অতৃপ্ত আত্মার সঙ্গম
লেখকঃ সাদিকুল ইসলাম
তিন্নির মৃত্যু তে বাসায় শোকের ছায়া পরে আছে৷ কেউ কখনো ভাবতে পারেনি হুট করে মেয়েটা এমন কান্ড করতে পারে। মা বাবার একমাত্র আদরের মেয়ে।মাত্র ২১ বছর বয়সেই টানলো জীবনের ইতি। বহু তদবির করার পরে ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ দাফনের অনুমতি মিললো। বাবা মা সিদ্ধান্ত নিলেন মেয়েকে গ্রামের বাড়ীর পারিবারিক কবরস্থানে দাফন দিবেন। লাশ বাহী গাড়ীতে কফিনে লাশ রাখা কিন্তু ড্রাইভার এখনো আসলো না। সবাই ড্রাইভার এর জন্য অপেক্ষা।
ড্রাইভার আসার পরে মেয়ের বাবা বললেন, তুমি লাশ নিয়ে সাবধানে যেও। আমরা গাড়িতে করে চলে গেলাম।
এই বলে তারা গাড়ী ছাড়লো। মন্টু মিয়া সুমন ( হেল্পার) কে ডেকে বললো।
সব ঠিক ঠাক নিয়েছিস তো?
জ্বী ওস্তাদ।
গাড়ি চেক করছো?
এই বলে মন্টু মিয়া বিড়ি ধরিয়ে গাড়ি ছাড়লো। কিন্তু লাশের ভেতর থেকে এমন একটা সুগন্ধি বের হচ্ছে যা বিড়ির গন্ধকে পাত্তা দিচ্ছে না। সন্ধ্যা নেমে আসলো। শীত কালিন সময়। মানুষ জন কম বের হয় বাহিরে। দোকানপাট বেশির ভাগ বন্ধ থাকে। আবার অমাবস্যার অন্ধকার। কথিত আছে ভাদ্র মাসের অমাবস্যায় শয়তান সব দল বেধে বের হয়ে আসে। আর এই সময় কেউ মারা গেলে সে কাপর খেয়ে কবর থেকে বেড়িয়ে আসে৷ হঠাৎ দেখতে পেলো টিপ টিপ করে আলো জ্বলছে রাস্তার পাশেই ছোট একটা দোকান। গাড়ি থামিয়ে নামলো।
কাকা চা হবে?
না বাবা, এই সময় শীতের রাতে কেউ তো আসে না। তাই বন্ধ করে দিছি৷
আচ্ছা চাচা আমাদের চারটা কলা চারটা রুটি দেন৷
হেল্পার কে নিয়ে মন্টু মিয়া খাচ্ছে আর জিজ্ঞেস করছে।
সুমন লাশ টার ভেতর এতো সুগন্ধি কেন?
ওস্তাদ বড় লোকের কাম তো, মা বাপের একমাত্র যুবতী মাইয়া মরচে গলায় ফাঁস দিয়া। কি করচে যানি না। তয় বহু কিচু দিয়া কফিনে ডুকাইচে। আহারে কি সুন্দর মাইয়াডা দ্যাকতে সিনেমার নাইকা ফেল।
মন্টুঃ পোস্টমর্টেম করচে?
সুমনঃ না ওস্তাদ, বড়লোক তো সিস্টেম করে ফেলছে।
মন্টুঃ বয়স কেমন?
সুমনঃ এই ২০/২২ হবে।
মন্টু মিয়া সিগারেট ফেলে দিলো। বললো তুই আরেকটা রুটি কলা খা। চাচা আরেকটা রুটি কলা দেন। আমি আসছি সুমন৷ আমি না ডাকার আগে আসবি না।
সুমন তখন বুঝে গেছে। কারন আগে যেই গাড়ীর হেল্পারি করতো সেই ড্রাইভার ও লাশের সাথে সে*ক্স করতো।।
মন্টু মিয়া কফিন খুলে অবাক হয়ে গেলো। মনে হচ্ছে মাত্র ঘুমিয়েছে মেয়েটি। লাশটি টেনে সিটের উপর রাখলো। শরীরের সব পোশাক খুলে ফেললো। ইচ্ছে মতো ২৫ মিনিট সঙ্গম করলো। সঙ্গম করার পরে কিছুক্ষন লাশের উপর শুয়ে রইলো। মনে হচ্ছিল মেয়েটা ভার্জিন ছিলো৷ আগে শরীরে কেউ হাতও দেয়নি। চেহারা যৌবন টলমল করেছে। ফিগার দেখে মনে হচ্ছে যেন পৃথিবীর স্রেষ্ঠ। মন্টু মিয়া চলে গেলো৷
সুমন গাড়ীতে যা। সব ঠিকঠাক কর৷ আমি আরেকটা বিড়ি খেয়ে আসি৷ সুমন এসে দেখে লোভ সামলাতে পারেনি। সুমনও সে*ক্স করলো। এটা যেন ওদের পেশায় পরিনতো। সুমন যখন কফিনে লাশ লুকাচ্ছিলো হঠাৎ দেখলো লাশের পিছন থেকে রক্ত বেয়ে বেয়ে পরে সীট ভিজে গেলো। কোন কিছু না ভেবেই কফিন করে নিলো।
গাড়ি ছাড়লো অন্ধকার রাস্তায় গাড়ি চলছে।
ওস্তাদ
বল
মাইয়া মানুষ মরার পর কি গুপন অংগ দিয়ে রক্ত পরে?
ধুর বোকা মরা মানুষের র/ক্ত থাকেনা।
এই মাইয়ার তো দেহি রক্ত পরতেছে। আর পেটে কামরের দাগ বসে গেছে।
হ ওস্তাদ, গাড়ির সীট ভিজে আছে৷
কি কও?
এই বলে গাড়ী থামালো।
চল দেখি রক্ত। কিন্তু কোন রক্তের দাগ ই নেই সীটে।
তোর মাথা গেছে। লাশ থেকে রক্ত পড়ে না। ওস্তাদ আমি নিজে দেখছি। আর এই দেখেন আমার বুকে রক্ত লেগে আছে?
তাই তো?
কি করে সম্ভব?
মন্টু মিয়া একটু ভয় পেলো কিন্তু ওরে বুঝতে দিলো না।
বেপার না, আর চুপ থাক কথা বলিস না। এই বলে গাড়ী চালাচ্ছে মন্টু মিয়া।
কিছুদূর যেতেই দেখা গেলো এক মুরব্বি রাস্তার পাসে বসে কান্না করতেছে। হাত ইশারা করে গাড়ী থামাতে বললো। সুমন বললো ওস্তাদ ওনারে নিয়ে যাই। ওস্তাদ চুপ থাক....
কিছুক্ষণ পর গাড়ীর ভেতরে কান্নার শব্দ। সুমন চিৎকার দিলো। চেয়ে দেখে কফিনের পাশে বসে কান্না করতেছে মুরব্বি। গাড়ী দুলছে যেন কন্ট্রোল করা সম্ভব নয়। গাড়ী থামালাো কোথাও কিছু নেই। কফিন বেয়ে বেয়ে রক্ত পরতেছে। আবার গাড়ী চালাতে শুরু করলো রাস্তার দুপাশে ভয়ংকর জঙ্গল কোথাও কেউ নেই। একটু পরেই খেয়াল করলো লুকিং গ্লাসে মুরব্বি ঝুলছে গাড়ীর সাইড ধরে আর গাড়ী জোরে ধাক্কা দিচ্ছে। এবার সুমন চিৎকার শুরু করলো। ভয়ংকর পরিস্থিতিতে মন্টু মিয়া যেন শক্ত হয়ে প্রতিকুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতেছে। দূর থেকে একটা গাড়ীর লাইট আসতেছে দেখে দু'জনেই সাহস পেলো কিন্তু গাড়ী এগুচ্ছে কিন্তু ওই লাইটের গাড়ী আর আসে না। হুট করেই গাড়ির সামনের গ্লাসে কি যেন পড়লো ড্রাইভার গাড়ী থামালো। দেখলো গ্লাস বেয়ে তাজা রক্ত পড়তেছে আর কফিনে শব্দ হচ্ছে আর নড়ছে। সুমন কেঁদেই যাচ্ছে আর থর থর কাপছে। মন্টু মিয়া লাশের সাথে সে*ক্স বহুবার করেছে কিন্তু এমন আজব ঘটনা আর ঘটেনি। গ্লাসে পানি মেরে আবার চালানো শুরু করলো। এবার গাড়ীর গতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলো। গাড়ী যেনো থামছেই না। হঠাৎ করে দেখে সামনে আর রাস্তা নেই জোরসে গাড়ি পরে গেলো গহীন জঙ্গলে। মন্টু আর সুমন গলা ছেড়ে চিৎকার দিলো। সকাল হতেই দেখলো তারা একটি রাস্তার পাশে লাশ বাহী গাড়ী নিয়ে আছে। মন্টু আর সুমন দু'জন দু'জনের মুখের দিকে তাকাচ্ছে। লাশ গাড়িতেই আছে৷ গাড়ী চালানো শুরু করলো। ১১ টার দিকে তিন্নির বাড়ী পৌছলো। সবাই অপেক্ষা করতে থাকলো৷ গাড়ী দেখে সবাই দৌড়ে আসলো৷ জিজ্ঞেস করলো এতো দেরি কেন৷ মন্টু চুপ হয়ে রইলো।
লাস গোছল করিয়ে বিভিন্ন দোয়া পড়ে যথা নিয়মে লাশ দাফন হলো। কথিত আছে অমাবস্যায় কেউ মারা গেলে লাশ কাপর খেয়ে উঠে। তারপর বংশ নির্বংশ করে দেয়। তাই কবরের পাশে দু'জন পাহারাদার রাখা হলো।
মন্টু মিয়া আর সুমন চলে গেলো। মন্টু মিয়া যথা রীতি স্বাভাবিক হতে পারছে না। কালকের রাত কোন ভাবেই ভুলতে পারছে না। বার বার মনে করে দেয়। স্ত্রী বুঝতে পেরে জিগ্যেস করলো কিন্তু মন্টু কোন উত্তর দেয় নি৷
রাতে খাওয়ার পর ঘুম দিলো মন্টু মিয়া।
হঠাৎ কে যেন তার বুকের উপর সুয়ে আছে টের পাচ্ছে৷ চোখ খুলতেই দেখে তার বউ৷ মন্টু আর বাঁধা দিলো না।
মন্টুর লুঙ্গি টা খুলে ফেললো। প্রতিবারের মতোই মন্টু সে*ক্স করার জন্য রেডি কিন্তু তার বউর স্পর্শ ভিন্ন এমনকি তার বউর শরীর ও কেমন জানি লেজেছে মনে হচ্ছে না দুই বাচ্চার মা। মন্টু থামতে চাইলো কিন্তু তার স্ত্রী সে*ক্স করার জন্য জোরাজুরি এতোটাই করা শুরু করলো মন্টু কিছু বলতেই পারলো না। সচারাচর তার বউ সব সময় আগেই নেমে যায় মন্টুর খায়েশ রয়ে যায়। মন্টুকে কখনো খুশি করতে পারে না। আজ আর বউ থামছে না বরং অত্যাচার টা বাড়িয়ে দিলো। মন্টু আর নিতে পারছে না কিন্তু বউ জোরে জোরে শব্দ করে .....
এক সময় দস্তা দোস্তি শুরু হয়। মন্টু হার মেনে যায় স্ত্রীর কাছে, কিন্তু সে ছাড়তে নারাজ৷ শেষে মন্টু কে জোরে এক লাথি মারে৷ মন্টু খাট থেকে পড়ে যায়৷ সমস্ত শরীর ব্যথা হয়ে যায়৷ মন্টু বাথরুম থেকে এসে দেখে বউ ঘুমে
কিরে তুমি ফ্রেশ হবে না?
স্ত্রীঃ আজ না তুমি এমনিও অনেক জার্নি করে এসেছো আজ ঘুমাও কাল করবো৷
মন্টুঃ মানে? তুমি এতক্ষণ তো আমায়....
স্ত্রীঃ তুমি পাগল হইছো? আমি তো ঘুমে তোমায় ছুয়েও দেখিনি।
মন্টুঃ তাহলে আমার সাথে কি হলো?
স্ত্রীঃ তোমার সাথে কি হলো মানে? তুমি ঠিক আছো?
মন্টু নিজের দিক তাকালো দেখলো সব ভিজে আছে এখনো। আর লুঙ্গিতে ৩ ফোটা রক্তের দাগ৷ বীর্য লুঙ্গিতে লাগানো। কেউ কোন কথা বললো না। মন্টু আর ভয়ে ঘুমালো না।
ফজরের নামাজের আজান হলো, মন্টুর চোখ লেগে আসলো। একটু পরেই সুমনের বাবা দৌড়ে আসলো।
বাবা মন্টু আমার সুমনের কি যেন হইছে মুখ দিয়ে রক্ত পড়ে আর কোন কথা বলতে পারে না। বাবা তুমি একটু এ্যাম্বুলেন্স টা বের করো মেডিকেল নিয়ে যাই। নয়তো আমার ছেলেটা বাঁচবে না বাবা। বলে তিনি কান্না করতে করতে চলে গেলো। কিন্তু মন্টু কোন কথা বললো না। তার স্ত্রী এসেও জোর করলো সুমনকে ডাক্তারের কাছে নিতে কিন্তু মন্টু চুপ। মন্টু পাথর হয়ে গেলো৷ কোন কথা বলছে না৷ আবারো ঘুম আসলো মন্টুর। মন্টু ঘুমিয়ে গেলো।
সাথে সাথে বউ ডাক দিলো।
বললো, চলো চলো
কই যাব?
তুমি শুনলে না? হুজুরে মসজিদে বললো সুমন মারা গেছে। দেখতে যাবো চলো৷
মন্টু বসে পড়লো যেন বোবা হয়ে গেলো৷ বুঝে উঠতে পারলো না কি থেকে কি হচ্ছে। গোসলের পরে সুমনের মুখ যখন দেখতে যাবে একে একে সবাই দেখলো। মন্টু দেখলো সুমনের মুখ বাকা। চোখ দু'টো ভেতরে মনে হচ্ছে কেউ চাকু দিয়ে খুঁচে নিয়ে গেছে৷ মন্টু মাথায় হাত দিয়ে নাড়াচাড়া করলো। কানের গোঁড়ায় বড় বড় নক এর দাগ। মন্টুর আর কিছু বুঝার বাকি নেই৷
মন্টু বাইক নিলো। তারাতাড়ি গেলো সেই কবরস্থানে। যেয়ে দেখে ঠিক পাহারাদার দুজন বসা৷ জিজ্ঞেস করলো ভাই কেন আসছেন?
ভাই আমার হেল্পার মারা গেছে.
মার যেতেই পারে তা এখানে আসার কি হলো?
ভাই ওই লাশই মারছে ওরে তা বুঝতে পেরেছি আমি।
আপনি কি পাগল হয়েছেন?
আমরা লাশ পাহারাওলা আছি।
ভাই এই লাশই আমার হেল্পার কে মারছে।
তারা মন্টুকে বের করে দিলো।। মন্টুর কথায় পাত্তা দিলো না।
রাতে মন্টু রুমের সামনে বসে বিড়ি টানছে। বেশি রাত হয়নি। মানুষজনে ঘুমায়নি। হঠাৎ সামনের গাছ পালা নড়ে উঠলো। মনে হলো ১০ সেকেন্ডের ঘূর্ণিঝড় হলো। মন্টুর সমস্ত গায়ে ঠান্ডা বাতাস লাগলো। মন্টু দৌড়ে ঘরে ঢুকলো। স্ত্রী জিজ্ঞেস করলো কি হলো মন্টু কিছু বললো না। শুধু বললো আমি রাতে ঘুমালে তুমি লাইট জ্বালিয়ে বসে থাকবে খবরদার ঘুমাবে না। বউ কিছুই বললো না।
মন্টু গভীর ঘুমে। এই দেখে বউ ঘুম দিলো। রাত গভীর হতেই রুমের জানালায় জোড়ে কাঁদার শব্দ। বাতাসে বারি দিচ্ছে। মন্টু আর বউ দুজনের ঘুম ভেঙে গেলো। মনে হচ্ছে কে যেন ঘর ধরে নাড়াচ্ছ। মন্টুর বউ চিল্লাচিল্লি শুরু করলো।
পরের দিন মন্টুর বউ বাচ্চা নিয়ে বাপের বাড়ী চলে গেলো ভয়ে। আর মন্টুকে যেতে বললো। মন্টু রাজি হলো। বউ বাচ্চা পাঠিয়ে মন্টু সুমনের কবর দেখতে গেলো। দেখে কবরের এক পাশের মাটি দেবে গেছে। সুমনের বাবাকে ডেকে বললো। তিনিও অবাক হলো নতুন কবর কি করে এমন হলো।
এবার তিন্নির কবরের কাছে গেলো। পাহারাদার নেইৃ কবর ঠিক ঠাক। শশুর বাড়ী চলে গেলো মন্টু।
অনেক দিন পরে বউ বাবা মা পেয়ে মহা খুশি৷ তাই রাতে তারা তারি খেয়ে বোন আর মায়ের সাথে ঘুমাতে যাবে বলে মন্টুকে বলে দিলো। মন্টু না করলো না।
রাত গভীর হলো, শুয়ে পরলাম আমি।
খালি গায়ে লুঙ্গি পরা আমি ( মন্টু)। হঠাৎ খেয়াল করলাম আমার বুক ভীজে যাচ্ছে৷ সাথে আমার নিশ্বাস ও দ্রুত হচ্ছে। শরীরের শক্তি কেমন যেন কাজ করতেছে না। আমি নাড়াতে পারছি না আমার দেহ।বা আমি কাউকে ডাকতেও পারছি না৷ গলায় শরীরে সব ভিজে যাচ্ছে৷ আমি চিৎকার করার চেষ্টা করলাম কিন্তু কাজ হচ্ছে না।মুখ থেকে কোন শব্দ আসছে না তবে মুখ থেকে পানির মতো ঝরতেছে৷ সেই পানিতে কান ও ভিজে যাচ্ছে৷ আমার নিশ্বাস বন্ধ হবার পালা৷ কিন্তু বন্ধ হচ্ছে না। এক সুন্দরী তরুনী আমার বুকে বসে আমার দিক চেয়ে আছে৷ যদিও তার মুখ দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু মাথার চুলগুলো আমার পুরো মুখমণ্ডল ঢেকে আছে৷ তার স্পর্শে আমার শরীর যেন পাথর হয়ে গেছে। তাকে নামানোর জন্য কোন চেষ্টাই কাজ হচ্ছে না৷ তার চুলের জন্য মুখ দেখা যাচ্ছে না, তবে শরীর টা তিন্নির মতো সে বুকে বসে আমার সমস্ত শরীরে হাত ভুলিয়ে দিচ্ছে আর তার স্পর্শ করা যায়গা গুলো যেন রক্ত জমাট বেঁধে যাচ্ছে। ধীরে ধীরে সে আমার বুকের উপর শুয়ে যাচ্ছে। পুরো শরীর দিয়ে বুক ঢেকে রাখছে৷ হাত দুটো আমার গলায় দিতেছে আর আস্তে আস্তে চাপ দিচ্ছে। মনে হইতেছে আমার ধম এখুনি আটকে প্রান পাখিটা বের হয়ে যাবে। তারা সুন্দর শরীরে বিশ্রি কালা পায়ে সোনালি রঙের নুপুর ঝলঝল করতেছে। আমি চেষ্টা করলাম তার হাত থেকে বাচার কাজ হলো না।
শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে জোরে চিৎকার করে তাকে ধাক্কা দিলাম। মুহুর্তেই পালিয়ে গেলো। আর পেলাম না খুঁজে৷ আমার মুখের লালা পরে গালের একপাশ ভীজে গেছে আর আমার শরীর মনে হয় মাত্র গোসল দিয়ে আসলাম। দুর থেকে মুয়াজ্জিনের আজান ভেসে আসলো ফজরের আজান,
সেদিন ফজরে গোসল দিয়ে মন্টু মিয়া মসজিদে যায়৷ সে ক'বছর পড়ে মসজিদে নামাজের জন্য আসলো সেটা নিজেও ভুলে গেছে৷ কারন সে বুঝতে পেরেছে তার আর রেহাই নেই৷ নামাজ শেষে মসজিদের এক কোনায় বসে আছে গম্ভীর মুখে। হুজুর খেয়াল করতেই সে উঠে আসলো।
মন্টুঃ হুজুর আপনার সাথে কিছু কথা আছে.
হুজুরঃবলো কি বলবা মন্টু মিয়া, তবে তুমি যাই বলো আমি অনেক খুসি কারন তুমি মসজিদ মুখি হয়েছো৷ আল্লাহ তোমায় হেদায়েত করুক।
মন্টুঃ হুজুর কিছু বলবো..... বলে করুনা করলো।
হুজুরঃ মসজিদ আল্লাহর ঘর, মসজিদে বসে অপ্রাসঙ্গিক বা ইসলামের আলোচনা ছাড়া কথা বলা নিষেধ কারন গুনাহ্ হয়। কারন মসজিদ নিরাপদ এবং ইবাদাতের যায়গা। এখন তুমি বলো তুমি কি মসজিদে বলবে নাকি বাহিরে বলবে।
মন্টু, হুজুর বাহিরে চলেন
হুজুর, আমি বুঝতে পেরেছি তুমি বড় কোন অপরাধ করেছো৷ কারন তোমার অপরাধের ছাপ তোমার চেহারায় স্পষ্ট। কারন প্রতিটি মানুষের কৃতকর্মের ফল অবশ্যই ভোগ করতে হবে। আর তুমি যদি হেদায়েতের জন্য এসো তবে তবে নফল নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে কান্না করে চোখের পানি ফেলো। পরিত্রাণ পেতেই পারো। কারন মহান আল্লাহ তাওবা কারিকে পছন্দ করেন এবং ক্ষমা করে দেন।
মন্টুঃ হুজুর আমি পাপ করেছি..... বলে কেঁদে দিলো।
হুজুরঃ কান্নাটা বরং আল্লাহর কাছেই করো। আমিও তোমার জন্য দোয়া করবো। আর কাল ফজরে নামাজের পর একটু দাড়াবা।
এই বলে হুজুর চলে গেলো। মন্টু মিয়ার চোখে জ্বল পড়তেই লাগলো। তিনি মসজিদে ঢুকে আল্লাহর কাছে অনেক কান্নাকাটি করলো। ক্ষমা চাইলো।
বাসায় চলে আসলো। সবাই আজ মন্টুকে দেখে খুশি কারন মন্টু আজ নামাজ পড়েছে চেহারায় একটা নরম নরম ছাপ পড়েছে। দুপুরে আর মসজিদের নামাজের জন্য যায় নি।
নামাজের আগেই ঘুম, হঠাৎ বাড়ি চিল্লাচিল্লি তে মন্টুর ঘুম ভেঙে যায়।বাড়ি কান্নার রোল বয়ে যাচ্ছে৷ মৃত্যুর কান্না আর স্বাভাবিক কান্না দুটোর ভেতর আকাশ পাতাল ব্যবধান। তবে মৃত্যু ব্যতিত সকল কান্না নরম কন্ঠে হয়। মন্টু বুঝতে পেরেছে তার বাড়িতে কেউ মারা গেছে৷ দৌড়ে গেলো সবাই পুকুর পাড়ে মন্টুও সেখানে গেলো। মন্টুর স্ত্রি বড় মেয়ে নাদিয়া কে ধরে কান্না করতেছে। ১১ বছর বয়স মেয়ের। সাঁতার জানা তবুও পানিতে ডুবে মারা গেলো। মন্টু আর কান্না করতে পারলো না শোকে পাথর হয়ে গেলো। মেয়ের গোসল সম্পন্ন হলো। বাড়িতো লোক জনের কানা কানি হচ্ছে এই বাড়িতে ভূত আছে। মন্টু সব শুনতেছে আর চোখের কোনে গড়িয়ে জ্বল পড়েতেছে। হঠাৎ করে এক মহিলা ( যিনি মৃত্যু ব্যক্তির গোসল করিয়েছিলেন) এসে বললো, আপনার মেয়েকে ভূতে মেরেছে। ওর কানের পাশে নক এর আছড় আছে। মন্টু দৌড়ে সুমনের বাড়ি গেলো সুমনের বাবাকে জিজ্ঞেস করলো তার ছেলোর শরীরে কোন চিন্হ ছিলো নাকি। সুমননের বাবাও বললো কানে নক এর আঁচড় ছিলো, মন্টুর আর কিছু বোঝার বাকি রইলো না। বিকেল থেকে নিজের শরীর ও খারাপ বউর শরীর ও খারাপ। হাতে টাকা পয়সা একদম নেই। কি করবে ভেবে পাচ্ছে না।
সাত দিন চলে গেলো আজ দুপুরে বাসায় রান্না হয়নি। চাল নেই কোন বাজারও নেই। এবার মন্টুর বউ বললো যাও আজ ডিউটিতে, আমরা না হয় না খেয়ে থাকলাম ছোট মেয়ে টা? ও কি করে ক্ষুদার জ্বালা সইবে? বলে মন্টুকে জড়িয়ে ধরে কান্না করিতেছে৷
মন্টু কোম্পানিকে কল দিলো এবং রাতেই একটা অনেক দূরের প্রগ্রাম পেলো। বউ শুনেই খুশি হলো৷ মন্টুর কেন জানি মন টানছে না। ভয় ভয় ও লাগে আবার হেল্পার নেই।
ভয় লাগার ই কথা কিছু করার নেই৷ মন্টু গাড়ি নিয়ে গেলো, আজো একটা মেয়ে বিষ খেয়ে মারা গেছে। তবে আজ লাশের আত্নীয়রা ভেতরে আছে।
লাশের গাড়ি এমনিও ভারি হলে সহজে গতি আসে না, ঠিক তেমনটাই হচ্ছে আজো। এমনি রাস্তা অনেক ভালো।
কিছুদূর যেতেই হেডলাইট বন্ধ হয়ে গেলো। মন্টুর ভেতর ভয় ঢুকে গেলো। গাড়ী থামিয়ে নামতেই অটোমেটিক লাইট জ্বলে উঠলো। গাড়ির সবাই অবাক হলো। সবাই চোখাচোখি করিতেছে। মন্টু গাড়ী চালানো শুরু করলো। হঠাৎ ভেতরে চিৎকার। গাড়ীর উপরে বড় শব্দ। মনে হলো কেউ ভেঙে ভিতরে আসবে৷ গাড়ি থামিয়ে সবাই চেক করলো কিন্তু কোথাও কিছু নেই। যেনো সবটাই কল্পনা ছিলো। তবে কেমন যেন একটা ঠান্ডা বাতাস বয়ে গেলো।
মন্টু আবার গাড়ি চালাতে শুরু করলো। লুকিং গ্লাসে দেছতে পেলো তারা গাড়ীর চেয়েও বড় একটা কালা বিড়াল তার দিকে তেড়ে আসতেছে৷ লাল লাল বড় চোখ যেন তাকে ডাকছে৷ সে যতো জোড়ে টানছে বিড়ালও ততো জোরে আসছে৷ বিড়াল টা এসেই গাড়ির সামনের গ্লাসে পরলো। মন্টু আর কিছুই চোখে দেখতে পেলো না৷ সামনে গাছের সাথে গাড়ি মেরে দিলো কিন্তু কোন ক্ষতি হলো না।
সে রাতে কেউ আর গাড়ি চালাতে দিলো না। সবাই সেখানে রয়ে গেলো।
সকালে উঠে গাড়ি নিয়ে ঠিক ১১ টায় ওই বাড়ি পৌছায়। মন্টু কিছুটা অবাক হলো ওই লাশ নিয়েও ১১ টায় পৌঁছে মেয়ের বয়স। আজো ১১ কেমন এক গোলকধাঁধা। মরা বাড়ির ঝামেলায় মন্টু টাকা পাচ্ছে না সবাই কান্না কাটি করে।। বিল পাইতে পাইতে অনেক রাত হলো।
মন্টু গাড়ী স্টার্ট করলো। হঠাৎ মাঝ রাতে গাড়ী বন্ধ। চার দিকে ভয়ংকর জঙ্গল। কোথাও কোন বাড়ি নেই৷ শুনশান নিরবতা বিদঘুটে ভয়ানক অন্ধকার৷ নিজের শরীর ও দেখা যায় না৷ মোবাইলে সময় ১১ টা রাত!
মন্টু বুঝতে পারলো তার সাথে কিছু হচ্ছে। নিথর হয়ে গাড়ীর সামনে বসে পরলো। দূরে বহুদূরক কিছু কুকুরের শব্দ শোনা যায়৷ ধীরে ধীরে শব্দ টা কানের কাছে আসতে শুরু করে। মন্টুর হাতের মোবাইল জেলে বউকে কল দিলো কিন্তু নেটওয়ার্ক নেই। এবার মনে হচ্ছে কুকুরের শব্দ খুব কাছে। মন্টু আর চোখ তাকাতে পারছে কানের কাছে ঝিনঝিন করতেছে। হঠাৎ মনে হলো একদল কালো কুকুর অনেক বড় বড় ও ক্ষুদার্ত তার চার পাশে ঘুরতেছে৷ একটা কুকুরের গলার আওয়াজ চেনা চেনা লাগছে। শব্দ টা পরিচিত ওই কুকুরটাই মন্টুর কানে আঁচড় দিলো৷ বাকি কুকুর গুলো মন্টুকে ছিড়ে ছিড়ে খাচ্ছে৷ সব গুলো ক্ষুদার্ত কুকুর বেশি সময় নিলো না। রক্তের দাগে রাস্তা কালো হয়ে আছে। রাস্তা থেকে রক্ত বেয়ে বেয়ে বাইরে চলে আসছে।

কোন মন্তব্য নেই