পুরানো বটগাছের রহস্য

গল্প: পুরানো বটগাছের রহস্য

রাতের নিস্তব্ধতা চারপাশকে এমনভাবে ঢেকে ফেলেছে, যেন গাছের পাতার মর্মরধ্বনিও শোনা যাচ্ছে। গ্রামের বাইরে, এক গভীর বনে, একটি পুরানো বটগাছ দাঁড়িয়ে আছে। গাছটি সম্পর্কে গ্রামের সবাই বলে, "ওই বটগাছের তলায় রাতে কেউ যায় না।"

শহর থেকে গ্রামে বেড়াতে আসা সুমন এসব ভূতের গল্প বিশ্বাস করে না। বন্ধুদের সাথে আড্ডায় বসে সে হাসতে হাসতে বলে, "এসব গাঁজাখুরি গল্প! ভূত-প্রেত বলে কিছু নেই।" বন্ধুরা তাকে সাবধান করল, "সুমন, এসব নিয়ে মজা করো না। আমাদের গ্রামে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে, যা কেউ ব্যাখ্যা করতে পারে না।"

সুমন মজা করেই চ্যালেঞ্জ করল, "দেখি, আমি আজ রাতেই ওই বটগাছের তলায় গিয়ে প্রমাণ করব যে এসব মিথ্যা।" বন্ধুরা ভয় পেয়ে গেল, কিন্তু সুমনের জেদ। তাই সেদিন রাতেই সবাই মিলে ঠিক হলো, সুমন একা যাবে বটগাছের নিচে, আর বন্ধুরা দূর থেকে তাকে দেখবে।

রাত ঠিক বারোটার সময় সুমন একা চলল বটগাছের দিকে। বটগাছটি গ্রামের একেবারে শেষ প্রান্তে, তার নিচে পৌঁছাতে হলে একটা সরু মাটির রাস্তা ধরে যেতে হয়। দূরে দাঁড়িয়ে বন্ধুরা কৌতূহলী দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।

গাছের কাছে পৌঁছে সুমন হেসে বলল, "দেখো, কিছুই হলো না!" সে গাছের নিচে দাঁড়িয়ে চারপাশে তাকাল। হঠাৎ বাতাসে একটা অদ্ভুত শীতলতা অনুভব করল। গাছের ডালপালা নড়তে লাগল, যেন গাছটা জীবিত হয়ে উঠছে। কিছুক্ষণ পর মনে হলো, যেন কেউ গাছের পেছন থেকে তার নাম ধরে ডাকছে—“সুমন… সুমন…”

সুমন প্রথমে মনে করল, হয়তো বন্ধুরা মজা করছে। কিন্তু চারপাশে তাকিয়ে দেখল, তার বন্ধুরা অনেক দূরে। শব্দটা আরও কাছে আসছে, যেন কোনো অদৃশ্য ছায়া তার দিকে এগিয়ে আসছে। হঠাৎ গাছের নিচে একটা ছায়ামূর্তি দাঁড়িয়ে গেল—অস্পষ্ট, ধোঁয়াটে, কিন্তু মানুষের মতো আকৃতি।

সুমনের শরীরের রক্ত হিম হয়ে গেল। সে দৌড়াতে চাইলো, কিন্তু পা যেন মাটি থেকে উঠছে না। সেই মূর্তি ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে আসছে, আর সুমন মনে করতে লাগল গ্রামের বুড়োদের সেই কথাগুলো, "এ গাছের নিচে একসময় এক বৃদ্ধ মারা গিয়েছিলেন, তার আত্মা এখনও এখানে ঘোরে।"

অবশেষে, প্রচণ্ড সাহস জোগিয়ে সুমন দৌড়ে পালাল। বন্ধুরা দূর থেকে দেখতে পেল, সে বেপরোয়া গতিতে তাদের দিকে ছুটে আসছে। এসে পড়তেই সুমন ধপ করে মাটিতে বসে পড়ল, ঘামতে লাগল, মুখে কোনো কথা নেই।

সেদিনের পর থেকে সুমন আর কখনো ভূতের গল্প নিয়ে মজা করেনি। সে গাছের নিচে আসলেই কি ছিল, তা কেউ জানে না। তবে সেই বটগাছের নিচে আর কেউ যাওয়ার সাহস পেল না।

শেষ।

17 Views
0 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this:
(0)

মন্তব্য

কোন মন্তব্য নেই