ফারিহা নিখোঁজ ( পর্ব 1 )

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
রাত প্রায় আটটা বাজে মোল্লা বাড়িতে যেন চিন্তার ছাপ নেমে পড়েছে‌ সবার‌ মুখে  ,,,। কারো মুখে হাসি নেই ,, মোল্লা বাড়ির বড় ছেলে ইসরাক‌ ,, মোল্লা বাড়ির ছোট ছেলে আশিক কে বলল,,,, আশিক বাবা কোথায় যেতে পারে বলতো,,, এমন টেনশন আর ভালো লাগছে না ‌।

তামিমা : ইসরাক সব আত্তীয়র বাড়িতে ফোন দিয়ে দেক‌ বাবার কোনো খোঁজ পাওয়া যায় কিনা ,,।

ইসরাক: তামিমা আপু সব জায়গায় ফোন দিয়ে দেখছি কেউ বাবার কোনো খোঁজ দিতে পারল না ‌।

( "তামিমা হচ্ছে মোল্লা বাড়ির বড়‌ মেয়ে‌ ।  মোল্লা বাড়ির ছোট মেয়ের নাম‌ তন্নি‌ ,,,,তামিমারা‌ দুই বোন দুই ভাই ")

তন্নী‌ : তামিমা আপু আমার অনেক টেনশন লাগছে বাবার জন্য বাবা তো আবার হারিয়ে গেল না ।  ইসরাক‌ : দূর পাগল চুপ কর বাবা কি ছোট বাচ্চা নাকি বাবা হারিয়ে যাবে। তোরা সবাই টেনশন কম কর বাবা দেখিস খুব তাড়াতাড়ি বাড়িতে ফিরে আসবে ।

তামিমা : তাই যেন হয় রে ভাই ,, আমার অনেক টেনশন লাগছে ,, জা"না ইসরাক ভাই‌ আমার,, পুলিশের কাছে একটি ডায়রি করে আস বাবার নিখুঁজের‌ । তন্নি‌ : তোরা চিন্তা কর আমার এই ছোট মাথায় আর চিন্তা আসছে না আমি যাই ঘুম‌ আসি‌ । এই বলে তন্নী তার রুমে যেয়ে ঘুমানোর জন্য সুয়ে‌ পড়লো‌ ।

আশিক‌ : আমিও চললাম রোজ রোজ এত ঝামেলা আর ভালো লাগেনা সামনে আমার ইন্টার পরীক্ষা ‌ । একটু যে ভালোভাবে লেখা‌ পড়া করবো ,,,, তার‌ও কোন উপায় নেই এই বাড়িতে ,,,, সব সময় ঝামেলা লেগেই থাকে ‌। এই বলে আশিক‌ ও তার রুমে চলে আসলো ‌ ।

সবাই যার যার মতন চলে গেল ,,, কিন্তু বাড়ির ছোট ছেলে মেয়েরা কি সব টেনশন বাদ দিয়ে ঘুমাতে চলে যেতে পারে । ইসরাক আর তামিমা সোফার মধ্যে বসে বসে টেনশন করতে লাগলো ।

তামিমা‌ : ঔ ইসরাক‌ আর কতক্ষণ বসে থাকবো রে ভাই এখন তো খুব ঘুম পাচ্ছে রাত দশটা বেজে গিয়েছে ,,,, কি করবো এখন বলতো আমার মাথায় তো কিছু আসছে না ।
বাবার জন্য ভালোও লাগছে না  ,,,কোথায় গেল কি করছে,,, কি বা খাচ্ছে ?

আচ্ছা ইসরাক বলতো আজকে কি বাবার সাথে তোদের কোন ঝামেলা হয়েছিল ,,,হঠাৎ করে বাবা বাড়ি থেকে চলে গেল কেন ? কি করছিস বাবাকে তোরা সেটা বল ‌।

ইসরাক: আপু তুই যে কি বলিস বাবা কে কি কিছু বলতে হয় ,,, বাবা তো এমনিতেই সব সময় রাগ করে থাকে ,, হাসিখুশি থাকে না ,,, মা মারা যাওয়ার পর থেকে রুম থেকেই বেশি বের হয় না ,,,। সব সময় দেখি জানালার পাশে দাঁড়িয়ে থাকে ‌।

এর জন্য আজকে সকালে বাবার সাথে রাগারাগি করছি,,, হাসিখুশি থাকে না বলে,,,, আর বলছি তোমার জন্য আমরাও হাসি খুশি থাকতে পারিনা,,, আমার মেয়ে আছে বউ আছে ,,, তাদের সাথে একটু হাসাহাসি করতে পারি না তোমার ভয়ে ,,, সব সময় এমন ভাবে থাকো ,,, যেন তোমার অনেক কিছু হয়েছে,,, এত বড় ঘর এত টাকা পয়সা কোন দিক দিয়ে তোমাকে অভাবে রাখেনি,,,, নানা বিষয় নিয়ে বাবার সাথে তক্কাতক্কি হয়েছে  আজকে‌ আমার,,,।

কিন্তু আপু বিশ্বাস কর‌ আমি‌ কিছুতেই‌ ভাবিনি‌ এই‌ কথায় বাবা রাগ করে বাড়ি থেকে চলে যাবে । আপু আমার অনেক টেনশন লাগছে রে ,,,,

তামিমা‌ : ও তাহলে এত বড় ভেজাল বাধিয়ে আমাকে ফোন দিয়েছিস ‌ । আমি সংসার রেখে তোদের ঝামেলা সামলাতে এসে পড়লাম এই‌ বাড়িতে ‌। কেন বাবাকে এমন ভাবে কথা বলতে হবে তোদের,,একটু‌ ভালো ভাবে কথা‌ বলতে‌ পারিস‌ না‌ । আমি সকালেই চলে যাব তোরা যা খুশি করিস ‌ ।

আর তোর বউ তো বাবাকে অনেক কথা শুনায় কিছু বলতে পারিস না ,,, সব সময় বাবাকে বলে আপনার জন্য আমরা কোথাও ঘুরতে যেতে পারি না ‌ । একা থাকতে পারি না,,, একা থাকতে আপনার ভয় লাগে,,,, এত বয়স হয়ে গিয়েছে তাও আপনি একাই থাকতে পারেন না এটা কিভাবে হয় ‌। আচ্ছা ইসরাক বলতো ,,,, এগুলো কথা বাবাকে না বললে তোদের হয়না ‌ ।

ইসরাক: আচ্ছা আপু আমি ওমি কে  বলে দিব ,,,আর‌ যেন‌ বাবাকে এমন ভাবে কথা না বলে ,,, কিন্তু এখন আমার টেনশন দূর কর আর কোনদিন বাবাকে বলবো না একটু হাসো ‌ । বাবার যেমন‌ ভাবে ভালো লাগে সেভাবেই‌ থাকবে‌ । বাবার জীবন বাবা ইচ্ছামত চালাক আমরা আর কেউ কিছু বলবো না ‌। এখন শুধু বাবাকে এনে দে আপু ‌।

তামিমা‌ : এখন বুঝিস কেন ? এখন বুঝে কি হবে‌ ? বাবা তো বাড়ি থেকে চলেই গিয়েছে ,,, এখন তোরা ঘুরে বেড়া কেউ তো আর বলবে না আমার ভয় লাগে ,,,আমাকে একা রেখে তোমরা কোথাও যেও না ,,, এগুলো বলবে না‌ । বলবে কি ‌ ? বলবে না তো ‌। এখন তোরা শান্তিতে থাক ।

ইসরাক: এভাবে বলিস না আপু তুই একমাত্র আমাদের বাড়ির বড় সদস্য বাবার পরে ,,, আমাদের কিছু হলে তোকে  ডাকি সমাধানের জন্য ‌। তুই ছাড়া বল আমাদের কে আর‌ আছে আপু প্লিজ রাগ করিস না ‌। কিছু বুঝতে পারছি না ‌।

তামিমা‌ : হয়েছে আমাকে এত পাম পট্টি দিতে হবে না ,,,, এখন যা ঘুম আস‌ই অনেক রাত হয়েছে ,,,দেখি‌ সকালে‌ কি‌ করা‌ যায়‌ ,,,, এই কথা শুনে ,,, ইশরাক ঘুমোতে চলে গেল ‌ । তামিমাও এক গ্লাস পানি পান করে তার রুমে চলে গেল ঘুমানোর জন্য ‌। তাদের বাবার জন্য অপেক্ষা করতে করতে রাত দশটা বেজে গিয়েছে ‌। এভাবেই সেদিনের রাত‌ পার‌ হয়ে‌ গেল ‌।

সকালে কলিং বেলের শব্দে সবার ঘুম ভেঙ্গে গেল ‌‌,,,, পাকনা এক ছোট মেয়ের কথা বেসে আসছে এতো‌ সকালে ,,,, দাঁড়াও মা, আমি দরজা খুলছি ,,,,এই‌ ছোট মেয়েটি‌ হলো‌ ইসরাকের‌ মেয়ে‌ নাম‌ তার ফারিহা‌ ,,,,ফারিহার‌ বয়স‌ 6 বছর।

ফারিহা ছোট ছোট পা দিয়ে হেঁটে হেঁটে দরজার কাছে আসলো এসে দরজাটা খোলার সাথে সাথে ,,, ফারিহা চিৎকার করে বলতে লাগলো ,,,, বাবা,, মা‌ তোমরা‌ দেখে যাও দাদা বিয়ে করে এনেছে,,,,,,,,,, দাদা নতুন ব‌উ নিয়ে‌ এসেছে  ,,,,,,,।


চলবে
393 Views
3 Likes
0 Comments
5.0 Rating
Rate this: