প্রেম আমার সিজন ২

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
প্রেম_আমার(রোমান্টিকও থ্রিলার)
সিজন_২

মাইশা আলিয়াকে নিয়ে বসার ঘরের দিকে গেল। গিয়ে দেখল ওখানে কেউ নেই। মাইশা এদিক ওদিক চোখ বুলিয়ে খুঁজলো কিন্তু কাউকে দেখতে পেল না।মাইশা আলিয়াকে ওখানে দাঁড় করিয়ে দিয়ে সবাইকে খুঁজতে চলে গেল। আলিয়ার এই গরমের মধ্যে এত ভারী গাউন, ভাই বড় বড় কানের দুল, সাথে মেকআপ সব মিলিয়ে খুব অসহ্য লাগছিল। হয়তো এইসব সাজগোজ ওর কাছে খুব ভালো লাগতো যদি এখন এই সময় রাফাত থাকতো। রাফাত কে বড্ড বেশি মিস করছে আলিয়া। কেমন যেন এক শূন্যতা বিরাজ করছে তার পুরোটা অন্তর জুড়ে। তার বক্ষ পিঞ্জিরা বারবার যেন রাফাত কে জড়িয়ে নেবার পিপাসায় অতলে ভেসে যাচ্ছে।

আলিয়া এক মনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে রাফাতের কথা ভাবছে আর তার বুকটা কষ্টে যেন এফোর ওফোর হয়ে যাচ্ছে। সেই মুহূর্তে হঠাৎ কেউ একজন পিছন থেকে তার দুই হাত দিয়ে আলিয়ার চোখ দুটো ধরল। এইভাবে কেউ আলিয়ার চোখ ধরাতে আলিয়া কিছুটা চমকে গেল।

আলিয়া অনেকটা ভয় পেয়ে বলে উঠলো,
------- কে, কে আপনি এই ভাবে আমার চোখ ধরেছেন কেন।

পিছনে দাঁড়ানো লোকটা কোন কথা বলছে না নিঃশব্দে অকপটে আলিয়ার চোখ গুলো তার দুহাতের আঙ্গুল দ্বয়ে আবদ্ধ করে আলিয়ার পিছনের ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে।শুধু তার ভারী নিঃশ্বাস গুলো আলিয়ার কাঁধে এসে আছড়ে পড়ছে। আলিয়ার জন্য কয়েক মুহূর্তের জন্য মনে হল এই নিশ্বাস যেন তার বহু চেনা। তার মনের ভেতর যেন কিরকম একটা আশফাশ করছে।

আলিয়া তার হাত দুটো দিয়ে পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটার হাত দু'টো ছুঁয়ে অনুভব করার চেষ্টা করল সে আসলে কে। আলিয়ার যেন মনে হচ্ছে সে তার চিরচেনা কেউ।

আলিয়ার মুখ দিয়ে যেন একটা কথা বারবার বের হয়ে আসতে চাচ্ছে,
" তুমি কি আমার ভালোবাসার রাফাত।

কিন্তু বলতে পারছে না। আলিয়া আরও ভালো করে তার হাত দুটো দিয়ে আলিয়ার পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা সেই অজ্ঞাত মানুষটার হাত গুলো কে খুব ভালোভাবে মনের গভীর থেকে ছুঁয়ে অনুভব করার চেষ্টা করছে।

সে আর নিজেকে স্থির রাখতে পারল না অকপটে বলেই দিল,
------- রা----রাফাত।

সঙ্গে সঙ্গে মানুষটা আলিয়ার চোখ দুটো ছেড়ে দিয়ে তার সামনের দণ্ডায়মান হলো। আলিয়া যেন নিজের চোখ কে বিশ্বাস করতে পারছে না সে কাকে দেখছে। এটা সত্যিই তার ভালোবাসার রাফাত। কিন্তু রাফাত এখানে......

আলিয়া কিছু বলতে যাবে সেই মুহূর্তে রাফাত আলিয়ার ঠোঁটে আঙ্গুল ঠেকিয়ে বলল,
------- কোন কথা বলো না তোমাকে একটু মন ভরে দেখতে দাও।

আলিয়া কে একটা কিউটের ডিব্বা লাগছে দেখতে। রাফাত আলিয়ার সাথে ম্যাচিং করে একটা পাঞ্জাবি পড়েছে।আলিয়া পুলকিত নয়নে রাফাতের দিকে তাকিয়ে আছে। তার মনে হচ্ছে তার মনের ভেতর যেই কালবৈশাখীর ঝড় উঠেছিল তা যেন এক নিমিষে সুখে রূপান্তরিত হয়েছে। দুজন দুজনের দিকে অপলকহীন ভাবে তাকিয়ে আছে। এই পলক যেন আর সহজে পরার নয়।

হঠাৎই কেউ আলিয়ার ধ্যান ভঙ্গ করে পিছন থেকে আলতো করে জড়িয়ে ধরে বলল,
------- কিরে এই ভাবে তাকিয়ে থাকবি নাকি শুভ কাজটা শুরু করবি।

আলিয়া পিছন দিকে তার ঘাড় টা সামান্য ঘুরিয়ে দেখে মাইশা দাঁড়িয়ে আছে। আর মাইশার পাশে তার ভাই দাঁড়িয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছে।

তার একটু দূরে তার বাবা আর মা দাঁড়িয়ে আছে। আরিয়ান রাফাতের কাছে এসে আরিয়ানের দুই হাত রাফাতের কাঁধে রেখে আলিয়া কে বলল,
------- কিরে ছেলে পছন্দ হয়েছে তো।

আলিয়া কি বলবে বুঝতে পারছে না তার মুখ দিয়ে কোন কথা বের হচ্ছে না শুধু ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে আছে আরিয়ানের দিকে।

আরিয়ান আলিয়ার কাছে গিয়ে ছোটবেলার মতো তার চুলটা হালকা টান দিয়ে আলিয়া কে বলল,
------- কিরে এভাবে তাকিয়ে আছিস কেন বললি নাতো ছেলে পছন্দ হয়েছে কিনা। ও বুঝেছি হয়তোবা তোর পছন্দ হয়নি ঠিক আছে তাহলে ওড়ানো না হয় চলেই যাক।

সঙ্গে সঙ্গে আলিয়া বলে উঠলো,
------- হ্যাঁ ভাইয়া পছন্দ হয়েছে।

আরিয়ান চোখ পরলাম মাইশার দিকে।মাইশার দিকে তাকিয়ে দেখল মাইশা কৌতুহল দৃষ্টি নিয়ে আরিয়ানের দিকে এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে। হয়তো মাইশার মনে প্রশ্ন জাগ্রত হয়েছে এইসবের মানে কি। তাহলে কি আরিয়ান কিছু জানতো আগে থেকেই।

সবার মধ্যেই একটা নীরবতা বিরাজ করছে। আরিয়ান কিছুটা হেসে ওঠে সবার নীরবতা ভেঙে বলে উঠলো,
------- আলিয়া আমার অনেক আদরের। ছোটবেলায় বাবা আর মায়ের কাছে বায়না করেছিলাম আমার একটা বোন লাগবে। আলিয়াকে পেয়ে আমার সেই মনের আশা পূরণ হয়েছে। এই বোনের সকল আবদার আমি সব সময় ও বলার আগেই পূরণ করার চেষ্টা করতাম। কেন যেন ওর মুখ দেখলেই যেন আমি সব বুঝে যেতাম যে ওর আসলে কি দরকার। আর আমি আমার সেই বোনের মনের কথাটা বুঝতে পারবো না। তার মনের মানুষ কে সেটা জানতে পারবো না। তাহলে কেমন ভাই হলাম আমি। ভাই বোনের সম্পর্কের মধ্যে যদি এই টানটা নাই থাকে তাহলে কেমন রক্তের সম্পর্ক হল সেটা।

আলিয়া আর এক মুহূর্ত নিজেকে স্থির রাখতে পারল না আবেগাপ্লুত হয়ে আরিয়ানকে জড়িয়ে ধরল। চোখ থেকে দু ফোটা পানি টুপ করে আরে আলিয়ার গালে গড়িয়ে পড়ল। আলিয়া অনেক আবেগ মাখা কন্ঠে তার ভাইকে বলল,
------- ভাইয়া আজ পর্যন্ত আমি তোর কাছে যা চেয়েছি তুই আমাকে তাই দিয়েছিস। কিন্তু এটা আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহার ভাইয়া।

আরিয়ানের চোখের কোনে একটু পানি এসে জমা হলো। আড়ালে আরিয়ান চোখের পানিটা মুছে নিল। আলিয়ার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল,
------- পাগলী বোন আমার। বাড়ির নতুন অতিথি কে কি এই ভাবে দাঁড় করিয়ে রাখবি। চল এবার শুভ কাজ শুরু করা যাক।

আলিয়া আরাফাত কে পাশাপাশি সোফায় বসানো হলো। রাফাত একটা আংটি বের করে আলিয়ার অনামিকা পরিয়ে দিল। রেহানা বেগম আলিয়ার হাতে একটা আংটি দিল রাফাতকে পরিয়ে দেওয়ার জন্য। ওদের মধ্যে আংটি বদল হবার সঙ্গে সঙ্গে ঘরে উপস্থিত সবাই জোরে হাততালি দিয়ে উঠলো। আরিয়ান আগে থেকে সমস্ত কিছুর ব্যবস্থা করে রেখেছিল। আরিয়ান দারোয়ানকে ফোন দিয়ে সবকিছু ভেতরে আনতে বলল। একে একে আরিয়ানের আয়োজন মত সবকিছু ভিতরে আসতে শুরু করলো।

মাইশা শুধু অবাক হয়ে সবটা দেখে যাচ্ছে। আলিয়ার এনগেজমেন্ট উপলক্ষে আরিয়ান বড় একটা কেক অর্ডার করেছিল। রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার অর্ডার করেছিল। আরিয়ান এর ইচ্ছে ছিল পুরো সারপ্রাইজ টাই বাড়ির ভেতরে দেওয়ার।

আরিয়ান হা করে তাকিয়ে আছে মাইশার দিকে।ওকে শাড়ি টা পড়ে কেন একটা ডানা কাটা পরী মতো লাগছে।আরিয়ান যেন কিছুতেই দিক থেকে নজর সরাতেই পারছে না।

আরিয়ান মাইশার পাশে গিয়ে দাঁড়ালো।মাইশার কানের কাছে মুখ নিয়ে আস্তে করে বলল,
------- কি আমার মাছরাঙ্গা পাখি আমি বলেছিলাম না যে আমি কি বুঝি আর না বুঝি সেটা সময় আসলেই বুঝতে পারবে।

মাইশার ঠোঁট জোড়ায় এক চিলতে হাসি ফুটে উঠলো। মাইশা অনেকটা কৌতুহল নিয়ে আরিয়ানকে জিজ্ঞেস করল,
------- কিন্তু তুমি রাফাত আর আলিয়ার বিষয়টা কি করে জানলে।

------- আলিয়ার ডায়েরী পড়ে।

------- কই আমাকে তো কিছু বললে না।

------- বললে তো আর সেটা সারপ্রাইজ থাকত না। আর আমার মাছরাঙ্গা পাখির ঠোঁটে এত সুন্দর একটা হাসির রেখা দেখতে পেতাম না। তা আমার মাছরাঙ্গা পাখিটা খুশি হয়েছে তো।

মাইশা হেসে উঠে বলল,
-------- সত্যি আমি ভীষণ খুশি হয়েছি। আলিয়ার মুখের ঐ খুশি টা আমাকে আরো বেশি খুশি করেছে।

------- আচ্ছা মাছরাঙ্গা পাখি দেখোতো এই পাঞ্জাবিটায় আমার কেমন মানিয়েছে।

মাইশা ভালো করে আরিয়ানের পা থেকে মাথা পর্যন্ত একবার চোখ বুলিয়ে নিল। মাইশা এতক্ষণ খেয়ালি করে নি যে আরিয়ানের পাঞ্জাবিটা মাইশার শাড়ির সাথে একদম হুবহু ম্যাচিং করা। মাইশা ভালো করে দেখে বুঝতে পারলো আরিয়ান কাপড় ড্রেস কিনেছে। বাসা বুঝতে পারল গতকালকে আরিয়ান আর রাফাত দু'জন মার্কেটে গিয়ে দুটো কাপড় ড্রেস কিনেছে। পাঞ্জাবি টা তো সত্যি আরিয়ানকে দারুন লাগছিল। গলার কাছে হালকা এমব্রয়ডারির কাজ করা। পাঞ্জাবিটা অনেকটা ফিটিং করা। আরিয়ানের গায়ে পাঞ্জাবিটা যেন জ্বলজ্বল করছে। খুব মানিয়েছে পাঞ্জাবি টায় আরিয়ানকে। মাইশা দুই আঙ্গুল দিয়ে আরিয়ানকে বোঝালো খুব চমৎকার লাগছে।

আরিয়ান হঠাৎ করে মাইশার হাত টা টান দিয়ে ওকে এক পাশে নিয়ে গিয়ে দুষ্টু একটা চাহনি দিয়ে ঠোঁটের কোন একটা বাঁকা হাসি নিয়ে মাইশা কে বলল,
------- সবাই তো সবার পাওনা পেল আমার পাওনা টা।

মাইশা বেশ বুঝতে পারছিলো আরিয়ানের মাথায় ঠিক কি ঘুরছে। নিশ্চয়ই কোনো না কোনো দুষ্টু বুদ্ধি ওর মাথায় চেপে বসেছে। মাইশা কয়েক কদম পিছিয়ে গিয়ে আরিয়ান কে বলল,
-------- পাওনা মানে কিসের পাওনা আমার তো জানা মতে তুমি আমার কাছ থেকে কোন কিছু পাও না তাহলে কিসের পাওনা।

আরিয়ান গুটিগুটি পায়ে মাইশার কাছে এগিয়ে যাচ্ছে। আর মাইশা পেছাচ্ছে। আরিয়ান হঠাৎই মাইশার হাত টান দিয়ে ধরল।মাইশার ঠোঁটের দিকে আরিয়ান অপলক ভাবে তাকিয়ে আছে। আরিয়ান ক্ষীণ স্বরে বলল,
-------- আমার পাওনা যে ওই ঠোঁটে লুকিয়ে আছে।

মাইশা কিছু বলে ওঠার আগেই আরিয়ান তার ঠোঁট গুলো মাইশার ঠোঁটে মিশিয়ে দিল। মাইশা আজকে আর কোন বাঁধা যেন আরিয়ানকে দিতে পারল না। মাইশা বাধা হীন ভাবে মাইশার হাত দিয়ে আরিয়ানের শার্ট খামচে ধরল। আরিয়ান আরো শক্ত করে মিশে গেল মাইশার সঙ্গে।

আলিয়া অনেকক্ষণ আরিয়ান আর মাইশা কে দেখতে না পেয়ে ডাকতে ডাকতে ঐ দিকে যাচ্ছিল। আলিয়ার গলা পেয়ে আরিয়ান সঙ্গে সঙ্গে মাইশা কে ছেড়ে দিল।

কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করে বলল,
-------- উফ্ এই আলিয়া টা আর আসার সময় পেল না। দিল আমার রোমান্সের বারোটা বাজিয়ে।

মাইশা বুঝতে পারল না সে হঠাৎ কি করে ফেলল। প্রচন্ডভাবে লজ্জায় পড়ে গেল মাইশা আরিয়ানের কাছে। আরিয়ানের দিকে সে চোখ তুলে তাকাতেই পারছে না। মাইশা আর এক মুহূর্ত সেখানে না দাঁড়িয়ে দৌড়ে চলে যেতে নেবে তখনই আরিয়ান পেছন থেকে মাইশার হাত টেনে ধরল।

------- এই প্রথম তোমাকে আমি তোমার সম্মতিতে আমার ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটালাম। এইভাবে সারা জীবন আমার হয়ে থাকবে তো।

মাইশার মুখগুলো লজ্জায় একদম টমেটোর মত টকটকা লাল হয়ে গেল। মাইশা নিজের অজান্তেই উত্তর দিল,
------- এইভাবে ভালো বেসো সারা জীবন তোমার হয়েই থাকবো শুধুমাত্র তোমার।

কথাটা বলে মাইশা আর এক মুহূর্ত দেরি না করে আরিয়ানের হাত থেকে নিজের হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে দৌড়ে পালালো। আরিয়ান মাইশার এই কান্ড দেখে হাসতে হাসতে শেষ।

আরিয়ান ওর যাবার পানে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বলল,
------- আমি ওকে আমার জীবনে ধরে রাখতে পারি নি। তোমাকে ওর জায়গায় বসিয়ে ওকে হারানোর কষ্ট আমি চিরতরে ভুলে আছি। তোমাকে আমি কখনো আমার জীবন থেকে হারিয়ে যেতে দেব না। যদি কখনো কোন কারনে আমার কাছ থেকে হারিয়ে যাও তাহলে মনে করবে সেই দিনই হবে এই পৃথিবীতে আরিয়ান চৌধুরীর শেষ দিন হবে ।

আলিয়ার এনগেজমেন্ট উপলক্ষে যতটুকু ছোটখাটো আয়োজন করা হয়েছিল বাড়িতে তার সম্পূর্ণ শেষ করে রাফাত চলে যাবার আগে রাফাত সবার উদ্দেশ্যে বলল,
------- বাবা একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজে আটকে গেছে বিধায় বাংলাদেশে এসে পৌঁছাতে পারে নি। কিছুদিনের মধ্যেই বাবা চলে আসবে বাবা চলে আসলেই আলিয়ার সাথে আমার বিয়ের দিন ফিক্সড করবে।

কথাগুলো বলে রাফাত চলে যাচ্ছিল ঠিকই কিন্তু যাবার আগে বারবার ঘুরে ঘুরে আলিয়াকে দেখছিল। রাফাতের ইচ্ছে করছিল আলিয়াকে সাথে করে নিয়ে যেতে কিন্তু সমাজের বাধা-নিষেধের কাছে সে আবদ্ধ। তবে তার মনে এতোটুকু শান্তি আলিয়া এখন তার হয়ে গেছে এখন আর কোন ভয় আর বাঁধা নেই তাদের মাঝখানে। আলিয়া তাকিয়ে আছে রাফাতের দিকে ইচ্ছে করছিল দৌড়ে যে রাফাতের প্রশস্ত বুক টায় নিজেকে মিশিয়ে নিতে। কিন্তু পারছিল না। রাফাত অনেক কষ্টে নিজের মনটাকে বুঝিয়ে সেখান থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেল। আলিয়া ছল ছল চোখে তাকিয়ে আছে রাফাতের যাবার পানে। আলীয়ার যে বুকের ভেতরটা দুমড়ে মুছে শেষ হয়ে যাচ্ছে রাফাত‌ কে বিদায় দিতে। আলিয়া বুঝতে পারছে না কেন তার আজকে এত কষ্ট হচ্ছে। কেন যেন মনে হচ্ছে রাফাত কে হয়তো আর রাফাত কে এত কাছ থেকে আর দেখতে পাবে না।

___________________________________

রিয়াদ বাসায় গিয়ে ল্যাপটপ টা অন করে পেনড্রাইভ টা ল্যাপটপের ভিতরে কানেকশন করে একটা ভিডিওর দিকে পলকহীন ভাবে তাকিয়ে আছে। ভিডিওটা দেখে তার মনে হচ্ছে তার বিবেক যেন তাকে আজ প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তার বিবেক তার দিকে আঙ্গুল তুলে বলছে,
------- সত্যি তুই অনেক বোকা, সত্যি তুই চোখ থাকতেও অন্ধ। তুই খাঁটি মানুষটাকে রেখে মরীচিকার পিছনে দৌড়ে বেরিয়েছি এতদিন। এখনই সঠিক সময় সত্যি কারের ভালোবাসা ডাকে সাড়া দিয়ে তার হয়ে যা।

রিয়াদ আর এক মুহূর্ত দেরি না করে তার ফোনটা হাতে নিয়ে সীমার নাম্বারে ফোন দিল। কয়েকবার রিং হলো কিন্তু সীমা ফোনটা ধরল না। আরো বেশ কয়েকবার রিয়াদ সীমাকে ফোন দিল কিন্তু সীমা ফোন ধরল না। রিয়াদের কেমন যেন পাগল পাগল লাগছে। এত কাছে থেকেও সে তার আপন মানুষকে চিনতে পারে নি। বারবার তাকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল। আজ যখন সে তাকে আপন করে নিতে চাইছে কিন্তু তার সেই মানুষটার সাড়া সে পাচ্ছে না। বুকের ভেতরটা রিয়াদের দুমড়ে মুচরে খানখান হয়ে যাচ্ছে।

রিয়াদ নিজেই নিজেকে ধিক্কার দিতে দিতে বলল,
-------- সত্যিই আমি একটা অপদার্থ। আসল মানুষ না চিনে নকল মানুষের পিছনে দৌড়েছি এতদিন। ছি আমার নিজের প্রতি নিজের ধিক্কার হচ্ছে আজ। তবে যেভাবেই হোক সীমাকে আমি আমার জীবনে আবার ফিরিয়ে আনব।

সীমা বালিশে মুখ গুঁজে অঝোরে কাঁদছে। রিয়াদের প্রত্যেকটা ফোন যেন সীমার কলিজা ভেদ করে দিচ্ছে। কেউ যেন সীমার কলিজা টাকে এ ফোর ও ফোর। খুব ইচ্ছে করছে রিয়াদের ফোনটা ধরে তার সাথে কথা বলে তার মনের পিপাসা টা মিটাতে। কিন্তু যে মানুষটা তার নয় তার সাথে কথা বলে পিপাসা মেটানোর চেয়ে কষ্টই বেশি হবে। সীমা ফোনটা হাতে নিয়ে দেখলো রিয়াদের দশটা মিসড কল। সীমা সঙ্গে সঙ্গে ফোনটাকে সাইলেন্ট করে রাখল। যেন কিছুতেই সীমার মনটা যেন আর রিয়াদের দিকে ধাবিত না হয় কারণ সীমা অনেক কষ্ট পেয়েছে তার এই জীবনে কষ্ট ছাড়া আর কিছুই নেই সে আর নতুন করে আর কোন কষ্ট পেতে চায় না। সবার কাছ থেকে অগোচরে সে খুব দ্রুত বিদায় নিয়ে চলে যেতে চায় এই শহর পেরিয়ে তার চিরচেনা সেই স্থানটিতে।

____________________________________

এর মধ্যে প্রায় কয়েকদিন পেরিয়ে গেছে। মাইশার সাথে আরিয়ানের সম্পর্কটা এখন অনেক স্বাভাবিক। সারাদিন খুনসুটি, ছোট মিষ্টি ঝগড়া প্রেম এই নিয়ে চলছে মাইশা আর আরিয়ানের জীবন। মাইশা আর আরিয়ান এখন একজন একজনের প্রাণ। কেউ কাউকে ছাড়া কিছু বোঝেনা। ওরা যেন একজনের নিঃশ্বাস দিয়ে অন্যজন নিঃশ্বাস নেয়। দুজন যেন দুটি প্রাণ এক আত্না টা এরকম ভাবে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে তাদের প্রেম কাহিনী।২ দিন পরেই মাইশা আর আরিয়ানের গায়ে হলুদ। আরিয়ান সযত্নে মাইশার সমস্ত প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র লিস্ট করছে।এতো টুকু কমতি সে রাখতে চায় না এই বিয়ে তে। অনেক বড় আর ধুমধাম করে বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে মাইশা কে তার ঘরে তুলে নিতে চায়।

রিয়াদ সীমাকে অনেক দিন থেকে খুঁজে চলেছে। সীমা যেখানে থাকতো সেখান থেকে সে বাসা পরিবর্তন করে যে কোথায় চলে গেছে কেউ তার ঠিকানা জানে না। সে হন্যে হয়ে বারবার সীমাকে খুঁজে চলেছে তার দুটো চোখ দিয়ে। হৃদয়টা বারবার ক্ষতবিক্ষত হয়ে যাচ্ছে সীমাকে হারানোর কষ্টে। তবে সীমাকে আবার ফিরে পাওয়ার জন্য তার যতদূর যেতে হয় যা করতে হয় সে সবটাই করবে।

__________________________________________

এদিকে সাব্বির, একটা ফাইল হাতে নিয়ে মূর্তির মত বসে আছে তার অফিসে।সাব্বির যা সন্দেহ করেছিল ঠিক তাই হয়েছে। সমস্ত এভিডেন্স প্রমাণ তার দিকেই ইঙ্গিত করছে। সাব্বির চাইলেও তাকে কোনভাবেই আইনের হাত থেকে বাঁচাতে পারবে না। কারণ আইনের কাছে সাব্বির বাঁধা। হয়তো তার শাস্তি কিছুটা কম হওয়ার জন্য সুপারিশ করতে পারবে। কিন্তু তার আগে এই ঘটনার সূত্রপাত কেন হলো কেন সে এই খুনগুলো এত নৃশংস ভাবে করছে এটা সাব্বিরকে জানতে হবে। তবে সাব্বির একটা ইম্পরট্যান্ট পয়েন্ট মার্ক করে রেখেছে। এরপর তার নেক্সট টার্গেট কে টা কে তা সাব্বির বুঝতে পেরে গেছে। তার জীবন সংকটাপণ্ন। তাকে শেষ করতে পারলে সে তার লক্ষ্যে পৌঁছে যাবে আর তার প্রতিশোধ নেয়া টাও হয়তো শেষ হবে। তার আগেই তাকে ধরে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করাতেই হবে তা না হলে তাকে বাঁচানো যাবে না।তাকে হয়তো শেষ করে দিতে পারে ঐ অমানুষ টা।

চলবে .....

311 Views
2 Likes
0 Comments
5.0 Rating
Rate this: