"ও, পৃথা তু মি হঠাৎ এখানে? আর ইনি কে?......তুমি কি এখানে থাকতে আসছো নাকি?"

"পৃথা উত্তর দেয়ার আগেই মেহেদী বলে, না"

আসলে আমি হলাম পৃথার বান্ধবীর ভাই কয়দিন ধরে জেদ করছিল আপনাকে দেখার জন্য তাই নিয়ে আসলাম। আমার বোনই আসতো কিন্তু, ওর একটা কাজ পরে যাওয়াতে আসতে পারেনি।

অথঃপর অনিচ্ছাকৃত সত্ত্বেও একটা হাসি দিয়ে ওদের ঘরে নিয়ে সোপায় বসে লোকটা।

মেহেদী নিজের হাতে নিয়ে আসা ফল ও মিষ্টি লোকটার হাতে দিয়ে বলে, "এগুলো আপনার জন্য, এখন শরীর কেমন আছে আপনা? আমরা আরও আগে আসতাম কিন্তু পৃথার পরিক্ষা ছিল বলে আসতে পারিনি। "


"আরে এসবের আবার কি দরকার ছিল? হু এখন কিছুটা ভালো আছি। "স্বল্প কথার মধ্যে দিয়ে উত্তর দেয় লোকটি।

"তো পৃতা তুমি এখন কোথায় থাকো?"

" আবারও পৃতাকে কথা বলতে না দিয়ে মেহেদী বলে,"
পৃতা তো আমাদের বাড়িতেই থাকে।
আমার বোন আর ও ছোটবেলা থেকে খুব ভালো বন্ধু তো তাই পৃতা আপনাদের কাছে থাকতে চাইলেও আমার বোন ওকে জোর করে আমাদের বাড়িতে এনে রেখেছে। 😊আমাদের বাড়ি গোড়িয়ায়,মেট্রো স্টেশনের কাছেই।"

" বাঃ বাঃ বেশ ভালো। ওখানেই থাকো মা। আমাদের এখানে আমাকেই দেখার লোক নেই তোমাকে কে দেখবে বলো?"

"কাকুর কথা শুনে কোনও উত্তর না দিয়ে পৃথা বলে, "কাকু আমি একটু balcony তে যাবো? "

"হ্যাঁ,যাও মা।"

সঙ্গে সঙ্গে ঘর থেকে বেড়িয়ে যায় পৃথা। ওখানে বসে থাকতে আর ইচ্ছে করছেনা।😴 balcony তে এসে চারপাশ টা দেখতে দেখতে একটা রুমের দিকে উপস্থিত হয় পৃথা। ঘরটায় গিয়ে বুঝতে পারে এটা badroom তাই তাড়াতাড়ি করে ঘরটা থেকে বেরুনোর সময় খাটের পাশের একটা জিনিস দেখে গক শিউরে ওঠে পৃথার। তড়িঘড়ি করে ঘর থেকে বেরিয়ে হল ঘরে উপস্থিত হয় পৃথা। নিজেকে যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রেখে মেহেদীর পাশে এসে দাঁড়ায়।

সন্ধ্যেবেলায় মেহেদী laptop এ জরুরি কিছু কাজে ব্যাস্ত, পৃথা যে তার ঘরে এসে তা টের-ই পায়নি সে। পৃথার ডাকে হুশ পিরে বলে, "আরে পৃথা তুমি? " কিছু বলবে? "

"হুঁ...." 😔

"কি বলবে বলো,আমার পাশে এসে বসো, তারপর বলো।"😊

পৃথা আস্তে আস্তে মেহেদীর পাশে খাটে বসে বলে, কাকুর ব্যাপারে কিছু আমার তোমার সাথে কিছু কথা বলার ছিল।"

"কাকুর সম্বন্ধে!......বলো কি বলবে?"🤔

পুরো ঘটনাটা পৃথা খুলে বলে মেহেদীকে।

"কি ছিল জিনিসটা?"🤔

মাথা নিচু করে নেয় পৃথা 😔

"কি হলো বলো? আচ্ছা অসুবিধা থাকলে লিখে বলো।"

পৃথা তখন নিজের ফোনের Gallery খুলে মেহেদীকে দেখায় ছবি দেখে মেহেদী হচকচিয়ে গেলেও মনে মনে বেশ খুশীই হয় মেহেদী।..."যাক আমার উদ্দেশ্য সফল হয়েছে।...."😯

পাশে থাকা পৃথাকে জরিয়ে ধরে বলে,"Thenks pritha. love you so much. You have done a great job."🤗
259 Views
10 Likes
3 Comments
4.9 Rating
Rate this:
(9)

মন্তব্য

সকল মন্তব্যগুলো (3)

Reader photo
নিরব
21-Jan-2025, 09:36 AM

🥰🥰

Reader photo
Shafiqul Islam
05-Jan-2025, 09:58 PM

পরের পার্ট দেন না কেনো?

সাদিয়া ইসলাম তিষা
সাদিয়া ইসলাম তিষা
07-Jan-2025, 04:43 PM

Sorry....প্রিয় পাঠক, কিছু সমস্যার কারণে দিতে পারছিনা পেয়ে যাবেন ইনশাআল্লাহ 😊

Reader photo
diha
05-Jan-2025, 01:54 PM

next part druto cai 🥹🫶

সাদিয়া ইসলাম তিষা
সাদিয়া ইসলাম তিষা
07-Jan-2025, 04:43 PM

হুম দিবো 🥰