কিন্তু তখনও অশোকের মনের ভয় কিছুতেই কাটছিলো না, হৃদস্পন্দন বেড়েই চলেছে আর সেই সাথে সাথে মাথায় কেবল এই প্রশ্নগুলোই ঘুরপাক খাচ্ছে যে কে সেই ছায়ামূর্তি? আর কেনই বা তাকে হত্যা করতে চায় সে? অশোক যেন কিছুতেই কিছু বুঝে উঠতে পারছে না।
এরপর অশোক বিছানা থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে বারান্দায় কিছুক্ষণ পায়চারি করতে লাগলো। একটু পরেই খাবার টেবিল থেকে গোপেশ কাকার ডাক শুনতেই অশোক খাবার টেবিলে গিয়ে উপস্থিত। এবারে অশোক সকালের নাস্তা খেতে টেবিলে বসলেও তার মন যেন আর খাবারের দিকে ছিল না। খাবার সামনে রেখেই সে অন্য কোনো চিন্তায় বিভোর ছিল।
এমনটা দেখে তার গোপেশ কাকা জিজ্ঞেস করলো -" কি হলো অশোক বাবা? আজ আর তোমার খাওয়ার দিকে কোনো মন নেই দেখছি । তুমি কি কোনো কিছু নিয়ে গভীরভাবে চিন্তিত ?"
গোপেশ কাকার কণ্ঠ কানে যেতেই অশোক ভাবনার জগত থেকে বেরিয়ে আসলো। গোপেশ কাকার প্রশ্নের উত্তরে অশোক কিছু বলতে গিয়েও বলতে পারলো না। শুধু মুখে বললো- " না কাকা, আসলে তেমন কোনো ব্যাপার না। ঐ গতকাল রাতে ঘুমটা তেমন ভালো হয়নি তো তাই আরকি।"
গোপেশ কাকা ভালোই বুঝতে পারলো যে অশোক তার কাছে কিছু একটা লুকাতে চাইছে। তবুও সে আর কোনো প্রশ্ন করলো না।
এদিকে হঠাৎ করেই অশোকের বন্ধু রতন অশোকের নাম ধরে ডাকতে ডাকতে ওদের বাড়ির ভিতরে এসে উপস্থিত। অশোক রতনকে দেখা মাত্রই খাবার রেখে উঠে দাঁড়ালো আর জিজ্ঞেস করলো -" কি রে কি হয়েছে? আর এই সাত সকালে এমনভাবে ছুটে আসলি কেন ? কোথাও কি কোনো সমস্যা হয়েছে নাকি?"
অশোকের এতগুলো প্রশ্ন শুনে রতন কোনোমতে দম ফিরিয়ে শুধু এতটুকুই বললো-" মস্ত বড় সর্বনাশ হয়ে গেছে রে। তুই এক্ষুনি আমার সাথে চল।" এই বলেই রতন অশোকের হাত ধরে টেনে নিয়ে যেতে লাগলো। অশোকও আর কোনো প্রশ্ন না করে খাওয়া ছেড়েই ওঠে গেলো খাবার টেবিল ছেড়ে।
যাওয়ার পথে অশোক রতনকে জিজ্ঞেস করলো -" কিরে কোথায় নিয়ে যাচ্ছিস সেটুকু অন্তত বল।"রতন বললো -"আমার সাথে গেলেই দেখতে পাবি।"
এরপর রতন অশোককে নিয়ে গ্রামের তিন রাস্তার মোড়ে থাকা সেই বট গাছের কাছে উপস্থিত হলো। অশোক দেখলো আগে থেকেই সেখানে অনেক ভিড় জমে আছে। এটা দেখে অশোকের একটু খটকা লাগলো। কিন্তু ভিড় সরিয়ে অশোক বট গাছটার কাছে যেতেই যে দৃশ্য দেখলো তা দেখে যেন অশোকের পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে গেলো।
অশোক দেখতে পেলো গাছের ডালে তারই বন্ধু রথিনের ঝুলন্ত লাশ রয়েছে। ঠিক যেমনটা গত রাতে অশোক স্বপ্নে দেখেছিলো। এখন অশোকের মনে এক অজানা আতঙ্কের উৎপত্তি হতে লাগলো। গত রাতের দেখা স্বপ্নই যেন আজ বাস্তবের রূপ নিয়ে তার সামনে উপস্থিত হয়েছে। অশোক যেন এক মুহুর্তের জন্য বাকরুদ্ধ হয়ে গেলো।
অশোক আর কোনো কথা বললো না। এমনকি রতনের সাথেও না। অশোক যখন লোকের ভিড় কাটিয়ে বেরিয়ে আসতে লাগলো তখনই একটু দূরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলো নন্দিনীকে। নন্দিনীকে দেখে অশোক তার দিকে এগিয়ে গেলো।
নন্দিনীর কাছে যেতেই অশোককে উদ্দেশ্য করে বললো-" কি গো তোমার এমন ছন্নছাড়া অবস্থা হয়েছে কি করে? দেখে খুব চিন্তিত মনে হচ্ছে।"
নন্দিনীর উত্তরে অশোক বললো-" না। তেমন কিছু না। আসলে রথিনটা এভাবে হঠাৎ করে চলে গেলো তো তাই আরকি। "
নন্দিনী একটু হেসে বলে উঠলো-" অকালে চলে গিয়েছে নাকি খুন করা হয়েছে! গ্রামে একের পর এক যে কি হচ্ছে কে জানে! মৃত্যুর তাণ্ডব লেগেই আছে। জানি না এর শেষ কোথায়।"
চলবে....
প্রতারণা (৬ষ্ঠ পর্ব)
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
640
Views
4
Likes
0
Comments
4.4
Rating