ঠাসসসসস,,,,তোর সাহস কি করে হয় আমার পাশে বসার ছোটলোক গাঁইয়া ক্ষ্যাত ছেলে । কীভাবে যে এরা এইরকম ভার্সিটিতে চান্স পায় কে জানে ।
কি কিছু বুঝতে পারলেন তাই তো । চলুন তাহলে ঘুরে আসি ফ্লাশব্যাক ।
ফ্লাশব্যাক,,,,
আমি রাকিব । বাসা বগুড়া । আমাদের বাসা গ্রামে হলেও মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে । অনার্স ১ম বর্ষে নতুন ভর্তি হলাম । বগুড়ার বিখ্যাত সরকারি আজিজুল হক কলেজে । সেই জন্য আজকে আমার কলেজের প্রথম দিন । সেই জন্য তাড়াতাড়ি করে রেডি হলাম ।
কলেজের গেট দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করলাম ।
আমি দেখতে পুরাই বোকা সোকা । মাথার চুল গুলো অনেক বড় । মনে হয় দেড় দুই মাসে মাথার চুল কাটিনি । কাঁধে একটি ব্যাগ ও গায়ে অনেক ঢিলা ঢালা পোশাক । এক কথায় পুরাই ক্ষ্যাত হয়ে কলেজের প্রথম দিন গেলাম ।
সবাই উৎসুক ভাবে আমার দিকে তাকিয়ে রয়েছে।
ভিতরে প্রবেশ করেই একটি ছেলেকে জিঙ্গাসা করলাম,,,,,,,
আমিঃ ভাইয়া অনার্স ১ম বর্ষের অর্থনীতি ডিপার্টমেন্টের রুম কোথায় একটু বলবেন।
ছেলেটি মুখ কেমন যেনো করে রুমের কথা বলে দিল । আমি ছেলেটির কাছে থেকে রুমের কথা নিয়ে নিজের ক্লাস রুমের উদ্দেশ্য
হাটা দিলাম ।
রুমে প্রবেশ করতেই আমাকে দেখে রুমের সকল
স্টুডেন্টরা অনেক হাসাহাসি শুরু করে দিল।
রুমে প্রবেশ করার পর চারদিকে তাকিয়ে
দেখলাম সব বেঞ্চ ভরা । শুধু মাঝখানের
একটি বেঞ্চ এ একটি মেয়ে বসে আছে ।
তবে তার সাথে আর কেউ বসে নেই ।
তাই কিছু না ভেবে মেয়েটির পাশে বসে পড়লাম । আর তখনই উপরের ঘটনাটি ঘটে ।
বর্তমানে,,,,,,,
আমিঃ দেখুন আশেপাশে আর কোনো সিট
খালি ছিলো না তাই আমি আপনার পাশে এসে
বসেছি । (গালে হাত দিয়ে)
মেয়েটিঃ ছোটলোকের বাচ্চা তুই আবার আমার মুখে মুখে তর্ক করিস।সাহস তো তোর কম না।
তুই জানিস আমি কে। আমি কোটিপতি আশরাফ চৌধুরীর একমাত্র মেয়ে । কলেজের প্রিন্সিপাল আমার আব্বুর বন্ধু ।
আমিঃ সরি মেম ।
মেয়েটিঃ এখনো বলছি এখান থেকে উঠ আর ওইযে ওখানে গিয়ে বস । (একটা বেঞ্জ দেখিয়ে)
আমি আর কোনো কথা না বলে সেখানেই গিয়ে বসে পড়লাম । আর তখনই কয়েকটা ছেলে ক্লাস রুমে প্রবেশ করে । এসে আমাকেই বলতেছে,,,,
ছেলেটিঃ এটা আমাদের সিট । তুই এখান থেকে উঠ ।
আমিঃ আরে ভাইয়া সমস্যা কি । এখনে বসুন না ।অনেক জায়গা আছে তো । আসুন একসাথে বসি ।
ছেলেটিঃ কি বললি আমরা তোর মতো ক্ষ্যাত গাঁইয়া ছেলের সাথে একসাথে বসবো । (অনেক রেগে)
বলেই তার মধ্যে একটা ছেলে স্ব-জোড়ে আমাকে লাথি মারে । আর আমি তা সামলাতে নিচে পড়ে যাই । এটা দেখে সবাই অনেক জোরে হাসতে লাগে ।
পড়ে যাওয়ার সময় কপাল গিয়ে অন্য বেঞ্জে গিয়ে লাগে । তখন কপাল থেকে রক্ত বের হয় ।
এরকম অবস্থায় আমার ক্লাস করতে অনেক কষ্ট হবে তাই আর ক্লাসে এক মুহূর্ত না থেকে চলে আসলাম ।
তারপর হাসপাতালে গিয়ে হালকা ট্রিটমেন্ট করালাম । আর রিকশা করে বাসায় চলে এলাম । রিকশায় আসার সময় ভাবতেছি শহরের মানুষ গুলো কি এরকমই হয় ? গ্রামের ছেলে বলে কি আমরা মানুষ না ? দামি পোশাক ই কি সব ? চেহারাই কি আসল ? এরা কি মানুষের মনের কোনো মূল্য দিতে যানে না ?
অনেক প্রশ্ন মাথায় আসে । এসব ভাবতে ভাবতে বাসায় চলে এলাম । বাসায় আসতেই আম্মু বললো,,,,,,
আম্মুঃ কি রে কি হইছে তোর । কপালে কিসের আঘাত ।
আমিঃ কিছু না আম্মু ছোট্ট আঘাত ।
আম্মুঃ কলেজের প্রথম দিনই এরকম ।
আমিঃ সমস্যা নেই আম্মু ।
আম্মুঃ আর এটা কি ক্ষ্যাত সেজে কলেজে গেছিস ।
আমিঃ কিছু না আম্মু ।
তারপর আমার রুমে আসতেই আমার ছোট বোন রিয়ার সাথে দেখা হলো । আর বলল,,,,,
রিয়াঃ কি রে ভাইয়া কলেজের প্রথম দিন কেমন লাগলো ।
আমিঃ অনেক ভালো । যা জীবনেও ভুলতে পারবো না ।
রিয়াঃ আর এ কি ক্ষ্যাত সেজে কলেজে গেছিস কেন ।
আমিঃ তুই ছোট মানুষ বুঝবি না । সর এখান থেকে ।
বলেই রুমে চলে এলাম । এসে অনেক ক্লান্ত লাগলো তাই ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করে ঘুমিয়ে পড়লাম । সন্ধ্যার দিকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে পড়াশোনা করলাম ।
তারপর রাতে খাওয়া দাওয়া করে ফেসবুকে ঢুকলাম । ফেসবুকে আমি একজন রাইটার । তাই গল্প দিয়ে একটু ম্যাসেজ আর কিছু কমেন্টস এর রিপ্লেই করা সময় হঠাৎ একটা মেসেজ আমার চোখ কে ছানাবড়া করে তোলে । কারন,,,,,,,,,
চলবে,,,,,,,,
প্রথম পর্ব ভালো লাগলে পরের দিবো না হলে দিবো না আর । কমেন্টস করে অবশ্যই জানাবেন ।
ছদ্মবেশী লেখক
19
Views
0
Likes
0
Comments
0.0
Rating

কোন মন্তব্য নেই