ভালবাসা সবার জন্য নয় শেষ পর্ব

বিয়ের আয়োজনের মধ্যে যে মানসিক অশান্তি আমার মাথার ভেতর চলছিল, তা কাউকে বলার উপায় ছিল না। সবাই আমার মুখে হাসি দেখে হয়তো মনে করছিল আমি খুশি। কিন্তু আমার মন যেন একটা কঠিন বোঝা নিয়ে চলছিল।

বাসায় এসে যখন বসলাম, ছেলেপক্ষের লোকজন বাড়ি ভর্তি হয়ে গেছে। পরিচিত-অপরিচিত অনেক মুখ, যাদের কজনের মন্তব্য শুনে আমার কষ্ট আরও বেড়ে গেল। কেউ বলছিল, “মেয়ে কালো”, কেউ বলছিল, “সরকারি চাকরি দেখে বিয়ে করছে আর কি!” মনে হলো যেন আমার কোন পরিচয় নেই, একটা লেবেল লাগানো পণ্য হিসেবেই হয়তো তারা আমাকে দেখছে।

কিছুক্ষণ পরই বাড়ির বাইরে হৈচৈ শুরু হলো। কি কারণে চিল্লাচিল্লি তা প্রথমে বুঝতে পারিনি। মা ও ভাই সবাই ব্যস্ত, কিন্তু এক আত্মীয়া এসে বললেন, “বুঝলি মা, ছেলেপক্ষের লোকজন অতিরিক্ত লোক নিয়ে এসে খালি আমাদের মেসেজ দিচ্ছে। তারা নাকি আরও কিছু জিনিস দাবি করেছে।” শুনে আমার মনের ভয় আরও বেড়ে গেল। বাড়ির লোকজন উদ্বিগ্ন এবং ছেলেপক্ষের আচরণ দেখে কিছুটা বিব্রতও।

এরপর, আমার মা আমাকে ডেকে বললেন, “মা, তোর নিরাপত্তাই আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা কিছুতেই এই চাপের মধ্যে তোকে একা ফেলে রাখতে পারি না।” মায়ের চোখে যে কষ্ট দেখলাম, তাতে আমার মন ভেঙে গেল।

ঠিক তখনই খবর এলো, ছেলেপক্ষের একজন বিয়ের দরবার থেকে উঠে গিয়ে তাদেরই কাউকে ফোন করে কিছু সন্দেহজনক কথা বলছে। পরিবারের সবাই সিদ্ধান্ত নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল যে এই বিয়ে নিয়ে এগোনো ঠিক হবে কি না। সবাই চায় আমার সম্মানের সাথে জীবন শুরু হোক, কোন অপমানের মধ্যে নয়।

সবাই যখন ব্যস্ত তখন আমি একা এক কোনে বসে ভাবছিলাম, হয়তো আজ আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তের সময়। মাথার মধ্যে নানা কথা ঘুরছিল, কিন্তু একটাই স্পষ্ট হয়ে উঠছিল – পরিবারের মানসিকতায় পরিবর্তন এনে এমন বিয়ের চেয়ে নিজের সম্মানের সাথে নতুন জীবনের শুরু করা অনেক ভালো।

হঠাৎ এক আত্মীয় এসে বললেন, “মা, তুই যদি চাস, আমরা সব ব্যবস্থা করতে পারি। তুই বিয়ে না করেও ভালো থাকবি, আমাদের সবার পাশে থাকবি।”

এই কথাটা শুনে মনে হলো আমার পাশে কেউ আছে। আমি মাকে ডাকলাম, এবং তাকে বললাম, “মা, যদি এই সম্পর্কের মধ্যে সন্মান ও স্নেহ না থাকে, তবে এই বিয়ের কোনও প্রয়োজন নেই।”

বাড়িতে সবার সম্মতিতে বিয়ে বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। মা এবং ভাই আমার পাশে দাঁড়িয়ে বললেন, “তুই ভালো থাকলে আমরা খুশি। তুই যা চাইবি তাই হবে।”

যখন অতিথিরা জানতে পারলেন, অনেকে সমালোচনা করলেন, কিন্তু কিছু কাছের মানুষ এসে বললেন, “মেয়েটার সাহস আছে। নিজেকে এমন জায়গায় ফেলে রাখেনি যেখান থেকে ভবিষ্যতে শুধু দুঃখ আসতে পারত।”

আমার মনের ভেতর এক ধরনের শান্তি অনুভব করলাম। এটা ঠিক যে এই সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না, কিন্তু নিজের আত্মসম্মানের জন্য বেঁচে থাকা আরও জরুরি।

কিছুদিন পর থেকে আমি নতুন করে জীবন শুরু করলাম, পরিবারের ভালোবাসা আর সাপোর্ট নিয়ে। হ্যাঁ, বিয়ে ভেঙে যাওয়ার কথা সমাজ বলবে, কিন্তু আমি জানি, নিজেকে সম্মানের সাথে রাখতে পারাটাই সবার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আর আমি যাকে বিয়ে করবো সে যদি আমাকে সম্মানই না করে, তাহলে তার সাথে সারা জীবন পার করবো কি করে।
এতো কথা এতো আলোচনা হচ্ছে কিন্তু সে কখনই মুখ খুলেনি।
আমি চাকরি করি ভালো বেতন পাই, বিয়েটা ছেলে খেলা নয় যে যখন ইচ্ছা খেলবো,তাই আগে মন মানসিকতা তৈরি করি।
মাঝে মাঝেই ছেলেটার সাথে দেখা হয়,কিন্তু কিছু বলতে চায় সাহস হয়না মনে হয়।
শুনেছি কয়েক বার বিয়ে ভেঙেছে সুধু যৌতুকের কারনে।
ভগবান যা করে ভালই করে এটা ভেবেই বেশ আছি।।

নতুন গল্প পেতে কমেন্ট করে জানিও।
208 Views
4 Likes
2 Comments
4.3 Rating
Rate this:
(3)

মন্তব্য

সকল মন্তব্যগুলো (2)

Reader photo
মোহাম্মদ রিয়াদ
19-Feb-2025, 12:28 AM

সুন্দর লিখেছেন

Reader photo
তৌহিদুল ইসলাম বাদশা
11-Nov-2024, 05:13 PM

কি হয়বে

দোলন দাস দিয়া
দোলন দাস দিয়া
12-Nov-2024, 06:43 PM

ki vai