(কিশোর জীবনে প্রেমনদী) পর্ব ০৮

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
"কিশোর জীবনে প্রেমনদী" পর্ব-০৮


রিয়ার সওয়ালের জবাব দিবো এমন সময় দেখি পিছন থেকে একটা গম্ভীর কণ্ঠে আওয়াজ এলো যে, আমি বড়ো হয়ে তোমার স্বামী হতে চাই। তোমার বাচ্চার বাবা হতে চাই। পিছনে গাঢ় ঘুরিয়ে দেখি রিয়ার কাজিন নামের বখাটে সেই ছেলেটা এবং সাথে আরো দু'জন ডাকু আকৃতির বখাটে পোলা দাঁত খিঁচিয়ে আমাদের উভয়ের দিকে আপাতদৃষ্টিতে চোখ রাঙিয়ে তাকিয়ে আছে। রিয়ার দিকে একটু তাকিয়ে আমি থেমে গেলাম। রিয়ার কাজিন বলে উঠলেন যে, "এই তোকে না বলেছিলাম রিয়ার আশপাশেও না থাকার জন্য। তুই এতো স্পর্ধা পেলি কোথায়? সেদিন কি বলেছিলাম তোর কি মনে নেই? দাঁড়া তোকে যেই রোগে ধরেছে, সেই রোগের ওষুধ দিতে হবে। বন্ধু ধর শালা রে হাত পা ভেঙে দে। এই বলে তাঁর সাথে আসা সেই পোলা দুটোকে ইশারা করলো। আমি ছেলেটার চোখে চোখ রেখে হালকা রাগী ভাব নিয়ে নীরবে দাঁড়িয়ে আছি। ছেলে দুটো কাছাকাছি না আসার আগেই হঠাৎ রিয়া বলে উঠেন, এই কি বললি তুই। রিয়াদের হাত পা ভেঙে দিবি? হাত পা ভাঙার তুই কে রে। আমি আর রিয়াদ একে অপরকে পছন্দ করি এবং ভালোবাসি। আজ থেকে আমাদের মাঝে নাক ঢুকানোর চেষ্টাও করবি না। সাহস থাকলে ছুঁয়ে দেখা তো? তুই কি ভাবছিস? তোর ভয়ে আমি এখানে চলে এসেছি? নিজেকে কি ভাবিস? অনেক বড়ো গুন্ডা মনে হয় তাই না? তোকে ভাই মানতাম। আর তুই কি-না ছি... কোন পথে চলে গেলি। পথ ছাড় চলো রিয়াদ! এই বলে রিয়া আমার হাত ধরে পাশ কাটিয়ে চলতে শুরু করলো।

আমি তো রিয়ার দিকে অপলক তাকিয়ে এমন দুঃসাহসিক আচরণ আর অপ্রত্যাশিত হুশিয়ারি কথা দেখে পুরোপুরি নিস্তব্ধ হয়ে গেলাম। ওদিকে রিয়ার কাজিন আর তাঁর সাথে আসা পোলা দুটোও হতভম্ব হয়ে ঠোঁট বাঁকা করে চোখ রাঙিয়ে একে অন্যের দিকে চেয়ে রইলো। রিয়ার এমন হাবভাব দেখে আমার ভেতরে একধরনের সাহসী মনোবল জাগ্রত হয়ে গেলো। খানিক হাঁটতেই চেতনা ফিরে আসায় রিয়াকে বললাম। রিয়া একটু দাঁড়াও। তোমার কাজিনের সাথে একটু কথা বলে আসি। তখনো সেই ছেলেগুলো খানিক দূরে উপস্থিত ছিলেন বিধায় রিয়াকে দাঁড়া করিয়ে রেখে দ্রুত রিয়ার কাজিনে কাছে ছুটে গেলাম এবং তাকে নায়ক নায়ক একটা ভাব নিয়ে বললাম যে, দেখ ভাই, সেদিন তোরে আমি কিছু বলিনি বলে ভাবিস না যে আমি তোকে ভয় করেছি। আমি রিয়ার কাছ থেকে শুনতে চেয়েছিলাম সে সেও আমাকে সত্যি সত্যি ভালোবাসে কি-না। এখন তো তোর সামনেই প্রমাণ করে দিয়ে গেলো। দেখ ভাই, আমি ঝগড়াঝাঁটি পছন্দ করি না। তাঁর মানে এই নয় যে, কেউ এসে এই সেই বলে যাবে কিংবা হুমকি ধমকি দিলে তাকে ছাড় দিবো। রিয়ার কাজিন বলে মাথা গরম করলাম না। ভালো থাকিস ভাই, রিয়ার আশা ছেড়ে দে। আজকের মতো আসি তাহলে এই বলে সেখান থেকে চলে এসে রিয়ার দিকে রওনা দিলাম। রিয়ার কাছাকাছি গিয়ে দুজনেই হাঁটতে হাঁটতে পিছনে ফিরিয়ে দেখি রিয়ার কাজিন আর তাঁর সঙ্গে আসা ছেলে দুটোকে সেখানে আর দেখা যায়নি। তাঁদের না দেখে একটা স্বস্তির শ্বাস ছেড়ে রিয়া আর আমি উভয়ে রিয়ার বাড়ির দিকে চলতে চলতে পৌঁছে গেলাম।

রিয়াকে বিদায় দিয়ে সেদিনের মতো চলে গেলাম নিজের বাসায়। বাড়িতে গিয়ে দেখি কিছু নিকটস্থ আত্মীয় জাতের মেহমান এসেছে। তাঁদেরকে সময় দিয়ে এবং সাথে আড্ডা ও মজা করে সেদিন পার হয়ে গেলো। এর পরের দিন বিদ্যালয়ে যেতে একটু দেরি হলো। তাড়াহুড়ো করে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখি শ্রেণির কক্ষে ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি ভরপুর এবং সেই সাথে শ্রেণি শিক্ষকও পাঠদান করাচ্ছিলেন। সেই শ্রেণি শিক্ষক মহোদয়ের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে শ্রেণির ভেতরে ঢুকে শেষের বেঞ্চের দিকে যেতেই শিক্ষক সাহেব বলে উঠলেন। এই ওদিকে নয়, এখানে সামনের এই দ্বিতীয় বেঞ্চে বসো। প্রতিদিন পিছনে বসে বসে করোটা কি? আজ থেকে তোমাকে সবসময় সামনের বেঞ্চে বসা দেখি মতো। বুঝতে পারছো? জ্বী স্যার! এই বলে সামনের দ্বিতীয় বেঞ্চের এক মাথায় গিয়ে বসলাম। স্যার তাঁর নিজস্ব মতিগতিতে পাঠদান করে যাচ্ছেন। ক্লাসের পাকে পাকে মেয়েদের দিকে বেশ কয়েকবার গাঢ় ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে তাকিয়ে দেখি কোথাও রিয়াকে দেখা যাচ্ছে না। শ্রেণিতে অবস্থানরত শিক্ষক মহোদয় তাঁর সময় অনুযায়ী পাঠদান করে শ্রেণিকক্ষ থেকে বেরিয়ে গেলেন। স্যার চলে যাওয়ার সাথে সাথেই ছাত্রীদের দিকে প্রথম বেঞ্চ থেকে শেষ বেঞ্চ পর্যন্ত ভালো করে বারবার তাকিয়ে দেখলাম। শ্রেণির কেথাও রিয়াকে দেখতে পায়নি। রিয়াকে না দেখে মনটা কেমন জানি হলকা করে নড়ে উঠলো। মনে মনে ভাবলাম যে, রিয়া আসেনি কেনো? কিছু কি হয়েছে? না-কি কালকের ব্যাপারটা রিয়ার কাজিন রিয়ার বাবা-মাকে বলে দিয়েছে। এসব ভাবতে ভাবতে অন্য একজন শিক্ষক শ্রেণির কক্ষে প্রবেশ করলেন।

সেদিনের সমস্ত ক্লাসগুলো করে বিদ্যালয় থেকে চলে গেলাম। কিন্তু রিয়া ক্লাস করতে যায়নি বলে এক দিকে চিন্তিত ছিলাম এবং অন্যদিকে সেদিনটা ভালো লাগেনি। প্রেম-ভালোবাসা হয়তো এমনিই যে, প্রিয়জনকে একটা দিন না দেখলে বুকের ভেতরে কোনো রকমের খুশির আমেজ জন্মায় না। প্রিয়জনকে সবসময় স্মরণ হতে থাকে। সেদিন রিয়া ছাড়া ক্লাস করে বাসায় মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলাম যে, বিকালবেলার দিকে রিয়ার গ্রামে যাবো। তাই বিকালবেলা হতেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে সাথে একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু নিয়ে রিয়ার গ্রামের দিকে চলে গেলাম। রিয়ার ব্যাপারটা সেই বন্ধুকে পুরোপুরি প্রকাশ করিনি। আমি আর আমার সেই ঘনিষ্ঠ বন্ধু দু'জনেই আমাদের গ্রাম থেকে বেরিয়ে অন্য একটি পথ পেরিয়ে রিয়ার গ্রামে প্রবেশ করলাম। রিয়ার গ্রামে ঢুকতেই দেখি......


বিঃদ্রঃ কাহিনীর অবশিষ্টাংশ পরবর্তী পর্বে প্রকাশিত হবে। "গল্প সমাহার" এর সাথেই থাকুন ধন্যবাদ!

142 Views
4 Likes
4 Comments
5.0 Rating
Rate this: