ছেঁড়া জুতা আর ঘামে ভেজা শার্টটা পরে যখন কলেজে যেতাম তখন সবাই আমাকে দেখে নাক ছিটকাতো আর সবাই দূরে দূরে সরে থাকতো ।
আমার সাথে কেউ বন্ধুত্ব করতো না । এমনকি ক্লাসের টিচারও আমাকে ঘৃ*না*র চোখে দেখতো । সবাই এমন ভাব নিতো আমি যেন মানুষের শ্রেণীতেই পরি না ।
ক্লাসে আমার সাথে বসতো না । আমার জায়গা ছিলো একদম লাস্ট বেঞ্চ । ওখান থেকেই ক্লাস করতাম । সবার যেন একমাত্র ঘৃ*ণা*র পাত্র আমি ।
আমার জীবনটা এমন ছিলো না । আমিও কোনো এক বাবা মায়ের রাজপুত্র ছিলাম । বাবা মা আমাকে আর আমার ছোট বোনটাকে অনেক ভালোবাসতো । ভালোই ছিলাম আমরা ।
কিন্তু একটা এ*ক*সিডেন্ট আমার জীবনটা একেবারে ওলোট পালট করে দেয় । রোড একসিডেন্টে বাবা যখন মা*রা যায় বড় সন্তান হিসেবে সংসারের জোয়াল আমার কাঁধেই এসে পড়ে ।
আমি রাকিব । বগুড়া জেলার ছোট্ট একটা গ্রামে থাকতাম । পড়াশোনার জন্য আমি একা শহরে এসে থাকছি । শহর বলতেই বড় বড় অট্টালিকায় থাকি তা না । ছোট্ট একটা টিনের ঘর ভাড়া নিয়ে থাকি ।
ঘর ভাড়াটাও ঠিক মতো দিতে পারি না । তাই বাড়িওয়ালার কাছ থেকে অনেক কথাও শুনতে হয় ।
পড়াশোনার পাশাপাশি একটা গ্যারেজে কাজ করি । কিন্তু বাসায় বলেছি আমি পার্ট টাইম জব করি । কাজ করতে কলেজে যেতে দেরী হয় । তাই প্রতিদিন কবীর স্যারের কাছে অপমানিত হতে হয় ।
তবুও আমি কিছু মনে করি না । কারন আমার মতো ছেলেকে এতো দামি কলেজে পড়তে দিয়েছে এটাই অনেক ।
কলেজ ছুটির পর আমি হেঁটে হেঁটে বাড়ি ফিরছি । প্রত্যেক দিনই হেঁটে বাড়ি যাই । আজকেও তাই করছি ।
এমন সময় একটা গাড়ি এসে আমার কাপড় নোংরা করে দিল । তারমানে কাল কলেজে আসা হবে না । বাসায় এসে শার্টটা ধুয়ে দিলাম ।
তারপর ফ্রেশ হয়ে না খেয়েই গ্যারেজে চলে আসলাম । এখান থেকে যা পাই তা দিয়েই আমার লেখাপড়া,,ছোট বোনের ও লেখাপড়া আর সংসার চালানোর জন্য বাসায় টাকা পাঠাতে হয় । বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করতে হয় ।
চাচাঃ কিরে কাজে আইতে এতো দেরি করলি ক্যান ।
আমিঃ চাচা আর বইলেন না কলেজ থেকে আসার সময় পড়ে গেছিলাম তাই আসতে দেরি হলো ।
চাচাঃ হুম । তাড়াতাড়ি কাজে লাইগা পড় ।
রাতে কাজ করে বাসায় ফিরলাম । এসে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম । পরদিন সকালে চাইলেও আর কলেজে যেতে পারলাম না । কারন ভালো শার্ট ওই একটাই ছিল ।
তাই আজকে সকালেই গ্যারেজে চলে আসলাম ।
চাচাঃ কিরে রাকিব আজকে কলেজে যাসনি ।
আমিঃ না চাচা । আজকে কলেজে যাবো না ।
চাচাঃ খেয়ে এসেছিস ।
লজ্জা সরমের মাথা খেয়ে বলেই ফেলাম,,,,,,,
আমিঃ না । তোমার এখানে কিছু পাওয়া যাবে ।
চাচাঃ এখানে দুইটা বিস্কুট আছে খেয়ে কাজে লেগে যা ।
আমি দুইটা বিস্কুট খেয়ে কাজে লেগে পড়লাম । আজ মনটা খুশি খুশি লাগছে । কিছুটা টাকা বেশি পাবো । সারাদিন কাজ করে টাকা নিয়ে বাসায় এলাম । পরদিন সকালে বাসায় কিছু টাকা পাঠিয়ে দিলাম ।
সকালে আমি খেয়ে কিছুক্ষণ পড়ে কলেজে চলে আসলাম । আজকেও লেট করে আসছি । আজকে তো স্যার বলেই ফেললো,,,,,,,
স্যারঃ কি রে তোর কি নতুন শার্ট নেই । প্রত্যেক দিন একটা শার্টই পড়ে আসিছ ।
আমিঃ না স্যার । নতুন শার্ট কেনার টাকা কোথায় পাবো ।
স্যারঃ শার্ট কিনতে পারিস না তাহলে পড়তে আসিস কেন । কাজ করলেই তো পারিস । ফকির আসছে কলেজে । তোদের মতো ছেলেদের কলেজে পড়ার মানেই হয় না । ফকির কোথাকার ।
তোর জন্য অন্য স্টুডেন্টরাও ঠিক মতো আসতে চায় না
তারপর আমি কিছুই আর বললাম না । ক্লাসের একদম ব্যাক বেঞ্চে গিয়ে বসে পড়লাম । আসলে এসব অপমান আমার গায়ে আর লাগে না । পেটে ভাত না থাকলে মান সম্মান দিয়ে কি করবো ।
তারপর আমি চুপচাপ ক্লাস করে বাসায় চলে এলাম । আম্মারে এগুলো কিছুই বলি না ।
মনে মনে ভাবছি যদি এখন আব্বু বেঁচে থাকতো তাহলে আমার আর এতো অপমানিত হতে হতো না। আচ্ছা টাকা ভালো কাপড় দিয়েই কি বংশ পরিচয় পাওয়া যায় ।
এসব ভাবতে ভাবতে চোখ থেকে একফোঁটা পানি পড়ে গেল,,,,,,,,,,
""
""
""
চলবে,,,,,,,,,,,
To be continue,,,,,,,,,,,,,
ভালো লাগলে অবশ্যই বলবেন । তাহলে পরের পর্ব লিখবো । ধন্যবাদ ।
একটি ছেলের আত্মকথা
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
2.55K
Views
26
Likes
7
Comments
4.8
Rating