সূর্য পূর্ব দিগন্তে সোনালি রশ্মি ছড়িয়ে শহরের ওপর আধিক্য করছিল।
এটি ছিল এক নিস্তব্ধ সকালে, যখন শহরের কর্মব্যস্ততা এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে জেগে ওঠেনি। গ্রামাঞ্চলের শান্তির মতো শান্তি ছিল শহরের এ প্রান্তে। আকাশে মেঘের মেলা হলেও, বাতাসে ছিল এক নিরবতা, যা এই জায়গার চিরচেনা সঙ্গীত।
এরই মধ্যে, মেঘনা নামের এক তরুণী কলেজের উদ্দেশ্যে বের হচ্ছিল। তার চোখে ছিল অনন্ত স্বপ্নের আভা, আর হাতে ছিল একটি পুরানো বই। মেঘনা ছিল স্বপ্নময়ী, সৃজনশীল এবং সবসময় কিছু নতুন আবিষ্কারের আশায়। তার ব্যক্তিত্বের মধ্যে ছিল একরকমের স্নিগ্ধতা এবং গভীরতার মিশেল, যা সহজেই অন্যদের মন জিতে নিত।
কলেজের পথে যেতে যেতে, মেঘনা একটি পরিচিত কফি শপের সামনে দাঁড়াল। এখানে নিয়মিতভাবে কফি পান করার অভ্যাস ছিল তার। আজও সে কফি শপে ঢুকে একটি কাপ কফি অর্ডার করল। সজাগ চোখে, মেঘনা তার পাশের টেবিলে বসা এক তরুণের দিকে নজর দিল। তরুণটির নাম রাহুল। রাহুলের চোখে ছিল এক ধরনের অতৃপ্তি, আর তার মুখাবয়বে লুকানো ছিল এক ধরনের ম্লানতা।
রাহুল ছিল তার ক্যারিয়ারের প্রতি একাগ্র এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু তার জীবনে এমন কিছু ক্ষতি ছিল যা তাকে হতাশাগ্রস্ত করে রেখেছিল। রাহুলের দিনগুলো কাটত কাজের চাপ আর একাকীত্বে, আর সে অভ্যস্ত ছিল সেই একঘেয়েমি জীবনের সঙ্গেই।
কফি শপে তার প্রথম নজরেই কিছু একটা আলাদা অনুভূতি মেঘনার মনে হল। কিছু একটা ছিল, যা তাকে বারবার রাহুলের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। সে জানত না কেন, তবে রাহুলের দিকে তাকালে মনে হতো, সে কিছু একটা বুঝতে পারে। এমনকি যখন রাহুল তার কফি শেষ করে, তখন মেঘনার মনে হচ্ছিল, তার কিছু একটা করা উচিত।
অবশেষে, সাহসিকতা নিয়ে মেঘনা রাহুলের কাছে গিয়ে বলল, "আপনার সাথে কিছু কথা বলার মতো সুযোগ হবে কি?" রাহুল প্রথমে কিছুটা অবাক হলেও, তার চোখে কিছুটা কৌতূহল ফুটে উঠল। “কী কথা?” রাহুলের কণ্ঠে তার আগ্রহ মিশ্রিত ছিল।
মেঘনা হাসতে হাসতে বলল, “আমরা একে অপরকে জানার চেষ্টা করতে পারি, যেহেতু আমরা কফি শপে একসঙ্গে আছি।”

কোন মন্তব্য নেই