শহরের বাইরে, নির্জন এক গ্রামে ছিল এক পুরনো বাড়ি। সবাই বলত, বাড়িটা অভিশপ্ত। কেউ কখনো রাতে সেখানে থাকতে পারত না, কারণ রাত হলেই বাড়ির ভেতর থেকে শোনা যেত অদ্ভুত সব আওয়াজ—কেউ যেন ফিসফিস করে কথা বলছে, দরজা-জানালা খুলছে আর বন্ধ করছে, কখনো বা কান্নার আওয়াজও পাওয়া যেত।
একদিন শহর থেকে রাহুল নামে এক যুবক বন্ধুদের সাথে সেই বাড়িতে যাওয়ার পরিকল্পনা করল। তারা সবাই সাহসী এবং ভূতের গল্প বিশ্বাস করত না, তাই তারা রাতটা সেখানে কাটানোর চ্যালেঞ্জ নিল। সন্ধ্যার পরে তারা পৌঁছায় সেই বাড়িতে। বাড়িটা বাইরে থেকে যতটা ভীতিকর, ভেতরে ঢুকতেই মনে হলো আরও ভয়ংকর। দেয়ালে পুরনো ছবি ঝুলে ছিল, মেঝেতে ধুলোর স্তর আর বাতাসে ছড়িয়ে ছিল যেন অজানা কোনো ভয়।
রাত যত গভীর হতে থাকল, ততই তারা অস্বস্তি বোধ করতে শুরু করল। হঠাৎ করে বাড়ির ভেতরে একটা কোলাহল শুরু হল—মেঝের ওপর কারও পায়ের আওয়াজ, দেয়ালে হাত দিয়ে ঘষার শব্দ। রাহুল আর তার বন্ধুরা একে অন্যের দিকে তাকিয়ে হাসল, ভেবে নিলো এটা বাতাসের কাজ।
কিন্তু মাঝরাতে রাহুল ঘুম থেকে জেগে দেখে, তার পাশে কেউ একজন দাঁড়িয়ে। অন্ধকারে পরিষ্কারভাবে দেখা না গেলেও, তার অনুভূতি বলে দিচ্ছিল, এটা কোনো মানুষ নয়। ধীরে ধীরে সেই ছায়াটা কাছে এগিয়ে আসতে থাকে, তার নিঃশ্বাস রাহুলের গায়ে লাগছিল। ভয়ে রাহুল চিৎকার করে উঠতে চেয়েছিল, কিন্তু গলা দিয়ে কোনো শব্দ বের হল না। সেই ছায়া ধীরে ধীরে তার দিকে হাত বাড়াতে থাকে।
আচমকা, দরজা জোরে এক আওয়াজ করে খুলে যায়। বন্ধুরা দৌড়ে এসে রাহুলকে টেনে বের করে নিয়ে যায়। পরদিন সকালে তারা শোনে, সেই বাড়িতে একসময় একজন মহিলা তার জীবন শেষ করে দিয়েছিল, এবং তার আত্মা সেই বাড়িতে বন্দী হয়ে আছে।
রাহুল আর তার বন্ধুরা আর কখনোই সেই বাড়ির দিকে ফিরে তাকায়নি। তারা জানত, সেখানে কিছু একটা অস্বাভাবিক আছে, কিছু যা মানব চোখে দেখা যায় না, কিন্তু অনুভব করা যায়—একটা অশরীরী উপস্থিতি।
পুরানো বাড়ি
823
Views
16
Likes
6
Comments
4.3
Rating

সকল মন্তব্যগুলো (6)
গল্পটি অনেক সুন্দর আর ভয়ানকও আছে
গল্পটি খুবই সুন্দর
এই গল্পটি খুবি সুন্দর
ডডতডঢমব
ছন্দ
nice