কাজী নজরুল ইসলাম, বাংলা সাহিত্যের বিদ্রোহী কবি, ১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম কাজী ফকির আহমদ এবং মাতার নাম জাহেদা খাতুন। নজরুলের শৈশব খুবই দারিদ্র্যের মধ্যে কেটেছে। ছোটবেলায় তিনি স্থানীয় মক্তবে পড়াশোনা শুরু করলেও খুব বেশি দিন স্কুলে থাকা সম্ভব হয়নি। জীবনের কঠিন বাস্তবতা তাঁকে দ্রুত জীবিকার সন্ধানে পাঠিয়ে দেয়।
প্রথম জীবনে নজরুল স্থানীয় এক মসজিদে মুয়াজ্জিন হিসেবে কাজ করেন। কিছুদিন পরে তিনি লেটোর দলে যোগ দেন, যেখানে গান ও কবিতা রচনা শুরু করেন। এই অভিজ্ঞতা তাঁর ভবিষ্যতের সাহিত্যিক পথচলায় গভীর প্রভাব ফেলে।
১৯২১ সালে ২২ বছর বয়সে কাজী নজরুল ইসলাম বিয়ে করেন প্রমীলা দেবীকে। এই বিয়ে তাঁর জীবনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। তাঁদের দুই ছেলে ছিল— কাজী সব্যসাচী ও কাজী অনিরুদ্ধ। প্রমীলার সাথে নজরুলের বিয়ে ছিল সামাজিক নিয়মের বিরুদ্ধে এক বিদ্রোহের প্রতীক, যা তাঁর সাহিত্যকেও অনুপ্রাণিত করেছিল।
নজরুলের প্রথম উল্লেখযোগ্য রচনা "বিদ্রোহী" কবিতা, যা ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। এই কবিতায় তিনি অত্যাচারী শাসকের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। তাঁর "বিদ্রোহী" কবিতার পর থেকেই তাঁকে "বিদ্রোহী কবি" নামে অভিহিত করা হয়।
কাজী নজরুল ইসলামের জীবনের অন্যতম সেরা অর্জন হলো বাংলা সাহিত্যে তাঁর বৈপ্লবিক অবদান। তিনি ইসলামী গান, শ্যামাসংগীত, প্রেমের গান থেকে শুরু করে গণসঙ্গীত এবং বিদ্রোহী গান রচনা করেছেন। তাঁর রচিত "চল্ চল্ চল্" গানটি বাংলাদেশের রণসংগীত হিসেবে গৃহীত হয়েছে। নজরুলের সাহিত্য কর্মে ধর্ম, মানবতা, বিদ্রোহ, সাম্যবাদ ও প্রেমের মিশ্রণ ছিল।
নজরুল তাঁর জীবনে অসংখ্য কবিতা, গান, প্রবন্ধ, নাটক ও উপন্যাস লিখেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু রচনা হলো "আগ্নেয়গিরি", "সাম্যবাদী", "দোলনচাঁপা", "ভাঙার গান" এবং "প্রলয়োল্লাস"। এছাড়াও তাঁর "অগ্নিবীণা" ও "সঞ্চিতা" কাব্যগ্রন্থ বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সেরা গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হয়।
কাজী নজরুল ইসলাম জীবনের শেষ প্রান্তে এসে দীর্ঘদিন মানসিক অসুস্থতায় ভুগেছিলেন। ১৯৪২ সালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং বাকশক্তি হারান। এরপর দীর্ঘ ৩৪ বছর নিরবতায় কাটানোর পর ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট তিনি ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
সকল কবি সাহিত্যক দের জীবনী(কাজী নজরুল ইসলাম)
16
Views
0
Likes
0
Comments
0.0
Rating

কোন মন্তব্য নেই